Email: editors.kokshopoth@gmail.com
August 23, 2026
Kokshopoth

গুচ্ছ কবিতা- সব্যসাচী রায়

Aug 21, 2026

গুচ্ছ কবিতা- সব্যসাচী রায়

সব্যসাচী রায় একজন একাডেমিক লেখক, কবি, শিল্পী এবং আলোকচিত্রী। তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে বাংলা ও ইংরেজি—দু’ভাষাতেই। উল্লেখযোগ্য পত্রিকা ও সাময়িকী যেখানে তাঁর কবিতা ছাপা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে কবিতাপাক্ষিক, টারমিনাস, ঋতবাক, Stand, Poetry Salzburg Review, The Potomac প্রভৃতি। গদ্যচর্চার ক্ষেত্রে: তাঁর ছোটগল্প প্রকাশিত হয়েছে After the Storm, Inglenook Lit ইত্যাদি আন্তর্জাতিক পত্রিকায়।
সব্যসাচী নিয়মিতভাবে রচনা-শিল্পবিষয়ক প্রবন্ধ লেখেন Authors Publish–এ এবং পরিচালনা করেন একটি সক্রিয় সাবস্ট্যাক, যেখানে ১৩০-র বেশি সদস্য যুক্ত আছেন। তাঁর প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে আরও নানা পত্রিকায়—Tint Journal, The Suburban Review, Defenestration ইত্যাদিতে।
ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রেও তাঁর কাজের পরিচিতি রয়েছে—Sanctuary Asia–এর প্রচ্ছদে ছাপা হয়েছে তাঁর ছবি। সাম্প্রতিক কালে বন্যপ্রাণীর আলোকচিত্র ছেড়ে তিনি বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন বিমূর্ত ও শিল্প-ফটোগ্রাফিতে। এ-ধরনের কাজ প্রকাশিত হয়েছে The Sunlight Press, Ink In Thirds Magazine–এর মতো পত্রিকায়।
তাঁর তেলরঙের ছবি প্রকাশিত হয়েছে The Hooghly Review, Ink In Thirds Magazine, Pink Disco ইত্যাদি সাময়িকীতে।

ঝিলের ভেতর

 

আমরা শুয়ে ছিলাম একটা ঝিলের পাশে—

একটা বোঝাপড়া অন্ধকারের সঙ্গে।

 

ঘুম নয়, তবু চোখ বন্ধ ছিল আমাদের—

মশার শব্দে শতছিদ্র রাত।

তুমি বললে “গায়িকা।“

আমি বললাম, “ক্ষুধার উৎস।“

 

ঝিলটা কিছু লুকোয় না—

শুধু কখনো সখনো উঠে আসে একজন নারী—

ভেজা চুল, গায়ে হেঁটে বেড়ানো আলো।

যেমন মোমের ভিতর আটকে থাকা কণ্ঠস্বর।

 

আমি কণ্ঠস্বর চিনি না।

তবু চোখ সরাতে পারি না।

তুমি পাশ ফিরে শুলে,

আমি তার জলে মুখ ডুবিয়ে নিই।

 

 

 

হিসেবের খাতা

 

ঠাকুমা হিসেব করতেন সবকিছুর—

সাবান, চিনির দানা, এমনকি ভাঙা বাল্বের আলোও।

প্রতি রবিবার মানে ক্যালেন্ডার, হিসেব—

যোগ-বিয়োগ। কে বেঁচে আছে, কে নেই।

 

গলির ভেতরে মার্বেল ছোঁড়ার শব্দ। যেন পৃথিবী,

জয় আর পরাজয়ের রেখা কখনো স্পষ্ট করেনি।

 

ডায়েরি ভর্তি অঙ্ক, সংখ্যা। ঠাণ্ডা। নড়াচড়া নেই।

লাশের মতো দাঁড় করানো।

শেষ পাতায় শুধু লটারির টিকিট।

সৌভাগ্য নয়—কেবল আশা,

যেন একদিন খেলার নিয়মগুলো পাল্টাবে।

 

 

আজকে হিরোশিমা দিবস

 

ইয়ামাগুচি এখনো আলোর ঘায়ে ঘুমিয়ে থাকে।

একটা ফ্ল্যাশ হিরোশিমা,

আরেকটা তার হাড়ের ভেতর পোড়া স্মৃতি।

 

অফিসে চা গরম থাকে—

কিন্তু তার কানে কেবল জমে ছাই।

মেরুদণ্ড—দুটো শহরের মানচিত্র।

শিরায় শিরায় দগদগে রাস্তা।

 

বসকে বুঝিয়ে বলছিল বিস্ফোরণের গল্প—

ঠিক তখনই আবার এসে পড়ল আলো, পুরনো আগুন।

 

ইয়ামাগুচি লিখে গেল সব সহজ ভাষায়,

নামের বদলে রেখে দিল মানুষের ভেলা—

কারণ শব্দ দিয়ে

মৃতদের ঠেলে তোলা যায় না।

 

এক গবেষক ছেলে পড়ে সেই বই,

ভুল লাইনে টেনে দেয় দাগ।

ভাবছে—এটা আশার কবিতা।

কেউ শেখায় না- দু’দুটো ধ্বংস

কাঁধে নেওয়া যায় কেমন করে।

 

যুদ্ধশেষের চিঠিপত্র

 

প্রিয়,

এই চিঠিটা হয়তো পৌঁছবে একটা পলিথিন ব্যাগে,

কিংবা ভুল রাস্তার পায়রা ঠোঁটে।

লেখা শুরু করেছিলাম একটা প্লাস্টিকের দ্বীপ থেকে,

একটা চিঠি পাঠালাম ভেঙে পড়া সিঁড়ি থেকে।

আরেকটা ভেজা জানলা থেকে।

 

চিঠিগুলো ছোট হতে থাকল।

কম শব্দ। কম কবিতা।

বেশি সত্যি।

 

এখন শুধু লোকেশন শেয়ার করছি,

আর সেই বাক্যটা—

যেটা আমার গলা পার করেছিল

শেষবারের মতন।

 

 

বর্ডার দেবতা

 

কাস্টমসে জিজ্ঞেস করল—

এখানে তোমার ঠাঁই আছে? না লিখেছিলাম,

তবু কালির গন্ধ গিয়ে পড়ল পাশের ঘরে।

কাচের ওপারে লোকটার মুখ আমার মামার মতো,

রবিবারের হারের পর দুটো সস্তা পেগ।

 

লোকটা—চোখে ক্যারম খেলার বৃত্ত,

পকেটে হাইকমিশনের বিষাক্ত আঙুল।

পাসপোর্টে এমনভাবে ছাপ মারল— যেন আমি দোষী।

 

বর্ডার পেরিয়ে মা এখন মাইক্রোওয়েভে ভাত গরম করছে,

সঙ্গে উঁচু গলায় জিজ্ঞেস—

“ওরা কি গন্ধ শোঁকে? ইলিশের?

মেঘনার চিংড়ি শুকনো হলে কি ধরা পড়ে স্ক্যানারে?”

 

না মা, ওরা গন্ধে ধরে না। ওরা ধরবে—

তোমার মেয়ের উচ্চারণ

আর শরীরের ভিতর ভুল জমির স্মৃতি।

 

“স্টাডি পারপাস, শিগগির ফিরে যাব,” বলেছিলাম।

কিন্তু হাড়ের ভিতর ফিসফিস করে উঠল—

বর্ডার দেবতা চুপচাপ খায়,

তবে দাঁত খুব লম্বা।

লেখাটির উপর আপনার অভিমত জানান।

Your email address will not be published. Required fields are marked *