#১
বারুদের ঘুম ও বোবা সাইকেল
কেউ তো বলেনি, আজ এমন হাওয়া দেবে!
যে হাওয়ায় মিশে থাকবে পোড়া কাঠের গন্ধ।
বারান্দায় বসে থাকা ওই উদাস মানুষটা-
খবরের কাগজে মুখ গুঁজে ছিলেন যিনি,
তাঁর চশমার কাঁচে হঠাৎ উড়ে আসবে
অচেনা শহরের ধুলো।
বিকেলটা তো অন্যরকমও হতে পারত!
হতে পারত না, ভালোবাসা?
তোমরা যাকে সীমান্ত বলো-
সে তো কয়েকটা জং-ধরা, খোঁড়া কাঁটাতার!
এপাশে-ওপাশে ছড়ানো আধখাওয়া রুটি
আর ঘুমন্ত বারুদ।
আজ সকালেই- হ্যাঁ, আজ সকালেই তো
যে ছেলেটা প্রেমিকার জন্য একটা লাল খাম কিনল,
তার বুকপকেটে এখন জমাট বেঁধেছে কালচে ছোপ।
এই যে রক্ত, এই যে চাপ-বাঁধা অন্ধকার,
এর কি কোনো দেশ হয় কিংবা মানচিত্র?
যুদ্ধ মানে শুধুই কি ইমারত ভেঙে পড়া?
যুদ্ধ মানে, একটা আস্ত রান্নাঘরের
নিভে-যাওয়া উনুন, একা।
যুদ্ধ মানে, সাইকেলের প্যাডেলে জমে ওঠা
এক আশ্চর্য, বোবা স্তব্ধতা।
যারা বয়ান সাজায়, তারা কি জানে-
তারা কি কোনোদিন জেনেছে,
কত বুকের ভেতর রোজ কতগুলো
অব্যক্ত গল্প খুন হয়?
কত হাজার নদ-নদীর নীলপদ্ম,
ফোঁটার আগেই ঝরে যায়?
#২
রেডিওতে মৃত শহরের গান
ধরো, কাল যদি আচমকা নিভে যাই-
বিনা যন্ত্রণায়, কোনো এক ঘুমন্ত বুলেটের ঠোঁটে;
তুমি শুধু মনে রেখো কার্ণিশে ঝুলে থাকা
আকাশ প্রদীপ,
আর শতদ্রু-বিপাশার স্রোতে ভাসানো
সাঁইত্রিশ মিনিটের ভালোবাসাবাসি-
যেখানে সময়ও জীবিত ছিল।
যুদ্ধ মানে তো স্রেফ মাংসপেশির থেমে যাওয়া নয়,
যুদ্ধ মানে একটা চেনা ছাদ,
একটা নিজস্ব ছায়ার খসে পড়া,
একটা নাম হঠাৎ করেই অচেনা হয়ে যাওয়া।
কাল হয়তো রেডিওর যান্ত্রিক গলা
চিবিয়ে খাবে আস্ত একটা শহর।
সংবাদপত্রের ভাঁজে চাপা পড়ে যাবে-
কিছু অসমাপ্ত আলিঙ্গন,
কিছু অব্যক্ত ‘থেকে যাও’।
অথচ কেউ টেরই পাবে না,
ওই বারুদ আর পোড়া ইটের পাঁজর ভেঙে
কী নিঃশব্দে আলো হয়ে গেল
আমাদের নরম মুহূর্তগুলো।
হয়তো রাত নামলে
কোনো পুরোনো তরঙ্গে ভেসে উঠবে-
আমাদের হাসির ভাঙা সংকেত,
কিংবা তোমার নাম ধরে ডাকা
একটা হারিয়ে যাওয়া শহরের শেষ সম্প্রচার।