Email: info@kokshopoth.com
April 18, 2026
Kokshopoth

সব্যসাচী মজুমদার 

Apr 17, 2026

 কবিতা 

সব্যসাচী মজুমদার

#১

যুদ্ধ আসে 

 

যুদ্ধ আসে, সমস্ত শেষ যুদ্ধে তোমার আলো

একলা জ্বলে, তুমিই জ্বালো, তুমিই তাকে জানো…

 

ছায়ার ভেতর পুড়ছে কেবল সত্যি শিশুর লাশ 

ভুল করেছে মানুষ হয়ে, মানুষ তো সন্ত্রাস…

 

ভাঙতে থাকে ঋতুর গমক, ভাঙতে থাকে সাঁকো

যুদ্ধ এলে কেমন করে নিজের ছবি আঁকো ?

 

দেখছি তো এই চতুর্দিকে লাল হয়েছে গাঢ় 

যুদ্ধ হলে ওদের-আমার জন্ম বাড়ে আর‌ও …

 

তোমার কেবল রহস্য চাই, সমস্ত সংকট,

কাক জোছনায় জ্বলন্ত এক পল্লী নদীর স্রোত…

 

যুদ্ধ আসে প্রবাদ যেন, যুদ্ধ‌ই সম্ভোগ 

যুদ্ধ এলেই গান বেঁধেছে সব হারানো লোক …

 

 

 

#২

রোদের তলায়

 

রোদের তলায় কান্না হলে বুঝি

আকাশ ভরা মা ঘটেছে কারোর…

এবং তোমার অরুন্তুদ চিল 

ডাক দিলে খুব জল খেতে চায় আদর…

 

হাসছে পশু পাখির কলোনিরা।

শিকার তখন অন্ধকারে লাফ

দিয়েই খোঁজে সহজ মনঃপীড়া …

তুমিই একা এখানে সংলাপ…

 

বলছি — তুমি, নির্বাচিত দেহ…

চাঁদ দেখেছ, ছৌ দেখেছ কত!

তোমার যত সফল সন্দেহ 

হত্যাকারীর রাজনীতি সম্মত

 

 

 

 

#৩

সরল মাছ …

 

সরল মাছ, সরল কুঁড়ি ফোটে 

জলের দিকে ফলের গাছ নামে 

ছায়ার গায়ে এখনও বোদলেয়র

এসব কিছু ঘটেছে চেনা গ্রামে!

 

তুমিও চাও গাছের নীচে ঘর…

তুমিও চাও পরাগ ছোঁয়া মেঘ …

তুমিও চাও বৃষ্টি ঘন হোক …

তুমিও চাও কুয়াশা উদ্বেগ …

 

উদ্বেগের হরেক স্তোক, শোক।

পাথর থেকে ঝরে পড়েন জল 

অন্ধকার হওয়ার মুখে দেখ 

দাঁড়িয়ে আছে বিবিধ নির্জন 

 

তুমি যে কার চকিত নর্মদা !

অস্ত্র করে দেখছ মা’র দেহ 

তোমার কত সুরের ওঠাপড়া 

তোমার চোখে নতুন সন্দেহ…

 

শস্ত্রাঘাত করেছ যার জিভে 

তাকেই তুমি মন্ত্র বলে ভাব ?

তোমার বিস্ময়ের আশেপাশে 

উল্কা থাকে অথচ থাকে সাপও …

 

 

 

 

#৪

এই পৃথিবীর 

 

পৃথিবীর সমস্ত কোনা থেকে একের পর এক 

মারণাস্ত্র উড়ে যেতে শুরু করেছে।

হুলুস্থুল কাণ্ড।

প্রথমে উড়ছে ধাতব অংশ 

তারপর বারুদ-টারুদ, ইউরেনিয়াম ইত্যাদি …

শেষে প্যাটার্নটুকুও মিলিয়ে যাচ্ছে আকাশে। 

 

মাটির তলা থেকে, জলের তলা থেকে 

বেরিয়ে এসে ভয়ংকর সব মারণাস্ত্র 

মহাশূন্যে স্রেফ অদৃশ্য হচ্ছে।

উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানিরা 

সন্ত্রস্ত সন্ধানের পর জানতে পারলেন 

ভিনগ্রহের একটি বিরাট যান এসে 

স্থির হয়ে আছে 

আমাদের চোখের বাইরে…

 

তারাই নিয়ে যাচ্ছে আমাদের অস্ত্র নিচয় 

বিজ্ঞানীদল প্রশ্ন করলেন— 

কেন ?

শোনা গেল — 

কয়েক শো আলোকবর্ষ দূর থেকে 

এসছেন ওঁরা।

কিছুটা আগেই এসছেন। 

এতদিন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিলেন 

এই গ্রহকে।

 

অতঃপর বুঝতে পেরেছেন, 

এই গ্রহে যা আছে, 

আর‌ও বেশিই রয়েছে তাঁদের।

কেবল মারণাস্ত্রই নেই।

এই অদ্ভুত ক্ষমতা যদি 

নিয়ে যেতে পারেন নিজেদের গ্রহে—

জন সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হবে।

 

কাকুতি মিনতি কাজ দিল না। 

সমস্ত মারণাস্ত্র এমনকি 

অস্ত্রের স্মৃতি ও ধারণা 

সব নিয়ে গেল। 

বদলে কিছুটা বুদ্ধি দিয়ে গেল।

 

এর পরের পৃথিবীতে মারণাস্ত্র নেই আর। 

কিন্তু, ওই অতিরিক্ত বুদ্ধি দিয়ে 

দেখা গেল কিছু লোক 

চার পাঁচটা করে হাত গজিয়ে নিয়েছে 

এখন গলা টিপে কিংবা 

ঘাড় ভেঙে মেরে ফেলায় 

অনেক বেশি সুবিধা ও সঞ্চয় …

লেখাটির উপর আপনার অভিমত জানান।

Your email address will not be published. Required fields are marked *