#১
মাশুল
এই মানব জন্মের মাশুল আমি কিভাবে দিতে পারি?
বলবেন কমরেড!
মানুষের জন্য নাজিল হল;
কোরান, তাওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর।
অথচ মানুষ শিখতে পারলো না, আয়ত্ত করতে
পারলো না সম্প্রীতি শব্দটিকে।
মানুষই আবিষ্কার করল- বিদ্যুৎ, রেডিয়াম, এরোপ্লেন রকেট, যাবতীয় ঔষধ ইত্যাকার সব বিষ্ময়কর বস্তু।
মানুষই দিল- কমিউনিষ্ট পার্টির ইশতেহার, মানুষ আনলো পুঁজিবাদ,
মুক্তবাজার অর্থনীতি, বিশ্বায়ন।
মানুষ আকাশে উড়ল, পাতালে নামল।
কেবল চারটি বর্ণের একটা অক্ষরকে
বুকে ধারণ করতে পারলো না।
মানুষ ক্রমাগত হতে থাকলো মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ,
খ্রিস্টান, ইউরোপীয়, এশীয়, আফ্রিকান, সাদা, কালো।
শুধু মানুষ হয়ে উঠল না মানুষের সহচর।
মানুষ অনুবাদ করতে পারলো না মানুষের ;
ক্ষুধা, মৃত্যু, কান্না আর যন্ত্রণার ভাষা।
আমি কী মাশুল দেব এই মানবজন্মকে?
বলুন তো কমরেড!
#২
অথচ
অথচ মানুষ চাইলেই ভালোবাসতে পারতো- পাকা ধানের মউ- মউ গন্ধ
ছাতিম ফুলের মাদকতা ভরা ঘ্রাণ।
ফোকলা দাঁতের শিশুটির চুম্বন।
বৃদ্ধের মায়াভরা জীর্ণ হাত, পবিত্রতম হাসি
ভালোবাসতে পারতো ফ্যালানির মেহেদী রাঙা হাত।
আরাধনা করতে পারতো প্রেমের, স্পর্শের।
তথাপি মানুষ ভালোবাসলো – বারুদ,
ফিলিস্তিনের শিশুদের অনাহারে মরা লাশ
ইয়েমেনের শিশুদের জরাজীর্ণ, কঙ্কালসার দেহ।
ভালোবাসলো ফ্যালানির গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত শরীর।
মানুষ কেবলই দাসত্ব করলো অন্ধ কামনা
মদ, মাৎসর্য আর বিপুল ভোগের।
ভালোবাসলো শান্তির নামে যুদ্ধের শপথ নিতে।
তারা আবার সেই কাজে ধর্মের হাতিয়ারে শান দিলো।
মানুষ সভ্যতা বানালো আলোর পূজা দিতে
তথাপি আরাধনা করলো কেবলই অন্ধকারের।