আধুনিক হাঙ্গারীয় গল্পঃ পেতের দোবাই
আধুনিক হাঙ্গেরিয়ান গল্পঃ পেতের দোবাই (১৯৪৪-২০২৫)
অনুবাদেঃ অনিন্দ্য ঘোষ
পেতের দোবাই ছিলেন হাঙ্গারীয় সাহিত্য সংস্কৃতির এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। একাধারে কবি, ঔপোন্যাসিক, চলচ্চিত্রকার। হাঙ্গারীয় avant-garde তে তাঁর অবদান অপরিসীম। হাঙ্গারীয় সাহিত্য ও চলচ্চিত্র একটি পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে অইতাহাসিক ভাবে গড়ে উঠেছে। ইস্তভান জাবোর বিশ্ব বন্দিত ছবি মেফিস্টোর চিত্রনাট্যকার উনিই। এবং তার জন্যে অস্কার প্রাপ্তি। যেমন বেলা তার ও ২০২৬ এর সাহিত্যে নোবেল প্রাপক লাজলো ক্রাসনাহোরকাই এর সহ-সৃষ্টি যেমন ইতিহাস হয়ে রয়েছে। হাঙ্গারীয় সাহিত্য সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্যে তাঁকে সর্বোচ্চ কোসুথ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। এবং আর্টিস্ট অফ দ্য নেশন উপাধিও প্রদত্ত হয়েছে।
অনূদিত গল্পটি তাঁর একটি শ্রেষ্ঠতম গল্প বলে বিবেচিত হয়। যেমন দ্য বোন মিলারস (১৯৭৪) উপন্যাসটি তাঁর এক শ্রেষ্ঠ লেখা।
“লেখালিখির অভিজ্ঞতা খুবই বন্ধুর — নির্দিষ্ট কিছু লিটল ম্যাগাজিন ছাড়া বিশেষ কেউ পাত্তা দেয়নি যদিও তাতে কিছু আসেও না, যায়ও না। বাংলা সাহিত্যের বিগ হাউজে যাঁরা সাম্প্রতিক গদ্য-সাহিত্য লিখছেন, তাঁদের লেখালিখির মান নিয়ে মোটের ওপর হতাশ। এখনো আশাবাদী যে, যেসব লেখকের (অনর্থক লিঙ্গায়ন অপচ্ছন্দের) উচ্চাকাঙ্ক্ষা বেশী নয়, তাঁদের হাত দিয়েই বাংলা গদ্য-সাহিত্যের শাপমুক্তি হবে।
সোমবার এবং রান্নাঘর(Hétfő és konyhá)
কাকভোর। কারখানার ক্যান্টিন সবে খুলেছে। হররোজ ধোওয়া টাইলস বাঁধানো দেওয়াল। বিশাল বিশাল বাসন-কোসন, রাশি রাশি কাঁচা খাবারদাবার একজায়গায় জড়ো করা, নানা ধরনের থলে ভির্তি জিনিস, পিপে বোঝাই স্যোয়েরক্রাউট[i], গাজর আর আলুর পাহাড় জমে আছে। দুটো মেয়ে স্টোভ ধরাতে ব্যস্ত। ‘আবার একটা সোমবার।’ এক মাঝ-বয়সী মহিলা, স্টোভ ধরানোর জন্য উবু হয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া মেয়েদুটোর উদ্দেশ্যে বলে ওঠে। রান্নাঘরের এককোণে জল ভরা বালতিটাকে সে নামায়, তারপর হাঁটু মুড়ে ঘর মুছতে বসে। নর্দমার চারকোণা ঢাকনাটা তুলে তার লোহা-বাঁধানো ধার মুছতে থাকে। ‘কি ছুঁচিবাই দেখ’ মেয়েদুটোর একজন অন্যজনের উদ্দেশ্যে ফিসফিসোয়, যাতে মহিলা শুনতে না পায়। ‘সোয়েটারটা কিনলি?’ ‘ধুস, পুরোনো মাল।’ ‘নিকুচি করেছে’। আরো মহিলারা আসতে শুরু করেছে। চেল্লামেল্লিতে ভরে যাচ্ছে ক্যান্টিনটা। দেরীতে আসা রান্নার জোগাড়ে মেয়েটা হঠাতই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ভাঁড়ার ঘর ভিড়ে ভিড়াক্কার। সাদা, ঢিলে কাজের পোশাক পরে নিয়ে তারা জলদি করে অ্যাপ্রন গলিয়ে নেয়। জল চড়িয়ে দেয় গরম করার জন্য, হিসেব করে কেটে রাখা আনাজপাতি, মাংসের কিমা ফেলে দেয় জলের মধ্যে, বড় হাতার কাঠের চামচ দিয়ে স্যুপটাকে নাড়াতে থাকে, মাঝমধ্যেই ঘাঁটতে থাকা স্যুপ থেকে সামান্য তুলে নিয়ে স্বাদ পরখ করতে চেখে দেখে — হাজার হাজার লোকের জন্য দুপুরের খাবার তৈরী হচ্ছে। ‘তোর বয়ফ্রেন্ডের খবর কি?’ ‘কোন্টা বল তো?’ ‘ওই যে, যেটাকে লাঞ্চরুমে ঝাড়ি মারছিলি।’ ‘ওহ, ও। তেমন কিছু না।’ ‘কেন, ওর সাথে বেরোস নি কোনোদিন?’ ‘হ্যাঁ, তা গিয়েছি।’ ‘আর?’ ‘কী আর? কিস্যু না।’ ‘খোকাকে গতকাল দেখা যায় নি। আর ভাল কথা, জানিস, যে ছোকরাটা আমায় বরফের গোল্লা ছুঁড়ে মেরেছিল, ওর জন্য আমি বেশ খানিকক্ষণ অপেক্ষা করছিলুম ও’দিকটায়, তারপর তো বাড়ি চলে গেলুম, বাড়িতে গিয়েও ভাবছিলুম, যদি আসে, সময়টা কাটবে অন্ততঃ। কিন্তু এল না। যখন ও’দিকটায় দাঁড়িয়েছিলুম, দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে, একসময় জিভটা বের করে দিয়েছিলুম, অমন করেই ছিলুম। তারপর ভাবলুম, যদি এভাবেই জিভটা বের করে রেখে দিই তাহলে কী হয়! পুরো রাস্তা হাঁটলুম জিভ বের করে। বাড়ি ফিরে টিভি দেখছিলুম, এমনকি ওই টিভি দেখার সময়ও জিভটা বের করে রেখেছিলুম! আসলে মালটার জন্য অপেক্ষা করছিলুম। মাঝরাত অব্দি জিভটা বের করে থাকতে থাকতে একটা সময় মনে হল জিভটা যেন জমে বরফ হয়ে গেছে। শক্ত, শুকনো, যেন এক্কেবারে কনকনে ঠান্ডা ডুমুর। পুরো মুখটাই কেমন যেন বদলে গেছে।’ একজন লম্বা-চওড়া মহিলা জিভ দিয়ে টাকরায় আওয়াজ তুলে মেয়েটাকে ডাকে। ‘হ্যাঁ, বলুন।’ ‘টুলটা।’ মেয়েটা ভাঁড়ারঘরে যায়, একটা টুল হাতে করে রান্নাঘরে ফিরে আসে। তারপর সে ওই মহিলার সামনে বসে তার গামবুটের ফিতে খুলে দিতে শুরু করে। সে মহিলার আধখোলা ঢিলেঢালা পোশাকের নীচে হাত ঢুকিয়ে তার উরু পর্যন্ত পৌঁছায়, গার্টার খোলে। তারপর তার মোজা দুটো খুলে নিয়ে নিজের কোলে রাখে। রাঁধুনির মোটা ফর্সা হাঁটু আর মেথুসার[ii] মতো মাংসল উরু তার তেলচিটে, রক্তের দাগ লেগে থাকা পোশাকের সঙ্গে তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করে। ‘বাহ্, কানের দুলটা তো বেশ। দেখি, দেখি।’ মেয়েটাকে বলে সে। মেয়েটা জবাবে, দুলজোড়া খুলে তার হাতে দিলে পর সে নিজের কানে লাগায়। আয়নায় একঝলক নিজেকে দেখে নিয়ে, সে, দুলজোড়া খুলে মেয়েটাকে ফেরত দেয়। মেয়েটা ধোয়ার একটা গামলা মহিলার পায়ের কাছে রাখলে মহিলা গামলার মধ্যে পা দুটোকে সটান চুবিয়ে দেয়। মেয়েটা তার পায়ের পাতাদুটোকে ছড়িয়ে দেয়, আলতো করে ঘষতে থাকে পা দুটোকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে; তারপর খোঁপা করে বেঁধে রাখা চুল খুলে দেয়। মেয়েটা মহিলার পা জোড়াকে গামলা থেকে সরিয়ে আনে, তোয়ালে দিয়ে মুছিয়ে দেয়। ‘পাউডার দিয়ে দেব?’ ‘ফুলে গেছে, না?’ ‘ভাল তো মনে হচ্ছে না।’ ‘সারাজীবন তো এই পা দুটোর ওপর দাঁড়িয়েই কেটে গেল। কই, তোমার পা দেখাও দেখি।’ সে মেয়েটার পা দুটোকে নিয়ে নিজের কোলের ওপর রাখে, তার ক্যানভাসের জুতো খোলে, তারপর তার পায়ের নখের নেলপালিশটাকে দেখতে থাকে। ‘তোমার কাছে এখন কোনো নেলপালিশ আছে?’ ‘হুম, আছে তো।’ বলে ভাঁড়ারঘরে ঢুকে যায়, নেলপালিশ নিয়ে ফিরে আসে। তার বসের চ্যাটালো, মোটা পায়ের নখ থেকে রঙ তোলে, তারপর নতুন নেলপালিশের কোট লাগায়। রক্ত-লাল নেলপালিশ যতক্ষণে টেনে যায় মহিলা পা দুটোকে নাড়াচাড়া করে যেতে থাকে, পায়ের আঙুলগুলোকে একবার খোলে, তো পরক্ষণেই মুড়ে ফেলে, পায়ের পাতাদুটোকে ওপর-নীচ করতেই থাকে। মহিলার সামনে রাখা টুলে গিয়ে বসে মেয়েটা, স্যুপের ফুটন্ত জলের গামলার দিকে তাকিয়ে থাকে। একজন মজুর ঢোকে। তার হাতে মোটা অ্যাসবেস্টের গ্লাভস, চোখে গগল্স। ঢুকেই সে রোদ চশমাটা কপালে তুলে দেয়। মেয়েরা তার চারদিক ঘিরে সিগারেট খায়, খানিক আড্ডাও মেরে নেয় তার সঙ্গে। সাইরেন বেজে উঠলে লোকটা রান্নাঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়। রাঁধুনি তার স্টকিং পরে নিয়ে গামবুটের মধ্যে পা গলায়। যখন সে আবার তার চুল টেনে খোঁপা করে চুড়ো করে, মেয়েরা তার গামবুটের ফিতে বেঁধে দেয়। লাঞ্চটাইম। বড় বড় হাতায় করে তারা খাবারের খাবলা তোলে, কাউন্টারের ভিতর দিয়ে তারা পুরো ক্যান্টিনটাকেই দেখতে পায়, দেখেও; – নানান কাজের জায়গা থেকে মজুররা এসেছে, দুপুরের খাবার সারছে। সবার খাওয়া হয়ে গেলে মেয়েগুলো এঁটো থালাগুলোকে গুড়িয়ে আনে, ধুতে থাকে। টেবলের ওপর চেয়ারগুলোকে বসিয়ে দেয়, ক্যান্টিনের মেঝে মুছে নিতে থাকে। রান্নাঘরটাকেও সাফ করে নেয়। তারপর চেয়ারগুলোকে সরিয়ে দেয়, মেঝেতে ওপর ওপর করে সাজিয়ে রাখে, টেবলের ওপর পরিষ্কার কাচ পাতে, বড় বড় গ্লাসগুলোতে জল ভরে দেয়। কাজকম্মের পর্ব চুকলে তারা স্নান করে নেয়, ভেজা তোয়ালে ছাড়ে, নিজেদের নিজেদের জামাকাপড় পরে নেয়। মেয়েরা রাঁধুনিকে বিদায় জানানোর সময় সে বলে ‘আমার চুল উঠছে খুব।’ আর তারপর সে তার হলহলে গামবুট গলিয়ে সাইডকার সমেত পাথর দিয়ে বাঁধানো উঁচু ঢালাই রাস্তা দিয়ে হাঁটতে থাকে। সাড়ে সাতশো সিসির আদ্যিকালের একটা মোটর সাইকেল এসে থামে রান্নাঘরের সামনে। ঢালাইকরের বাইক, কুঁড়া ফেলার পিপের মাপের দুটো পাত্র বসান আছে সাইডকারে। দুটো মেয়ে এঁটো-কাঁটা যা ছিল, সব দিয়ে ড্রাম দুটোকে ভরে দিতে থাকে। ‘বাচ্চা কবে নাগাদ হবে কিছু জানিয়েছে?’ একটা মেয়ে জানতে চায়। ‘জানুয়ারির শেষাশেষি বা ওইরকম। তেমনই তো বলল ডাক্তার।’ লোকটা জবাব দেয়। ‘সিগারেট হবে একখানা?’ মেয়েটা ড্রামের মধ্যে শেষবারের জন্য জঞ্জাল ফেলে ড্রামটাকে ঝাঁকিয়ে দিয়ে জিজ্ঞাসা করে। ‘যদি মনে কর ঝেলতে পারবে, তাহলে তোমায় একটা চুরুট দিতে পারি।’ দাঁত কেলিয়ে লোকটা বলে। মেয়েটা হাত বাড়িয়ে শান্তভাবেই চুরুটটা নেয়, ঢালাইকর তার দিকে আগুন বাড়িয়ে দেয়, তারপর যখন মেয়েটা চুরুট টানতে গিয়ে শ্বাস আটকে কাশতে থাকে, তখন সে তার কাছ থেকে জ্বলন্ত চুরুটটা নিয়ে নিজেই ফুঁকতে থাকে। কিছুক্ষণ পর কিকস্টার্টে লাথি মারে। ‘শুয়োরটাকে কবে জবাই করবে?’ মেয়েটা শুধোয়। ‘ক্রিসমাসের দিন’ জবাবে, লোকটা বলে। ‘আমাকে একটা লিফট দেওয়া যাবে?’ মেয়েগুলোর মধ্যে থেকে একজন জিজ্ঞাসা করে। ‘আরে, এটা কোনো কথা হল! আমি তোমায় হেলমেটটা দিয়ে দেব, যাতে পুলিশ রাস্তায় তোমায় হ্যাটা না করে।’ ‘তুমি চুরুটটা টেনে শেষ করতে চাইলে ধোঁয়াগুলো কিন্তু সব আমার মুখে এসে লাগবে।’ লোকটা চুরুটের আগুনটা ঝেড়ে ফেলে নেভানো চুরুটটাকে বাক্সে চালান করে দেয়। ‘খুব ভাল হয় যদি তুমি হাঁসগুলোকে খাবার দিয়ে দিতে, আমার বউ ডাক্তারের কাছে গেছে। আর আমার এসব হাঁস-ফাঁসদের খাওয়াতে বেজায় বিরক্তি লাগে। তো, দেবে? মিনিট খানেক তো লাগবে তোমার। সে সময়টুকু হবে কি?’ সে মেয়েটার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে জিজ্ঞাসা করে। ‘ব্যাপারটা কী বল দেখি, বাইকে চড়ান’র ভাড়া চাইছ?’ ‘একদমই না। আসলে হাঁসগুলোকে কেউ খেতে দেওয়ার নেই, তাই ভাবলাম, তুমি যদি করে দাও।’ ‘শুধু এইটুকু করে দিলেই যদি তুমি খুশী হও, তাহলে, তোমার জন্য হাঁসেদের খাইয়ে দেব বৈকি।’ ‘তাহলে তার পরে আমি তোমায় শহরের দিকে নিয়ে যাব।’ ‘হোস্টেল অব্দিই নিয়ে যেও, সেটাই অনেক।’ মোটর সাইকেল রাস্তায় জমা বরফ কাটতে কাটতে, রাস্তায় পিচের ঢিপিগুলো কাটিয়ে কাটিয়ে চলে যায়। অন্য মেয়েরা পাথর দিয়ে বাঁধানো উঁচু ঢালাই রাস্তা দিয়ে হাঁটতে থাকে। দল থেকে একজন বেরিয়ে গিয়ে বরফ বোঝাই রাস্তা দিয়ে যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি হেঁটে যায় ডকের দিকে। লেভেল ক্রসিংটা সে একটানে পেরিয়ে যেতে চেয়েছিল, কিন্তু তাকে থামতে হয়েছে কারণ ট্রেন আসছে। যেন মনে হয়, শেষ নেই তার, এমনই এক বরফে ঢাকা মালগাড়ি। কিছু ওয়াগন ঠান্ডায় জমে যাওয়া তেরপোলে ঢাকা, কিছু কামরা এমনই ফাঁকা যে ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ হচ্ছে, তাদের স্লাইডিং দরজাগুলো এতটাই ফাঁকা যে ওপার দেখা যায় তার ভিতর দিয়ে। দুটো ছাদ ঢাকা ওয়াগনের পর একটা ন্যাড়া ওয়াগন, তার না আছে ছাদ, না দেওয়াল, আর তার ওপর টেনে, জড়িয়ে বেঁধে রাখা একটা নৌকো। গরমের মরশুমের একটা ধ্যাড়ধ্যাড়ে জিনিস, যার হালটা, যখন এটা শেষবার জলে ছিল, সেই সময়ের বাতাসের টান যেদিকে ছিল, সেদিকেই ফেরানো, এখনও! নিউজরিলের মতো ট্রেনটার পার হওয়া শেষ হলে তার পিছনে দপদপ করতে থাকা লাল আলোটাকে দেখা যায়। মেয়েটা তাড়াতাড়ি চলতে থাকে। বেশ কিছুটা পথ পেরিয়ে সে একটা বাড়ির ভিতর ঢুকে পড়ে, চটপটিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠে যায়, একটা দরজায় নক করে। একটা থপথপে মাঝবয়সী লোক দরজাটা খুলে দিলে দেখা যায় তার থলথলে ধড়ের ওপর একটা ধারালো মুখ। সে মেয়েটার দিকে চেয়ে হাসে, তার কাঁধে হাত রেখে একটা ঘরের মধ্যে দিয়ে তাকে হেঁশেলে নিয়ে যায়। মেয়েটা তার কোট খোলে, টেবলের ওপর বসে। লোকটা একটা প্লেটে করে মেয়েটাকে মাছভাজা দেয়, নিজের জন্য খানিকটা ওয়াইন নেয়। নিজের মাছভাজাটা খেয়ে নিয়েই মেয়েটা তার ওয়াইনটাও সাবাড় করে ফেলে। তারপর ঘরের কোণে রাখা সোফার গদিতে সে বিছানা পাতে। লোকটা তখনো ওয়াইন খেয়ে যাচ্ছিল, এবার সে খাপ খুলে একটা মাউথ অর্গ্যান বের করে আর তারপর, কয়েকটা ধুন বাজায়। এসব করতে করতেই সে নজর রেখেছিল মেয়েটার দিকে; মেয়েটা তখন পোশাক খুলছে। সে আলো বন্ধ করে বিছানার দিকে এগোয়। তার মধ্যেই মেয়েটার নজর পড়েছিল সোফার পাশে সাইড টেবলে রাখা খবরের কাগজে মোড়া একটা চ্যাপ্টা মত জিনিসের দিকে।
‘এটা কী?’ সে জিজ্ঞাসা করে।
‘এটা একটা ছবি।’ লোকটা জানায়।
‘কীসের ছবি?’
‘এটা একটা ধর্মীয় ছবি। এটা ইউক্রেনের একটা মাঝির কাছ থেকে বন্দরে কিনেছি। এটা নকলি মাল হতেই পারে, কিন্তু এর মধ্যেই আমি এটার একজন খদ্দের পেয়ে গিয়েছি। কাল সে আসবে।’
মেয়েটা খবরের কাগজের মোড়ক খুলে ফেলে। তারপর সে ছবিটা নিয়ে অনেকক্ষণ ধরে দেখতে থাকে। সেপিয়া টোনের সাবেক যীশুখ্রীষ্টের ছবি, একহারা চেহারার, তবে শক্তিশালী আর মুখটা ভীষণ কাটা কাটা। একটা সময় সে ছবিটাকে নামিয়ে রাখে এবং বিছানায় সেঁধিয়ে যায়। লোকটাও মাউথ অর্গ্যানটাকে খাপে ঢুকিয়ে যেখানে সেটা ছিল, সেখানে রেখে দেয়। লোকটাও জামাকাপড় খুলে বিছানায় সেঁধিয়ে যায়।
‘এটার জন্য তুমি কত পাবে?’
‘ছবিটার জন্য? দু হাজার।’
‘আমার কাছে অত হবে না।’ সামান্য থেমে মেয়েটা বলে। তারপর তারা সেক্স করে। সেসবের পর, তার পাশেই লোকটা একসময় ঘুমিয়ে গেলে মেয়েটা উঠে পড়ে, সতর্কভাবে ছবিটা হাতে তুলে নেয়, হাতুড়ি আর পেরেকের জন্য এদিক-ওদিক তাকায়। দুটো ঘা মেরে ছবিটা দেওয়ালে টাঙিয়ে দিয়ে সে বিছানায় ফিরে আসে। সকাল হলে লোকটা ঘুম থেকে ওঠে। পায়খানায় যায়। বেরিয়ে হাত-পা ধুয়ে জামাকাপড় পরে ফেলে। তখনো ভোরের আলো ফোটেনি। সে একটা টাই চড়িয়ে নেয়। কয়েক মুহূর্তের জন্য দেওয়ালে পড়া নিজের ভুঁড়ি আর বেঢপ কোমরের ছায়া দেখে সে। পেটটাকে একটু ভিতরে টেনে নেয়, বুকটা সামান্য ফুলিয়ে নেয়। এরপর সে প্যান্ট পরে, গ্যালিস লাগিয়ে নেয়, জুতোর ফিতে বেঁধে ফেলে। চুলটাও ঠিকঠাক করে নেয়। তারপর সে আবার বাথরুমে ঢোকে, সেখানে হাওয়ার আসা-যাওয়ার সরু জানলাটা খোলা ছিল। সে কোথাও থেকে ভেসে আসা রেডিওর শব্দ শুনতে পায়— “…ধর্মঘট শুরু হয়েছে…” কিন্তু সেটা টয়লেট-ফ্লাশিংয়ের শব্দে চাপা পড়ে যায়। লোকটা ঘরে ফিরে আসে, রেডি হয়ে যায়। ছবিটা দেওয়ালে টাঙান রয়েছে দেখে, তারপর তখনো ঘুমিয়ে থাকা মেয়েটাকে দেখে। অতঃপর ছবিটাকে নামিয়ে, বাসী খবরের কাগজ দিয়ে সেটাকে মুড়ে ফেলে, দড়ি দিয়ে সাবধানে বেঁধে নিয়ে ব্রিককেসে চালান করে দেয়। এরপর সে টেবলের ওপর বসে। বসে খুবই সতর্কভাবে টাকা গোণে। দুবার গোণে। টাকাগুলোকে মানিব্যাগে ঢুকিয়ে নেয়, ওভারকোটটা চড়িয়ে নেয় এবং বেরিয়ে যায়। তার দরজা ভেজানোর শব্দে মেয়েটার ঘুম ভাঙে। কম্বলটাকে ঝটকা মেরে সরিয়ে সে হাই তোলে, আলিস্যি ভাঙে। উঠে বসে সে একটা রাবারব্যান্ড দিয়ে চুলটাকে টেনে বাঁধে। ছবিটা যেখানে টাঙান ছিল দেওয়ালের সেই জায়গাটা দেখে। বিছানা থেকে নেমে বেসিনের কাছে যায়, হাত-মুখ ধোয়, ঘাড়ে জল দেয়, তোয়ালে দিয়ে মোছে। জামাকাপড় পরে নিয়ে সে জানলা খোলে। বালিশ চাপড়ে ফাঁপিয়ে নিয়ে জানলার নীচের তাকে রেখে দেয়। ঝাড়া হাত পা হয়ে সে পাঁউরুটির কয়েকটা স্লাইস কেটে নেয়, ক্যান থেকে শুয়োরের চর্বি বের করে মাখায় সেগুলোতে, চুপচাপ খেয়ে নিতে থাকে। খাওয়া শেষ হলে বেসিনের ট্যাপ খুলে জল খায়। তারপর জানলার নীচের তাক থেকে বালিশটা নামায়, বিছানা তৈরী করে। করে নিয়ে সে আবারো তাকায় দেওয়ালের দিকে যেখানে আয়ত চোখের, দাড়িওয়ালা মানুষটার ছবি কিছুক্ষণ আগেও ছিল। মেয়েটা কোটটা পরে নেয়, সাবধানে দরজা ভেজায়, চাবিটা দরজার তলা দিয়ে গলিয়ে দেয় কার্পেটের তলায়। দরজার ঠিক মত বন্ধ হয়েছে কিনা খুঁটিয়ে দেখে নেয়। সিঁড়ি দিয়ে নামে, রাস্তায় পা রাখে। কুয়াশা লেপা, আবছা শহরটা তখন ঘুম থেকে উঠে আড়মোড়া ভাঙছে। ভোরের গাড়িঘোড়া নদীর ওপর লাট খেতে থাকা কুয়াশার সাথে লটকালটকি করছে। নীচুতে থাকা কুয়াশার সর সরে সরে যাচ্ছে, ইতস্তত ছড়ান বাড়িগুলোর সামনের ঘাসে জড়ো হচ্ছে, ছিটকে যাচ্ছে। মেয়েটা একটা বরফঢাকা লিঙ্ক রোড পার হয়, আর মোটরওয়ের[iii] যে লেনটা কারখানার দিকে চলে গেছে, সেখানে পৌঁছান মাত্র ট্রেনের সিগনাল পড়ে যায়। গতকালের ট্রেনটার থেকেও, যখন সে এই একই পথ ধরে গতকাল লোকটার বাড়ি গিয়েছিল, এই ট্রেনটা আরো ঢিমেতালে যাচ্ছে। মেয়েটা ভাল করে খুঁটিয়ে দেখলে বোঝে সেই একই মালগাড়ি, যার কোথাও বরফের টিকলি, কোথাও বা ঝুরো বরফ। ছাদ ঢাকা ওয়াগন, ন্যাড়া ওয়াগন, কচ্চিৎ ক্যাটা ওয়াগন[iv] আর ট্রেনটার মাঝমধ্যিখানে সেই একই ঠেস দিয়ে রাখা আর দড়ি দিয়ে বাঁধা নৌকাটা। কুয়াশা যেন সিমেন্টের মতো চলন্ত ট্রেনটার সঙ্গে বেঁধে বেঁধে থাকে। একজন মহিলাকে বলতে শোনা যায় ‘এই যে’। বাকীটা ট্রেনের শব্দে চাপা পড়ে যায়। তারপর আবার ‘আমি এইদিকে’। ‘ওখানে গেলে কি করে?’ ট্রেনটা কুয়াশায় মিলিয়ে যায়। মেয়েটা রেললাইন পার হয়। অন্ধকারে ঢাকা প্রায় একরকম দেখতে বাড়িগুলো এখনো দূরে। কারখানার জমি বরাবর ইতিউতি ছড়িয়ে আছে সেগুলো। ভাঙা গির্জার পাশে মেয়েটা দাঁড়িয়ে থাকে। সামনের রাস্তা ফাঁকা, যদি একটা ট্রাক-ফ্রাক আসে, তো উঠে পড়তে পারলে তার সুবিধে হয়। এলাকাটা যে খুব ঠান্ডা তা নয়, পাখির দল ছুটে যাচ্ছে, ঝাঁকে ঝাঁকে কিংবা ছোট ছোট ঝাঁকে, গির্জার ছাদের ভাঙা ফাঁক দিয়ে ঢুকে চক্কর কাটছে। মাঝেমাঝে থামে, মাস্তুলের মতো দাঁড়িয়ে থাকা পিলারগুলোর মাথায় এসে বসছে। একটা টাওয়ার, যার মাথার দিকে গর্ত, অনেকটা গুলি ঢুকে গেলে যেমন হয়; পঁচিশ বছর আগে নীরব হয়ে যাওয়া ঘন্টা; উলটে পড়া লোহার ফ্রেমের কঙ্কাল; রোদে-জলে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া দেওয়াল-ছবি; ভাঙাচোরা হাতের কাজ; দরজার ফ্রেম, গুমটি, খিলানের মত জানলা; মেঝের গজিয়ে ওঠা ঘাস, ছড়িয়ে পড়া আগাছা; উপড়ে যাওয়া, ফাট ধরা পাথর, কিছু কাটা পাথর নেই; কিছু ইঁট নেই; দেওয়ালের ফাঁকফোকরে সময় জমে আছে। চার্চের হাঁ-মুখ দিয়ে আকাশ দেখা যায়, এখন বরফে ঢেকে গেছে। ভাঙা খিলানগুলোর গায়ে নরম ঘাসের স্তুপ জমে গেছে। কোনোটা প্লাই দিয়ে, কোনোটা ইঁট দিয়ে বুজিয়ে দেওয়া সাইড-ডোর, আধভাঙা জানলা, তাদের খোপকাটা কাঁচগুলোর কোথাও কোথাও ঝুলকালি পড়ে গেছে। মেয়েটা আবারো হাইওয়ের দিকে ছুটে যায়, আর সেখানে কোনো আলোকে আসতে না দেখলে সরু বরফিলী রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকে। পথটার দুপাশে চুড়চুড়ে হয়ে বরফ জমেছে। সে জলদি পা চালায়, তবে সতর্ক থাকে যাতে পিছলে না যায়। কিছুটা হাঁটার পর কয়েক কদম দূরে সে দেখে একটা বড় কালো পাখি। মেয়েটা থেমে যায়, পা ঠুকতে থাকে, লাথি দিয়ে ধেড়ে উখসটার[v] গা’য় বরফ ছেটাতে থাকে। উখসটাও মেয়েটাকে দেখতে থাকে, নিশ্চল। যখন মেয়েটা এক পা এগোল, উখসটা গা ঝাড়া দিল, ফলে তার পালকগুলো অগোছালো হয়ে গেল, তার ডানাজোড়া খুলে গেলে দেখা গেল সেটা পথের ধার অবধি চলে গেছে। একটা আক্রমণ শানাতেই তৈরী বলে মনে হচ্ছিল তাকে, কিন্তু মেয়েটা এই দূর থেকেও বোঝে, পাখিটার চোট আছে, উড়তে পারছে না। মেয়েটা পাখিটার কাছে এগিয়ে আসে, লাথি মেরে, গুঁড়োবরফ, বরফের ডেলা ছেটায়, পাখিটাকে তাড়ান’র চেষ্টা করে, কিন্তু পাখিটা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকে। পাখিটা নড়েচড়ে, কিন্তু উড়তে পারে না, তার নখ রাস্তার বরফে আঁচড়াতে থাকে। মেয়েটা হাত-মুখ আড়াল করে, ভয় পায়, কেননা, পাখিটা উড়তে গেলেই তার ডানার ঝাপ্টা খাওয়ার খুবই সম্ভাবনা আছে; অতঃপর সে তার ব্যাগে করে খানিকটা গুঁড়োবরফের খাবলা তুলে এনে পাখিটার দিকে ছুঁড়ে মারে। পাখিটার ঈষৎ কেঁপে যায় কিন্তু একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে। গুঁড়োবরফে তার মাথা, ডানা ঢেকে যায়, পাখিটা ঝটকা মেরে ডানাজোড়া থেকে গুঁড়োবরফ ফেলে দেয়। আচমকা মেয়েটা পাখিটাকে তার ব্যাগের বাড়ি সজোরে এক ঘা কষায়। পাখিটা পা মচকে নুয়ে পড়েও সামলে নিয়ে এক জায়গায় খাড়া দাঁড়িয়ে থাকে। দুটো, তিনটে, চারটে ব্যাগের বাড়ী খাওয়ার পর পাখিটা টলমল করতে থাকে, ওড়বারই চেষ্টা করে, আর আবার মেয়েটারই দিকে ফেরে। মেয়েটা গুটিসুটি মেরে যায়। শেষমেশ, যখন কিনা তার ব্যাগ খুলে হাঁ হয়ে আছে, পাখিটা পড়ে আছে নিস্পন্দ, একটা সময় পোঁতা হয়ে গেছে বরফের মধ্যে। মেয়েটা এসবের ওপর লহমা কয়েক দাঁড়িয়ে থাকে, দম নেয়, ব্যাগ বন্ধ করে, ওভারকোটটাকে সোজা করে, আর তারপর, কারখানার ক্যান্টিনের দিকে এগিয়ে যায়। মোটা ক্যাম্বিস কাপড়ে ঢাকা সাইডকার সমেত ঢালাইকরের মোটর সাইকেলটা দাঁড়িয়ে আছে কারখানার হেঁশেলের সামনে। তার হেডলাইটের হাই বীম জ্বলছে, রসুইঘরের সিমেন্ট বাঁধানো দেওয়ালের নীচ বরাবর কাঁটাতার অবধি সে আলোর উতরোলে বিধ্বস্ত। ‘আলোটা নেভাবে কি? নাকি, আমায় অন্ধ করে দেওয়ার ধান্দায় আছ?’ পাকশালার দরজার চাবি খোঁজার ফাঁকে, লোকটার দিকে ঘুরে তাকিয়ে মেয়েটা চীৎকার করে বলে ওঠে। লোকটা বাইকের হেডলাইট বন্ধ করে, তারপর মেয়েটাকে উদ্দেশ্যে বলে ওঠে ‘তুমি তো অন্ধকারে চাবির ফুটোই খুঁজে পাবে না।’ ‘অত ভেব না, ও জানে কীভাবে চাবি খুলতে হয়।’ বলে ওঠে আর একজন ঢালাইকর। শ্রমিকরা অক্সিজেন এবং গ্যাসের কন্টেইনারগুলো কারখানার উঠোনে ঘোরাতে ঘোরাতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ‘ওদিকে, ওদিকে।’ ফ্যোরম্যান বলে ওঠে। কেজো, গরমের জ্যাকেট, গামবুট পরা, গগল্সকে কপালে ঠেলে তুলে রাখা পুরুষেরা মানুষের সমান আকারের কন্টেইনারগুলোকে গা’য় ঠেসে ধরে তোলে, রান্নাঘরের দরজা মুহূর্তের জন্য আড়াল হয়ে যায়। ‘আর আমি কি করব এখন?’ চাবি খুঁজতে খুঁজতে মেয়েটা বলে। ‘যাও, চোদন খাও গিয়ে।’ পুরুষদের একজন বলে ওঠে। ‘আলবৎ, তবে তোমাকে দিয়ে নয়।’ মেয়েটা বলে; তারপর খুলে যাওয়া দরজার মুখ থেকেই সে, রেলরোড ধরে আসতে থাকা মেয়েটাকে চিল্লিয়ে বলে ওঠে ‘এই কন্টেইনারগুলোকে পুরো মঙ্গলগ্রহের মরা জীব বলে মনে হচ্ছে।’
রান্নাঘরের লকাররুমের সামনে একরাশ খোলা মহিলা-পিঠের ভিড়। সাদা, ঢিলে কাজের পোশাক, অ্যাপ্রন, ঝাড়ন গাদা করে রাখা। মেয়েটা তার ব্যাগে লেগে থাকা বরফ মোছে। রান্নাঘরে যায়। একজন মহিলা নর্দমার গর্ত সাফ করছে। বড় হাঁড়ির পাশে দাঁড়িয়ে মোটা রাঁধুনি মেয়েটাকে বলে দেয় তাকে এখন কী কী করতে হবে।
[i] স্যোয়েরক্রাউট — জার্মান খাবার, বাঁধাকপি সন্ধান (ফারমেন্ট) করে বানানো হয়।
[ii] মেথুসা — Méthousa AKA Medusa (মেডুসা) গ্রীক মাইথলজি অনুযায়ী গ্রীক পুরাণের কুখ্যাত তিন বোনের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত। যার দেহ ছিল নারীর মতো, মাথায় ছিলজীবন্ত সাপের চুল। কথিত আছে, তার দিকে তাকালেই মানুষ পাথর হয়ে যেত। তিন বোনের মধ্যে একমাত্র তিনিই ছিলেন একমাত্র মরণশীল। বীর পার্সিউস শিরচ্ছেদ করে তাকে হত্যা করেছিলেন।
[iii] মোটরওয়ে — হাঙ্গেরিতে একাধিক লেনের হাইওয়ে আছে। দেশটাতে মোটরওয়ে (Autópálya) এবং এক্সপ্রেসওয়ে (Autóút) নামে দুটি প্রধান হাইওয়ে ব্যবস্থা আছে। মোটরওয়েগুলোতে দুই পাশে একাধিক লেন থাকে এবং এক্সপ্রেসওয়েগুলোতে কিছু ক্ষেত্রে একপাশে একাধিক লেন থাকতে পারে, তবে এগুলো তুলনামূলক কম গতির হয়।
[iv] ক্যাটা ওয়াগন — ট্যাঙ্ক ওয়াগন যেগুলো পেট্রোল, ডিজেল ইত্যাদি তরল বা গ্যাস নিয়ে যায়।
[v] উখস — Osprey (অসপ্রে) অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া সব মহাদেশে পাওয়া যায়। এরা মাছমুরাল, মাছরাঙা বাজ, মাছখেকো ঈগল নামে পরিচিত। এরা Accipitridae (ঈগল, বাজ, কাইট) গোত্রের মধ্যে পড়ে। বৈজ্ঞানিক নাম: Pandion haliaetus
নোটঃ গল্পটি হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় লেখা। আর এই অনুবাদ হাঙ্গেরিয়ান থেকে নয়, ইংরেজী অনুবাদ থেকে করা হয়েছে।
ভাষান্তরঃ অনিন্দ্য ঘোষ।
[1] স্যোয়েরক্রাউট — জার্মান খাবার, বাঁধাকপি সন্ধান (ফারমেন্ট) করে বানানো হয়।
[1] মেথুসা — Méthousa AKA Medusa (মেডুসা) গ্রীক মাইথলজি অনুযায়ী গ্রীক পুরাণের কুখ্যাত তিন বোনের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত। যার দেহ ছিল নারীর মতো, মাথায় ছিলজীবন্ত সাপের চুল। কথিত আছে, তার দিকে তাকালেই মানুষ পাথর হয়ে যেত। তিন বোনের মধ্যে একমাত্র তিনিই ছিলেন একমাত্র মরণশীল। বীর পার্সিউস শিরচ্ছেদ করে তাকে হত্যা করেছিলেন।
[1] মোটরওয়ে — হাঙ্গেরিতে একাধিক লেনের হাইওয়ে আছে। দেশটাতে মোটরওয়ে (Autópálya) এবং এক্সপ্রেসওয়ে (Autóút) নামে দুটি প্রধান হাইওয়ে ব্যবস্থা আছে। মোটরওয়েগুলোতে দুই পাশে একাধিক লেন থাকে এবং এক্সপ্রেসওয়েগুলোতে কিছু ক্ষেত্রে একপাশে একাধিক লেন থাকতে পারে, তবে এগুলো তুলনামূলক কম গতির হয়।
[1] ক্যাটা ওয়াগন — ট্যাঙ্ক ওয়াগন যেগুলো পেট্রোল, ডিজেল ইত্যাদি তরল বা গ্যাস নিয়ে যায়।
[1] উখস — Osprey (অসপ্রে) অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া সব মহাদেশে পাওয়া যায়। এরা মাছমুরাল, মাছরাঙা বাজ, মাছখেকো ঈগল নামে পরিচিত। এরা Accipitridae (ঈগল, বাজ, কাইট) গোত্রের মধ্যে পড়ে। বৈজ্ঞানিক নাম: Pandion haliaetus
নোটঃ গল্পটি হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় লেখা। আর এই অনুবাদ হাঙ্গেরিয়ান থেকে নয়, ইংরেজী অনুবাদ থেকে করা হয়েছে।