১
অভিসম্পাতে
গত জন্মের কথা ভেবেই অসময় কাটে নীরবে
এ জন্ম তো গেছে ভুলে, নির্ভুলে, অতিরিক্ত
অবগুন্ঠনে—
অতি দীর্ঘায়িত মাথা নত করে, উপায়হীন
বয়ে চলা নদীর ওপর অত্যাচারী হয়ে।
এ জন্মে পৃথিবীর অজস্র অনুতাপ
শূন্য হাতে, বুকে অতটা আগুন নেই
যেখানে ঠাঁই পাবে নারী
উষ্ণতার আঁচে লুটিয়ে পড়বে ব্যাকুল শ্রী
তার বদলে আছে ঋণ, আছে ফুরিয়ে যাওয়া জঙ্গলা
তালুতে ক্ষতবিক্ষত ভাগ্য রেখা বর্তমানের বর্ধিষ্ণু লাশ।
২
ম্যাও থেকে মাও
যে পাহাড় আমার নামে লেখা ছিলো
নীরাজন সেরে কোথা থেকে উড়ে এসে
জুড়ে বসলো সমতলের ওরা।
আমার ওই পাহাড়ে প্রতি মার্জার স্নেহ,
খাই-দাই পিঠ উল্টে শুয়ে থাকি।
ওঁর বুকে- জল, ওঁর বুকে- ক্ষরা, ওঁর বুকে-
বসন্ত আওয়াজে সবুজ অরণ্য ঘেরা।
উঠে যেতে বলে, করুণানিধি থেকে
কয়েক মুঠো ছুঁড়ে দিয়ে ধন্য ধন্য গায় গান ।
চুপিসারে নগরায়ন তুলে ধরে পদতলের
ঘৃণাবিদ্বেষ ধুয়ে রেখে বোঝায় রক্ষাকারী রব।
লজ্জিত ওর নন্দনতত্ত্ব গড়াগড়ি খায় আমার
পিঠে-বুকে অথচ আমি মনোহর হয়ে উঠি
যখন নেচে দেখাই গরিমা ফেলে রেখে।
স্বস্তি ও উল্লাস ছেড়ে আবার ফিরে যাই
পাহাড়ের কোলে,
প্রতিরোধী হই যদি ভুলে প্রতিবাদী হই
আঙ্গুলের জোরে আগলে রাখি লালবর্ণ মাটি
সবুজের কোলে গোড়ালি গেঁথে দাঁড়ায় সম্মুখে
তবে কি আমি সেই নিরুপায় পিছিয়ে পড়া সংস্কৃতি
যা তুমি গতরাত দেখে মূর্ছিত গবেষক হয়ে উঠেছিলে
লুটিয়ে পড়ে ছিলে আমার স্থাপত্যের কোলে?
৩
ভালোবাসা দিলে সব হবে
ধরো আজই যেন প্রথম সাদা বক
প্রণয়নে,
উড়ে এসে বসলেন ধরার বুকে।
বুকে আছে, আহার সমাধান
এই পৃথিবীর দুঃখিত দুঃখ
উসমান চাতক স্বভাবে গচ্ছিত,
একদিন প্রবীণ হয়ে উঠবে
খিলখিল হাসি তার যৌবনের—
কঙ্কাল সার স্মৃতি গুলি অথৈ
শূন্যের পাশে প্রলাপ হয়ে ওঠে।
ধরো, আজই যেন প্রথম সাদা বক
ভালোবাসা প্রণয়নে,
উড়ে এসে বসলেন ধরার বুকে।
৪
তবে
পথ ছুঁয়ে গেছে প্রতিটি ভূপৃষ্ঠ সমাগমের
দিন গুনেছি রাতে। দেখেছি
তোমাকে বেরিয়ে যেতে বনের দিকে
সব হবার সম্ভবনা ফেলে রেখে একদিন
চলে যেতে হবে পথরেখা পাশে রেখে
তবে,
কৃপা লাভের পন্থা অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছেন
এমন শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু
যারপরনাই তাকে আপন করে নেওয়া যায় না
আমার ভাষা পৃথিবী আমার ভাষা আম্রপালির ছায়াটি।