নিমাই জানা
গদ্য
নিমাই জানা
চিরঞ্জিত জিরাফ আর নন ফাংশনাল বারুদ লঞ্চার, প্লিজ স্টপ ওয়ার ব্রেকিং নিউজ,
” শিশুরা এইমাত্র ঘুমিয়েছে”
যুদ্ধ বিরোধী বার্তা । হরমুজ প্রণালী। ড্রোন । মিসাইল । লঞ্চার । ভস্মীভূত স্কুল , হাসপাতাল মৃত ১৩৩২ জন শিশু , শিশুদের কফিন , সাদা কাপড়ে মোড়া মৃতদেহ , অসনাক্তকরণযোগ্য মৃতদেহের প্যাকেট ফুল বিভৎস যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাওয়া শিশুদের মুখাবয়ব ধ্বংসস্তূপের পাশে বসে কাঁদতে থাকা একটা নির্জন নিস্তব্ধ হত্যা পুরীর একটা নিঃসঙ্গ শিশু , সামরিক ট্রাকে করে আনা লাশেদের হস্তান্তর এক্সক্লাভেটার দিয়ে গর্ত করে পুঁতে দেওয়ার দৃশ্য, এসব দৃশ্য দেখতে দেখতে বড় ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি আমরা , অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছি হাইপার রিয়েলিস্টিক ডেমেনশিয়ার রকেট লঞ্চারে , পারমাণবিক সক্ষমতা বিবিধ কথাগুলো বেশ কিছুদিন শুনতে শুনতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যক্ষেত্রে তার প্রভাব গুজব হাহাকার ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্রেক হয়ে পড়ছি প্রতিদিন । ইরান ইজরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তা অস্বীকার করা যায় না। সামরিক সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে ইরানের, দেশটার শীর্ষে থাকা রাজনৈতিক শীর্ষ কর্তারা নিহত হয়ে যাওয়াই একমাত্র ফলশ্রুতি ,এ এক ভয়ানক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দামামা বেজে চলেছে প্রতিদিন , ইরানের আয়ত্তে থাকা হরমুজ প্রণালীর অচল হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম তথা বাণিজ্যিক গ্যাসের মূল্য ক্রমশ আকাশছোঁয়া হয়ে উঠছে। ইরানের সামরিক বাহিনী এবং অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটেছে , হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল চলাচল বাধা প্রাপ্ত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ বেড়ে উঠেছে , দেশজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক ভয়ানক সংঘাত তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব বিশ্বজুড়ে প্রতিটি দেশ থেকে দেশান্তরে প্রতিটি মানুষের রন্ধ্রে ঢুকে পড়ছে ভয়ানক ভয় , আমেরিকার সামরিক সেনাদের সদস্যরা নিহত হচ্ছে নিহত হচ্ছে স্কুল কলেজ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিমান ঘাঁটি দোকান বাজার হাসপাতাল পারমাণবিক কেন্দ্র তৈলবন্দর জাহাজ তৈল শোধনাগার রেস্তোরাঁ কবরখানা ধর্মস্থান বিভিন্ন জায়গা , নিহতের সংখ্যা সব দেশের মধ্যে থাকলেও ইরানের নিহতের সংখ্যা অত্যাধিক তাদের টার্গেট শিশু এবং নারী , বিশ্ব রাজনীতি ভূ রাজনীতিতে এটি বর্তমান সময়ে এক দুশ্চিন্তার উদ্রেগ তৈরি করেছে , ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করেছে মূলত এই আশঙ্কায় ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্র বারবার পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে এবং বিবিধ বিধি নিষেধ আরোপ করেছে , ইজরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখায় আসলে এই যুদ্ধের মূল কারণ তাছাড়া ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে পশ্চিমা বিরোধী অবস্থান এবং তেল সমৃদ্ধ অঞ্চলে একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে এই দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে তার ফলস্বরূপ আর কিছু নয় ইরানের প্রায় পঞ্চাশটিরও বেশি স্কুল ২৫ টিরও বেশি হাসপাতাল স্বাস্থ্য কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লোরিস্তান প্রদেশ সহ বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক স্কুল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সিরাজ তেহরানের মতো বড় শহরের হাসপাতাল গুলিতে হামলা হয়েছে অসংখ্য চিকিৎসাধীন মুমূর্ষু রোগীরা নিহত হয়েছে স্কুলে পাঠরত অবস্থায় অসংখ্য শিশু নিহত হয়েছে অসংখ্য আবাসিক স্থাপনা কেন্দ্রে অসংখ্য আবাসিকরা নিহত হয়েছে , আল জাজিরা কুড়ি হাজারেরও বেশি বেসামরিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অপারেশন রাইজিং লায়নে সংযুক্ত আরব আমিরাও ও সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রে ইরানি ড্রোনের হামলা ঘটেছে এবং বাহারাইনের তেল শোধনাগর এবং জল শোধন প্লান্টে ধ্বংস করা হয়েছে আবার আশেপাশে অসংখ্য ট্রাঙ্কার এবং কিছু জাহাজের উপর ইরানীরা হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে ট্রাঙ্কার এবং জল জাহাজ , যুদ্ধ কখনো নির্মাণের কথা বলে না যুদ্ধ খালি ধ্বংসাত্মক সম্পর্ক ডেকে আনে অর্থনীতির ধ্বংস ভ্রাতৃত্ববোধের ধ্বংস জীবন জীবিকার ধ্বংস , ইসরাইল কর্তৃক ৫০০টিরও বেশি ইরানি মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস এবং ইরানের পক্ষ থেকে ইজরায়েলের টিল নফ ও গ্লি ওট সামরিক ঘাঁটিতে মিসাইল আঘাত হানা হয়। অবশ্য এই যুদ্ধ থেকেই ফিরে একটা দীর্ঘ শান্তির চুক্তি অবশ্যই হওয়া উচিত। যেখানে ভূ রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটিয়ে এই যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটানো যেতে পারে , ইরানের দেওয়া তিনটি শর্ত অধিকার স্বীকৃতি ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক চাপ ও পারস্পরিক ক্লান্তির মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী ঘোষণা দ্বারা এই যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটানো সম্ভব , তবে ইজরায়েলের মুল লক্ষ্য হলো ইরানের মিসাইল এবং পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা যদিও এই শর্তটি যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না , রাশিয়া চীন বা অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের সাহায্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মধ্যেকার ইসরাইলের মধ্যেকার সরাসরি পরোক্ষ আলোচনা মাধ্যমে ইরানের শর্ত মেনে নিয়ে ইরান ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধ থামানোর প্রক্রিয়া চালানো যেতেই পারে যুদ্ধ মানেই দুই দেশের সম্পদ সামরিক সক্ষমতা হ্রাস শিশু সম্পদ ধ্বংস, মানব সম্পদ ধ্বংস , নারীদের যথেচ্ছ যৌনাচার ব্যবহার , হত্যা, নিপীড়ন, বলাৎকার, স্থাপত্য ভাস্কর্য বিভিন্ন পরিকাঠামোর বেসরকারি সামরিক সরকারি আবাসস্থল ধ্বংসাত্মক রাজনীতির নতুন উপঢৌকন, যুদ্ধবাজরা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হন না তবে এ পৃথিবীর সুন্দর পবিত্রতার মেলবন্ধন অচিরেই গড়ে উঠতে পারে সে যদি একান্ত অনুভবে আধ্যাত্মিক পারমার্থিক ঈশ্বর ও চৈতন্যের অনন্ত সৃষ্টির একটি পুষ্প স্তবক বুকের ভেতর রেখে সুমধুর গান নিয়ে মিষ্টতার সাথে নিদ্রামগ্ন যেতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে ইরানকেও হয়তো শর্ত অনুযায়ী ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধিকরণ কমিয়ে আনতে হতে পারে , ড্রোন মিসাইল কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় আসতে হতে পারে তবে ইসরাইল হামলা বন্ধ করতে পারে আবার উল্টোদিকে ইরান মনে করে পারস্য উপসাগর থেকে মার্কিন বাহিনী তুলে নিলেই কেবলমাত্র যুদ্ধ থামানোর একমাত্র সম্ভব , যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ পথে না গিয়ে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে তবে তা দীর্ঘ মেয়াদী যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে , আসলে এটি একটি সামরিক এবং ভূ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তার ওপর তৈল ক্ষেত্রে তাদের একচ্ছত্র একচেটিয়া অধিকার স্থাপন যাকে বলে তখনই থামবে যখন কোন পক্ষ তাদের লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে বিজয় অথবা উভয়পক্ষ সমঝোতায় পৌছাবে , ঘোষণা হবে যুদ্ধ বিরতির । পৃথিবীর সমগ্র অস্তিত্ব কোষ রন্ধ্র উপকূলে মাইটোকনড্রিয়াল পুষ্টি ঘরে আর কোন বারুদের গন্ধ থাকবে না , পেট্রোলিয়াম খননের জন্য লজ্জার ক্ষেপণাস্ত্র হানা থাকবে না দাউদাউ করে রকেট লঞ্চার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার কোন ভয়াবহ শব্দ থাকবে না এ পৃথিবীর বিস্তারিত দেশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে না তার পরিবর্তে একটা পবিত্র শান্ত সবুজ উপত্যকায় পরিণত হবে। সেখানে অস্তিত্বের সমস্ত তর্পণযজ্ঞ চলবে। সকলে স্বচ্ছতার জীবন যাপন করবে আর হিংসার বাতাবরণ তৈরি হবে না। সেখানে অনন্ত এক শান্তি বিরাজ করবে আকাশে মহাকাশের মেরুজ্যোতি ছুঁড়ে বেরিয়ে আসবে এক মহাশান্তির রামধনু সকলেই হাতে হাত মিলিয়ে বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের সুস্পষ্ট পবিত্রতার মহামন্ত্র গাইবে , অবাক হয়ে যাবেন ঈশ্বর তিনি সমস্ত কিছু ঈশ্বরীয় স্বর্গীয় বৈকুন্ঠ মালার তাজ্জব ভূ-প্রকৃতি ফেলে এই জাগতিক চেতনায় নেমে এসে জাগতিক অস্তিত্বের রোপন করবেন এক একটা চিরহরিৎ সঞ্জীবনীর গাছ , তিনি কার্পেট বিছিয়ে দেবেন সবুজ মখমলের কার্পেট সেখানে বাদাম গাছের মতো চিরঞ্জিত জিরাফেরা মুখ উঁচু করে দেখতে থাকবে এ পৃথিবীর সুধাময় বাগান।