১
অন্ন
মাটির ঘরে শূন্য হাঁড়ি নিয়ে
বসে আছি
গায়ে এখন আর হাওয়া লাগে
না আমার।
অন্নপূর্ণা ভাত বেড়ে বসে
থাকেন চিরকাল;
আমার হাঁড়ি শূন্য হয়ে বসে থাকে,
পিঁড়িতে মানুষফুল ফুটেছে,
তাকে একটু জল দাও।
মাতা আমার মুখচোরা, লাজুক দেবী,
রন্ধন বিনে অন্নে মতি নেই তার!
২
দেখা
জ্বলন্ত অগ্নির কাছে বসে
আছেন শোকগ্রস্তা দেবী,
সম্মুখে সন্তানের সৎকার চলছে;
নদীতে আজ জল নেই, জোয়ার নেই
মাধুকরীর দল বসে আছেন তীরে
নৌকো ভিড়ছে না,
দেবী পাংশুবর্ণা লোলজিহ্বা বের করে বসে আছেন সন্তানের মুখের দিকে;
পাশে শ্রীচৈতন্যঘাট, অস্থিধোয়া জল
কাষ্ঠ পুড়ছে আগামীর…
৩
বিগত
পুরোনো হয়ে যাওয়া ক্ষয়ে
যাওয়া বাড়ি টেনে নিয়ে যায়
অন্দরে,
ভেতরে পিলসুজ, ঝাড়বাতি
লণ্ঠন
সেকেলে ট্রাঙ্ক, তার ভেতর
হলুদবর্ণ হাতেলেখা চিঠি,
তুমি আমি কী অনায়াসেই
সেখানে থেকে গেছি বিগ্রহ হয়ে;
বাড়ির দেউলটিতে, আঙিনায় আর তুলসীমঞ্চে…
৪
স্বগতোক্তি
মাটির ঘরে পুরুষ এসেছেন,
বাঁশের খুঁটি সেও নুইয়ে পড়লো পায়ে;
পুরুষ আধার, তাকেও দেখলাম আজ পুকুরে
জলে ডোবা হাঁসটির মতো সাঁতরে চলেছেন অবিরাম।
আমি কাঙালিনী তার, জলচরের পালক কুড়োই
মাটির ঘর লেপে দিই সোনার কাঁকন দিয়ে;
পুরুষ বসেছেন আহারে, সামনে কাঁসার থালা বাটি মাংসল বিগ্রহ…
৫
প্রলাপ
দূরত্ব বেড়ে গেলো
মনে হয় নিজেকে নিয়ে উড়াল দিই;
নিজেকে নিয়ে ডুবে যাই অতলে,
তোমাকে বহুকাল ভালো করে দেখিনি!
সুর চওড়া হচ্ছে ক্রমশ,
কেউ কি কোথাও আলো
জ্বেলে ধরেছে?
চারপাশে বনজ ঘ্রাণ, থৈ থৈ জোছনা পথ,
আমি ধীরে ধীরে নিরালা পৃথিবীর আহার হয়ে উঠছি