#১
বাজি
ঘন সবুজ অন্ধকারের ভেতরে
মিলিয়ে যাচ্ছে লোকটি।
দ্রুত পায়ে হাঁটতে হাঁটতে মাঝে মাঝে
চশমা খুলে দেখে নিচ্ছে
শরীরের গতি আলোর
কোন দিক থেকে কোন দিকে।
বারোয়ারী রাস্তার পাশে, একটু ঝুঁকে
খুচরো পয়সার মতো নিজের থুতনি
নিজের হাতেই নাড়িয়ে
দেখছে বেঁচে আছে কি না!
ঝুল বারান্দা থেকে নিয়ন আলো
এসে পড়ছে ফুটপাতে।
লোকটিকে একবার মনে হচ্ছে
ভিজে শহরের ভাঙা ডন।
একবার, অথর্ব মহাকাশচারী।
আর একবার, যুধিষ্ঠিরের মতো,
জুয়াড়ি ও ব্যাটসম্যান।
#২
খুকু
আপেল খাওয়ার সংগ্রামে ডুব দিয়ে দেখি,
প্রাণবন্ত মুণ্ডমালা দুলছে খুকুর গলায়।
কামড়ের ওপর কামড় বসিয়ে যেতে পারলে
অন্তত কল্পনায় একটা সিদ্ধপিঠ উঠে আসতে পারে। এই ধারণায়, লোভে ও কুয়াশায় খুকু একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকবে, অথবা ভৌতিক আয়নার সামনে খুলে ধরবে অঙ্কের খাতা
সুপক্ক ফলের গাছ থেকে পেরে নেবে টুসটুসে আপেল।
শুধু বৃষ্টি ভেজা মাছের বাজার থেকে ফিরে চুল খুলে আয়নার সামনে দাঁড়ালে খুকুকে আজকাল তরুমুজের মতো রাজনৈতিক দেখায়।
#৩
লোফার
ভারি মশারির মধ্যে অনর্থ নীল শহর।
ঘুমের পেছনে ভিখারির হাসি-ঠাট্টা,
চৌষট্টি কলা—
পর্দার পেছনে এইসব সবুজ সমীকরণ
যতোটা সামুদ্রিক দেখায়
তার চেয়েও বেশি, দাঁড়কাকটি প্রত্যাশা করেছে তার কামসঙ্গীটির।
ভাড়ি মশারির মধ্যে অনর্থ নীল তালগাছ,
ভীষণ দুলছে
কাম ও গমকে বাইকে স্টার্ট দিচ্ছে নীল শহরের আদিম লোফার।
এরপর অন্ধকারের পাছায় লাথি মারতে মারতে পুলিশের টর্চ এড়িয়ে
ও পৌঁছে যাবে দেবতার বিকল হাতে ছাগলের মুণ্ড তুলে দিতে, সাঁওতালের গ্রামে।
#৪
দৃশ্যটি এরকম—
ক্লাসে দাঁড়িয়ে তোমার কথা বলি;
কীভাবে শ্রেণীচ্যুত তোমার নধর আমি
স্পর্শ করেছিলাম
কীভাবে বন্দুকের নল থেকে শর্ষেফুলের মতো শহর—
সন্ধের ক্যাফেতে আগ্রহ বাড়ে।
দু’একটা মানচিত্র থেকে জল খাই,
পতিতার আঁচলে মুখ মুছি
অবাক গর্তের মতো শপিংমলে ঢুকে দেখি
খেয়াপারারের সময় কিভাবে জলের দিকে তাকিয়েছিলে তুমি।
ফুটপাতের ওপরের শহরে গজানো মন্দির
ফুটপাতের নিচের শহরে হাইকোর্ট,
আকাদেমি চত্বর আর ছাল ছাড়ানো শিশুকে
ভাত খাওয়ার আনন্দ,
অনেকটা ভোটের বাজারে
চুরি করে সন্দেশ খাওয়ার মতো।
আসলে দৃশ্যটি, এরকম—
আমার মুখের ওপর মাকড়সারা
সঙ্গম করছে, আর আমি পপকর্ন খেতে খেতে তোমাকে বোঝাচ্ছি বিসমিল্লার বাঁশি…
#৫
বৃহস্পতি
পর্ণমোচী প্রাণ, মোরগফুলরত
আমার গণেশ-দেহ শূন্য দিয়ে ভাঙুক
পাকস্থলী ঢাকা মরা ছাগের শিশু
মা মনসার গান— আষাঢ়ে ওঙ্কার!
কুম্ভিপাকে যাই— জবাই, কেচ্ছায়…
গাছের শালীনতা নিরোধ ঢেকে খাও
ব্রহ্ম-শিং তুলে মারো বৃহস্পতি
ঘুমের বড়ি লাগে বিরোধীপক্ষেও
মরা ছাগের শিশু ভাসলে সামগান
মুণ্ডমালা খুলে জীবনানন্দীয়
পোষাকে চমকায় এসব ন্যাড়াপোড়া
স্বর্গাদপি ছাঁচে প্রেমিকা বদলাই
লোহার প্যাণ্ট খুলে দেখছে ভগবতী,
লিঙ্গে শুয়ে আছে মরা বৃহস্পতি।