#১
আবর্তনের মাঝে
কিরিবুরু গ্রামের মাথায় লাল সূর্য উঠেছিল –
তোমার গাল জুড়ে
রাখা ছিল সংক্রান্তির ঠাণ্ডা বেলা
ফিরতি পথের ধুলোর পাশে
কৃষ্ণললিতা সেই তোমাকেই দেখা
লাল মাটিতে রাঙিয়ে ছিলে বিদায়, একলা…
#২
আলোমাখি, নেশাতুর
রাস্তার দুপাশ গিয়ে বসেছে বাজারের কোলে
বারবিলের সকাল রোদ
নেমে এসেছে সবজি, ফলের গায়ে
এত চকচকে রং আমি আগে দেখিনি!
বাজারের প্রান্ত শেষে মাতাল গন্ধ ওঠে
হাঁড়িয়া আর গাঁজা মিশে
শুরুর দিন অসংলগ্ন হয়, আর
সাতশো পাহাড়ের ধূসর দেশে
লৌহ আকরিক সারা গায়ে মেখে
ফিরতি পথ ভারি হয়ে ওঠে দুই পা’য়।
#৩
বেহেশতের কাছে যাই
সমস্ত রাস্তা এখানে পেতেছে গোল গোল ছায়া
নির্জনতা বসে আছে প্রতিটি ছায়ার শরীরে
শালবন ঠাণ্ডা হয়ে আছে, আদিবাসী মানুষের মায়া
লেগে থাকে প্রতিটি সুখ দুঃখের প্রাচীন গভীরে।
কবেকার ফেলে আসা ধুলোমাটি, স্মৃতির আকরিক
স্তরে স্তরে জমে আছে আমাদের উঠোনের জলে
ঢালু পথ, শিকড়ে শিকড়ে বেয়ে নিঃসঙ্গ পদাতিক
হাঁপিয়ে উঠি না আর, ফিরে যাই অন্ধকার মাদলে।
সারান্ডার পাহাড়ি বন চুপ করে আছে। খুব ধীরে
আমি হাঁটি, শীতকাল হাঁটে, বুনো পাখিদের দলে।
#৪
শূন্যতা বলে কিছু নেই
অতিকায় শালবনের গায়ে
এসে পড়েছে মেঘতাবুরু গ্রামের শেষ রোদ
আর এদিকে তখন পড়ে আছে
বিতাড়িত আক্ষেপের লাল রং
ঝিম আচ্ছন্ন কুয়াশার মত অভিমান
লেগে থাকে, মহুয়ার নেশায়।
কর্মপদ গ্রামের আদিবাসী রমণী
মহুয়া ঢালতে ঢালতে বলেছিল
জল কিছুক মিসাইবি না বাবু —
অস্তরাগে লেগে ছিল উৎকণ্ঠা আর অন্তর্ধান।
#৫
কক্ষতল, পুনরায় জাগে
সূর্য আসে, সূর্য যায়।
পড়ে থাকে নীরব ঘুম। চোখের পাতা।
পাতার ফাঁকে ফাঁকে জমে অসংলগ্ন জড়তা।
সব আলো ফুরিয়ে গেলে
সমগ্র আঁধার একা।
ঘুম পাহাড়িয়া গান শোনায়।