Email: info@kokshopoth.com
April 20, 2026
Kokshopoth

সৈয়দ কওসর জামাল

Apr 17, 2026

 কবিতা

সৈয়দ কওসর জামাল

দেশপ্রেম

 

যাকিছু ঘটেছে ব্যতিক্রম

সব হত্যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা

সুশাসন আকাশে ধরে না

অভিযোগ তাই মানব না

 

কথার উত্তর দিতে নেই

বেয়াড়া প্রশ্নের অর্থ হল

হিংসা আর রক্তের ইঙ্গিত

না হলে কাহিনিটাই জোলো

 

যুদ্ধের সময় বোবা কালা

মানুষেরও শত্রু তৈরি হয়

সাবধানে চোখ খোলা রেখো

দেশপ্রেম জমে এসময়

 

মনে রেখো ইমার্জেন্সি দেশে

কথা বলা এখন বারণ

মিছে কেন বাড়াবে দুর্ভোগ

কান পেতে রেখেছে শাসন

 

ঐক্যে বাঁচে দেশ, দ্বেষহীন

ঘৃণার নীতির মুখে ছাই

তুমি শুধু বিরুদ্ধ বোলো না

ভালোবাসা আমরা ওড়াই

 

সুশাসনে শাসন থাকে না?

এত ক্ষোভ কেন রাখো মুখে

তোমাকে সুনাগরিক ভেবে

রাখিনি এখনও কারাসুখে

 

ধর্মশাস্ত্র

 

যুদ্ধক্ষেত্র অনেক দূরেই

তবু আসে হল্কা আগুনের

কয়েক জাহাজ তেল দিলে

কী ক্ষতি হত সে যুদ্ধের

 

দূর থেকে হাততালি দেওয়া

খুব কি উচিত কাজ হত

এত যে মরছে মানুষ আর

ভয়ে ভয়ে অন্যে আতঙ্কিত

 

আমরা যুদ্ধের মধ্যে নেই

আমাদের উত্তেজনা ভোট

খোঁচা শুধু তেল আর গ্যাস

কার সঙ্গে আমাদের জোট?

 

এ কথাও বলে দিতে হবে?

পৃথিবীতে একটিই নাম

তিনি আমাদের দীক্ষাগুরু

যত জপি তত বিধি বাম

 

ব্যালিস্টিক মিসাইল চেনো?

চেনো নাকি থাড ক্ষেপণাস্ত্র?

আমরা অহিংসা শান্তিপথ

চিনি ধ্যান আর ধর্মশাস্ত্র

 

যুদ্ধকথা দুঃখকথা

 

যুদ্ধ শুধু অস্ত্রকথা নয়

গোপন দুঃখের মতো তার

আছে কিছু নিজস্ব আড়াল

বাকিটুকু প্রবল আঁধার

 

আঁধার ফুঁড়েই আলো আসে

সে আলো মৃত্যুর, ক্ষণিকের

প্রশ্রয় পায় না দুঃখ কোনও

ড্রোন অথবা গ্রহের ফের

 

কিংবা কোনও রাষ্ট্রের হুঙ্কার

সব নাকি নিয়তিলিখন

কার দোষে মানুষ একাকী

শোকে সমর্পিত এ জীবন

 

সবকিছু কলহজনিত

সবটা যুদ্ধের অভিঘাত

এমন ধারণা সরলতা

যুদ্ধ শেষ হবে অকস্মাৎ

 

তবু পরাজয় যাবে থেকে

যতদিন না অন্য সে জয়

মানুষকে জাগায় গৌরবে

খাদের পাশেও নেই ভয়

 

দুঃখ কোনও গানের মতন

পাহাড়তলির পথে ঘোরে

তার কোনও বিবাদ ছিল না

একা তার প্রাণপাখি ওড়ে

21 Comments

  • চমৎকার । মেরুদণ্ড ওয়ালা ।
    এবং চিরকালের ।
    খুশি।

    • অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ভীষণ ভালো 💐।

      • তিনটি ভিন্ন ধারার কবিতা। পাঠমুগ্ধ!

      • খুব প্রাসঙ্গিক লেখা। প্রতিটি কবিতাই ভালো লাগলো।

      • খুব ভালো লেখা

    • শেষের চার লাইন অন্তরর্স্পশী ! ভালো লাগল

      • বলিষ্ঠ কলমে অসাধারণ সময়ের কথা।

  • খুব ভালো লাগল তিনটি কবিতাই। যেন সময়ের দর্পণ এই লেখাগুলি, বাস্তব, চিরন্তন সত্য।

  • অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
    ভীষণ ভীষণ ভালো।

  • অসম্ভব শাণিত লেখনী।

    • সৈয়দ কওসর জামালের এই তিনটি কবিতার গুচ্ছে এক গভীর রাজনৈতিক সচেতনতা, শাণিত শ্লেষ এবং মানবিক দর্শনের প্রতিফলন ঘটেছে। কবি এখানে কেবল শব্দবিন্যাস করেননি, বরং সমসাময়িক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, বিশ্বরাজনীতি এবং যুদ্ধের অসারতাকে ব্যবচ্ছেদ করেছেন।
      ​প্রথম কবিতায় কবি দেখিয়েছেন কীভাবে ‘দেশপ্রেম’-এর দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করা হয়। কবির জীবনবোধ এখানে অত্যন্ত বাস্তববাদী ও প্রতিবাদী:
      ​ভয়ের শাসন: কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, শাসকের চোখে যেকোনো ভিন্নমতই ‘হিংসার ইঙ্গিত’। যখন সুশাসনের নামে মানুষের কথা বলা বারণ হয়ে যায়, তখন তথাকথিত দেশপ্রেম আসলে একটি নিছক প্রলেপ মাত্র।
      ​সুনাগরিকের সংজ্ঞা: “তোমাকে সুনাগরিক ভেবে / রাখিনি এখনও কারাসুখে”—এই পংক্তির মাধ্যমে কবি রাষ্ট্রীয় শ্লেষকে তুলে ধরেছেন। অর্থাৎ, বর্তমান ব্যবস্থায় মুখ বুজে থাকাই হলো সুনাগরিকের লক্ষণ, নতুবা কারাবাস নিশ্চিত।
      ​দ্বিতীয় কবিতায় কবির দৃষ্টি প্রসারিত হয়েছে বৈশ্বিক সংঘাতের দিকে। এখানে তার জীবনবোধে ফুটে উঠেছে আধুনিক বিশ্বের সুবিধাবাদী চরিত্র:
      ​সুবিধাবাদ: কবি দেখিয়েছেন কীভাবে আমরা যুদ্ধের বীভৎসতাকে পাশ কাটিয়ে তেল, গ্যাস আর ভোটের সমীকরণে ব্যস্ত থাকি।
      ​অহিংসার মুখোশ: একদিকে ব্যালিস্টিক মিসাইল আর অন্যদিকে ‘অহিংসা’ বা ‘ধর্মশাস্ত্রের’ বুলি—এই যে স্ববিরোধী অবস্থান, কবি একেই আধুনিক সভ্যতার আসল রূপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার কাছে ধর্ম বা আধ্যাত্মিকতা এখন যুদ্ধের অস্ত্রের কাছে অসহায়।
      ​তৃতীয় কবিতাটি কবির সবচেয়ে গভীর জীবনদর্শনের পরিচয় দেয়। এখানে যুদ্ধ কেবল দেশ দখলের লড়াই নয়, বরং মানুষের একাকিত্ব ও অস্তিত্বের সংকট:
      ​নিয়তি বনাম রাষ্ট্র: কবি প্রশ্ন তুলেছেন, মানুষের এই যে শোক আর একাকিত্ব, এটা কি কেবলই ‘নিয়তি’ নাকি কোনো রাষ্ট্রের হুঙ্কারের ফল?
      ​আসল জয়: কবির মতে, যুদ্ধ হঠাৎ শেষ হলেও পরাজয়ের গ্লানি থেকে যায়। প্রকৃত জয় সেটাই যা মানুষকে ‘গৌরবে’ জাগিয়ে তোলে।
      ​দুঃখের গান: যুদ্ধের ডামাডোলে ব্যক্তিগত দুঃখগুলো হারিয়ে যায় না, বরং সেগুলো পাহাড়তলির গানের মতো একা উড়ে বেড়ায়। কবি এখানে যুদ্ধের যান্ত্রিকতার বিপরীতে মানবিক সংবেদনশীলতাকে স্থান দিয়েছেন।
      ​সৈয়দ কওসর জামালের জীবনবোধ এই কবিতায় অত্যন্ত নির্ভীক ও সংবেদনশীল। তিনি বিশ্বাস করেন যে, রাষ্ট্রীয় ভয় আর যুদ্ধের দামামা মানুষের মৌলিক অধিকার ও ব্যক্তিগত দুঃখকে আড়াল করতে পারে না। তার কাছে জীবন মানে কেবল টিকে থাকা নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং ধ্বংসের মাঝেও মানবিক গৌরবকে খুঁজে পাওয়া।

  • সব নাকি নিয়তি লিখন— কী চমৎকার ফুটিয়ে তুললেন আমাদের যুদ্ধ সন্ত্রস্ত জীবনের কথা। যুদ্ধের কোনো শেষ নেই। রোজকার ব্যাপার হয়ে আমাদের পাশে বসে আছে। — চমৎকার ধারালো কবিতাগুলি দাদা।

    • জামালের কবিতাগুলি পড়তে পড়তে মনে পড়ল মৃনাল সেন-এর ইন্টারভিউ,কলকাতা ৭১ ,পদাতিক চলচ্চিত্রের ট্রিলজি পরিচালক সমসাময়িক ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিলেন ,প্রতিবাদের শেষ সীমায় পৌঁছতে চেয়েছিলেন।জামালের কবিতায় সেই প্রতিবাদের ভাষা পেলাম। বোধহয় এর শেষ দেখতে চেয়েছেন।

  • বলিষ্ঠ কলমে সময়ের কথা। অসাধারণ।

  • দুটি কবিতাই অসাধারণ।

    • সময়ের কবিতা। জরুরি পাঠ।

  • খুব ধারাল কবিতা। সময়োপযোগি ও প্রাসঙ্গিক।

  • তিনটি কবিতা একেবারেই অন্যরকম। সময়ের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • সময়োপযোগী কবিতা তিনটে। তীক্ষ্ণমুখ। ভাল লাগল।

  • মুগ্ধ!

  • তিনটে কবিতাই ভালো লাগল। সংবেদনশীলতা ছত্রে ছত্রে, যেটা অনেক মানুষ হারিয়ে ফেলছেন।

Leave a Reply to Anonymous Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *