সাম্য রাইয়ান-এর জার্নালঃ পৃথিবী ও তার ক্লান্ত নাবিকেরা
নিয়মিত কলম
সাম্য রাইয়ান-এর জার্নালঃ পৃথিবী ও তার ক্লান্ত নাবিকেরা
পর্ব# ১৪
সাম্য রাইয়ানের জন্ম বাঙলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায়। ২০০৬ থেকে সম্পাদনা করছেন শিল্প-সাহিত্যের অন্যতর লিটল ম্যাগাজিন ‘বিন্দু। কবিতা, প্রবন্ধ ছাড়াও তিনি লিখেছেন নতুন ধরনের আখ্যানধর্মী গদ্য৷
সাম্য রাইয়ানকে নিয়ে ভারতের সাহিত্য পত্রিকা ‘তারারা’ বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ‘মনমানচিত্র’, ভারতের ‘এবং পত্রিকা’ তাকে নিয়ে বিশেষ একক সংখ্যা ও বাংলাদেশের প্রখ্যাত লিটল ম্যাগাজিন ‘নিসর্গ’ বিশেষ মূল্যায়ন (ক্রোড়পত্র) প্রকাশ করেছে৷ ভারতের নব্বই দশকের কবি সুবীর সরকার সাম্য রাইয়ান প্রসঙ্গে ‘সাম্যপুরাণ’ শিরোনামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
প্রকাশিত গ্রন্থ: সুবিমল মিশ্র প্রসঙ্গে কতিপয় নোট [গদ্য, ২০১৪]; বিগত রাইফেলের প্রতি সমবেদনা [কবিতা, ২০১৫]; মার্কস যদি জানতেন [কবিতা, ২০১৮]; হলুদ পাহাড় [কবিতা, ২০১৯]; চোখের ভেতরে হামিং বার্ড [কবিতা, ২০২০]; লোকাল ট্রেনের জার্নাল [গদ্য, ২০২১]; লিখিত রাত্রি [কবিতা, ২০২২] ও হালকা রোদের দুপুর [কবিতা, ২০২৩]; জলের অপেরা [কবিতা, ২০২৪]; সকল প্রশংসা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের [উপন্যাস, ২০২৫]৷ সম্পাদিত গ্রন্থ: উৎপলকুমার বসু [নির্বাচিত রচনা ও পর্যালোচনা, ২০২২]; জন্মশতবর্ষে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ [পর্যালোচনামূলক প্রবন্ধ সংকলন, ২০২৩]; শম্ভু রক্ষিত: পাঠ ও বিবেচনা [নির্বাচিত রচনা ও পর্যালোচনা, ২০২৫]।
সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন এবং কালচারাল ফ্যাসিজম
রাষ্ট্রের অর্থনীতি, প্রশাসন কিংবা আইন যেমন একটি সমাজের বাহ্যিক কাঠামো নির্মাণ করে, সংস্কৃতি তেমনি নির্মাণ করে তার অভ্যন্তরীণ কল্পনা। মানুষ কীভাবে পৃথিবীকে দেখে, নিজের অস্তিত্বকে কীভাবে ব্যাখ্যা করে, ভালো-মন্দের ধারণা কীভাবে তৈরি করে, অতীতকে কীভাবে স্মরণ করে এবং ভবিষ্যৎকে কীভাবে কল্পনা করে, তার সঙ্গে সংস্কৃতির প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে সংস্কৃতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার অর্থ দাঁড়ায় মানুষের কল্পনার ওপরই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করার ঘটনাকে আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন ও সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু কেন অনুষ্ঠানটি বন্ধ করতে হবে, কে সিদ্ধান্ত নেবে তা চলবে কি না, কোন যুক্তিতে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হবে, রাষ্ট্র সেই সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়াবে কি না, সমাজ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে কি না, এসব প্রশ্নই রাষ্ট্রের চরিত্র সম্পর্কে ধারণা দেয়।
১
ফ্যাসিবাদকে আমরা সাধারণত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, একনায়কতন্ত্র, রাজনৈতিক দমন কিংবা উগ্র জাতীয়তাবাদের সঙ্গেই যুক্ত করলেও তার আরও সূক্ষ্ম একটি মাত্রা আছে। সেটি হলো মানুষের চিন্তা, রুচি, কল্পনা ও জীবনযাপনের ওপর একটি নির্দিষ্ট আদর্শিক কাঠামোর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। এই জায়গা থেকেই ‘কালচারাল ফ্যাসিজম’ বা সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কালচারাল ফ্যাসিজম বলতে শুধু এমন কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বোঝায় না যেখানে সরকার ‘শিল্পকলা’ নিষিদ্ধ করে। এমন একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রবণতাকেও বোঝায়, যেখানে সংস্কৃতির বহুত্বকে অস্বীকার করে একটি নির্দিষ্ট নৈতিকতা, রুচি, জীবনধারা বা পরিচয়কে সমাজের একমাত্র বৈধ মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়। ফলশ্রুতিতে শিল্পের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
কোনো গান ভালো না লাগা সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার অংশ। কিন্তু গানটি চলতে দেওয়া যাবে না বলা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার। কোনো নাটকের বক্তব্যের বিরোধিতা করা গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু নাটক মঞ্চস্থ হতে দেওয়া যাবে না বলা গণতান্ত্রিক অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করে।
সমালোচনা আর নিষেধের মধ্যকার এই সীমারেখা মুছে গেলে সাংস্কৃতিক পরিসরে স্বাধীনতার বদলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা শুরু হয়।
২
বাঙলাদেশের সংস্কৃতির ইতিহাস নিজেই বহুত্বের সাক্ষ্য দেয়। এই ভূখণ্ডের সংস্কৃতি একক কোনো উৎস থেকে তৈরি হয়নি। নদী, কৃষি, গ্রাম, নগর, বাণিজ্য, ধর্ম, লোকবিশ্বাস, সুফি ঐতিহ্য, বৈষ্ণব সংস্কৃতি, বৌদ্ধ উত্তরাধিকার, ঔপনিবেশিক আধুনিকতা, ভাষার সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাস মিলিয়ে বাঙালির সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে।
এখানে মসজিদের আজান যেমন বাস্তবতার অংশ, তেমনি বাউলের একতারা। এখানে মসজিদ-মন্দির যেমন আছে, মাজারও আছে। এখানে হামদ-নাত যেমন আছে, তেমনি ভাটিয়ালি, জারি, সারি, মারফতি, মুর্শিদি, কীর্তন, পালাগান, কবিগানও আছে। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের পাশাপাশি লালনও আছেন। আধুনিক কবিতার পাশাপাশি লোককবিতাও আছে। শহুরে ব্যান্ডের পাশাপাশি গ্রামের পালাগানও আছে। এই বহুত্বকে বাদ দিয়ে বাঙলাদেশকে বোঝা অসম্ভব।
অতএব বাঙলাদেশের সংস্কৃতিকে একটি মাত্র ধর্মীয়, নৈতিক বা রাজনৈতিক ছাঁচে ঢেলে দেওয়ার চেষ্টা শুধু শিল্পের বিরুদ্ধে নয়। এটি ইতিহাসেরও বিরুদ্ধাচরণ।
কারণ সংস্কৃতি তৈরি হয় মানুষের জীবন থেকে। মানুষের শ্রম, প্রেম, মৃত্যু, উৎসব, বিশ্বাস, অবিশ্বাস, ভয়, আকাঙ্ক্ষা, বিদ্রোহ ও স্মৃতি থেকে। সংস্কৃতি তাই স্বভাবতই বহুস্বরিক। যে ক্ষমতা এই বহুস্বরিকতাকে ভয় পায়, সে সংস্কৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।
৩
এখানে ধর্মের প্রশ্নটি খুব সতর্কভাবে দেখতে হবে। বাঙলাদেশে ধর্ম মানুষের সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনের গভীরে উপস্থিত। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে সংস্কৃতির স্বাধীনতা রক্ষা করা সম্ভব নয়। বরং ধর্মবিশ্বাসী মানুষের অনুভূতি ও অধিকারকে স্বীকার করেই সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রশ্নটি তুলতে হবে।
কিন্তু ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান আর ধর্মের নামে সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণ এক বিষয় নয়।
একজন মানুষ গান শুনবেন কি না, এটি তাঁর স্বাধীনতার অংশ। একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিবে কী না, এটিও তাদের অধিকার। কিন্তু সেই অনুষ্ঠান অন্য কেউ করতে পারবে না, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের নেই। এটিই গণতন্ত্রের মৌলিক সীমারেখা।
সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন ব্যক্তিগত বিশ্বাস সামাজিক জবরদস্তিতে রূপ নেয়। আরও বড় সমস্যা তখন তৈরি হয়, যখন রাষ্ট্র সেই জবরদস্তির সামনে নিরপেক্ষ থাকে অথবা পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকেই আটকে দেয়।
সাম্প্রতিক বাঙলাদেশের ঘটনাগুলোতে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি এখানেই। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে আপত্তি ও বাধার পুনরাবৃত্তি একটি এমন পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে আয়োজকরা অনুষ্ঠান করার আগে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন, কোথাও কেউ আপত্তি করবে কি না।
৪
ফুকোর ভাষায় ক্ষমতা শুধু রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কাজ করে না। ক্ষমতা মানুষের আচরণকে এমনভাবে সংগঠিত করে যে মানুষ অনেক সময় নিজেই নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে শুরু করে।
সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এর প্রভাব ভয়াবহ। একজন কবি ভাবলেন, এই কবিতাটি লেখা যাবে না। একজন গায়ক ভাবলেন, এই গানটি না গাওয়াই ভালো। একইভাবে চলচ্চিত্রকার ভাবলেন, এই দৃশ্যটি রাখলে সমস্যা হতে পারে। প্রকাশক ভাবলেন, বইটি প্রকাশ না করাই নিরাপদ। আয়োজক ভাবলেন, অনুষ্ঠানটি অন্য কোথাও করা যাক।
সম্ভাব্য আক্রমণের ভয় তাদের থামিয়ে দিল। এই আত্মনিয়ন্ত্রণই সাংস্কৃতিক দমনের সবচেয়ে কার্যকর রূপগুলোর একটি। কারণ তখন আর সেন্সরশিপের জন্য সেন্সর প্রয়োজন হয় না। সমাজ নিজেই নিজের ওপর সেন্সর বসিয়ে নেয়।
৫
এখানে ‘মব’ বা জনতার ক্ষমতার প্রশ্নও আসে। গণতন্ত্রে জনমত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জনতা এবং মব এক জিনিশ নয়।
জনমত যুক্তি, বিতর্ক, সংগঠন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়। মব তার বিপরীতে তাৎক্ষণিক সংখ্যাগত শক্তিকে বৈধতার উৎস হিসেবে ব্যবহার করে।
মবের কর্মপদ্ধতি হলো, তারা সংগঠিত, তাই তারা ঠিক।
কিন্তু গণতন্ত্র এটাই যে, আপনি সংগঠিত বা সংখ্যাগুরু হলেও আপনার অধিকার অন্যের অধিকার বাতিল করতে পারে না।
এই পার্থক্যটি সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ধরা যাক, একটি অনুষ্ঠানে দশ হাজার মানুষ যেতে চাইলেন আর এক হাজার মানুষ আপত্তি করলেন। গণতান্ত্রিক সমাধান হলো, আপত্তিকারীরা তাদের বক্তব্য প্রকাশ করবেন এবং অন্যরা অনুষ্ঠান করবেন। কিন্তু যদি এক হাজার মানুষ দশ হাজার মানুষের সাংস্কৃতিক অধিকার বাতিল করে দিতে পারেন, তাহলে সেখানে আর গণতন্ত্র থাকে না।
থাকে কেবল জবরদস্তি। রাষ্ট্রের দায়িত্ব এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্র যদি বলে, সংঘর্ষ এড়াতে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হলো, তাহলে আপাতদৃষ্টিতে সে শান্তি প্রতিষ্ঠা করছে। কিন্তু বাস্তবে সে একটি ভয়ংকর দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।
কারণ তখন মব বুঝে যায়, চাপ সৃষ্টি করলে রাষ্ট্র পিছু হটে। পরবর্তীবার চাপ আরও বাড়ে। তারপর আরও একটি অনুষ্ঠান। তারপর আরেকটি। একসময় রাষ্ট্রের আইন নয়, সম্ভাব্য মবের প্রতিক্রিয়াই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। এটাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক বাঁক।
৬
কিন্তু সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসনকে শুধু ধর্মীয় রক্ষণশীলতার সমস্যা হিসেবে দেখাও ভুল হবে। কারণ সংস্কৃতির ওপর আরও অনেক ধরনের আগ্রাসন আছে। রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন আছে। দলীয় আগ্রাসন আছে। বাজারের আগ্রাসন আছে। করপোরেট আগ্রাসন আছে। ডিজিটাল অ্যালগরিদমের আগ্রাসন আছে।
রাষ্ট্র যখন শিল্পকে প্রচারণার যন্ত্রে পরিণত করে, তখন সেটিও সংস্কৃতির স্বাধীনতা নষ্ট করে। রাজনৈতিক দল যখন রাজনৈতিক আনুগত্য দিয়ে শিল্পীর মূল্যায়ন করে, তখনও সংস্কৃতির স্বাধীনতা সংকুচিত হয়। বাজার যখন শিল্পের সাফল্যকে শুধু বিক্রির পরিমাণ দিয়ে বিচার করে, তখন শিল্প পণ্যে পরিণত হয়। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যখন মানুষের মনোযোগকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উত্তেজনায় ভাগ করে ফেলে, তখন চিন্তার গভীরতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আদর্নো ও হর্কহাইমারের ‘culture industry’ ধারণা এখানে নতুন করে ভাবা যায়। সংস্কৃতি যখন পণ্য উৎপাদনের যুক্তির অধীন হয়, তখন শিল্পের বৈচিত্র্যও ধীরে ধীরে বাজারের প্রয়োজনের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
অর্থাৎ একদিকে আছে নিষেধের সংস্কৃতি, অন্যদিকে ভোগের সংস্কৃতি। একদিকে বলা হচ্ছে, এটা করা যাবে না। অন্যদিকে বলা হচ্ছে, এটা বিক্রি হবে না। দুই ক্ষেত্রেই শিল্পীর স্বাধীনতা সংকুচিত হয়।
৭
বাঙলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো এমন একটি সামাজিক চুক্তি তৈরি করা, যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের অধিকার থাকবে এবং অবিশ্বাসের অধিকারও থাকবে। মসজিদের আজান থাকবে, বাউলের গানও থাকবে। ওয়াজ মাহফিল থাকবে, নাট্যমঞ্চও থাকবে। ধর্মীয় উৎসব থাকবে, লোকজ উৎসবও থাকবে।
এই সহাবস্থানই সভ্যতার লক্ষণ।
সংস্কৃতির স্বাধীনতার অর্থ সবাই একই কথা বলবে এমন নয়। বরং সবাই ভিন্ন কথা বলতে পারবে। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ঐকমত্যে নয়, ভিন্নমতের সহাবস্থানে। সুতরাং বাঙলাদেশের সাংস্কৃতিক ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রশ্নটি আইন, রাষ্ট্র এবং সমাজের সম্পর্কের প্রশ্ন। রাষ্ট্র কি মবের ভয়কে আইন প্রয়োগের বিকল্প হতে দেবে? সমাজ কি ভিন্ন রুচিকে সহ্য করতে শিখবে? শিল্পী কি ভয় ছাড়া কাজ করতে পারবেন? ধর্মীয় মানুষ কি নিজের বিশ্বাসের পাশাপাশি অন্যের স্বাধীনতাকেও স্বীকার করবেন? রাজনৈতিক শক্তিগুলো কি সংস্কৃতিকে নিজেদের মতাদর্শের প্রচারণা থেকে মুক্ত রাখবে? বাজার কি শিল্পের একমাত্র বিচারক হয়ে উঠবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরেই নির্ধারিত হবে আমাদের সাংস্কৃতিক ভবিষ্যৎ।