Email: info@kokshopoth.com
February 1, 2026
Kokshopoth

তিনটি কবিতাঃ আদিনাথ চ্যাটার্জী

Jan 2, 2026

তিনটি কবিতাঃ আদিনাথ চ্যাটার্জী

পেশা শিক্ষকতা। তাড়দহ হাইস্কুলে ইংরেজি পড়ানো আর অবসরে ভাষাশিক্ষা বিদ্যালয় গোলপার্কে হিন্দি শেখা। বারুইপুর মফস্বল শহরে এ গলি সে গলি আদিগঙ্গার পাড় ধরে হেঁটে বেড়িয়ে এখন নিজের অজান্তে কখন যেন ষাটের ঘরে কড়ানাড়া।শৈশব, স্কুলের, কলেজ -বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কুঠুরির মধ্যেই সাহিত্য, নাটক নিয়ে শামুকের মতো একটু মাথা বের করা আবার নিজের মধ্যে ঢুকে পড়া। সমকালীন সাহিত্যের পাঠক, সমালোচক, অবশ্যই নিজের পরিচিত গন্ডীর মধ্যে। কবিতা লিখি অল্পসল্প, মনোনয়নের জন্য পাঠানো আরো কম।

#১

আবর্তন

সে লেখা তো একদিন আমিও লিখেছি।
একটু আলোও পড়েছে কখনো কোথাও।

তারপর ধীরে ধীরে কত সূক্ষ্ম যন্ত্রণা।
ছাদের কিনার থেকে পড়ে যাওয়ার ভয়।
লাফিয়ে লাফিয়ে নীচে বড়ো রাস্তায়।
স্থূল হতে হবে।
ঝর্ণা বা নদীর পারের একাকী হাওয়া
ধূলোঝড়  আজও হেমন্তের হিমেল বাতাসে।
এমন সময় আবার সেই সূক্ষ্মতার আঘ্রাণ
কী অপরিসীম আগ্রহ শ্রদ্ধা করার–
কর্ণ কি এমনই ভেসে ছিল ডাক শুনে -‘পুত্র মোর। ‘
আবার সেই নিষ্পাপ সরল মায়া-মুখ, চেনা ভিজে চুল।

কিন্তু এতো প্রদর্শন, এতো আলো, চারদিকে এতো পেশাদার।
দূরে, দূরে। যদিও শ্রদ্ধা সুনিবিড়।
কলমির লতার মতো সেই মুখ কানের কাছে এসে
বলে যেত তার কবেকার সে সব মহাপাপ
নরম সন্ধের মুকুলিত বকুল তলায়।

না শুনে আবার চলা সেই ঝোলা ব্যাগ, পাজামা পাঞ্জাবি,
ধীরে ধীরে ধূলো পায়ে ভাঙা রথের চাকার মতো গড়িয়ে।

#২

নির্গমন

বিশ্বাস করো, কবিতা বাঁধা ছিল রক্তে, যেমন
লাল পতাকা  তোমার মতো এখনো অনেক মনে।
বলতে হতো না, হাপিত্যেসে শুকনো ঝরা পাতা দেখে
উদ্গত হতে হতে সবায়ের খাতা বইয়ে অহরহ।
কিন্তু  ফেলেছ তো অনেক ভেবে ধোঁয়া ভরা কামুক ক্যানভাসে।
একই তুলি, পাঁচমিশালী উজ্জ্বল আরকে ডুবে ডুবে
নিস্পৃহ পাগলের মতো পেড়ে ফেলে রঙ রস এক এক তুড়িতে।

 

#৩

অনুমান-সর্বস্ব

কখনো মনে হয় এই যে সারাক্ষণ অনলাইন
সে হয়তো আমারই জন্য।
হয়তো  ভাবছো আমাকে, অপেক্ষা আমার কোনো  শব্দের।
এমন তো টের পাই, প্রত্যাশিত জবাব অন্য কোনোভাবে। কিন্তু আবার যখন দেখি অনেক লোক, অনেক কাজ
সবাই তোমাকে ঘিরে।
তখন সেই জীবনানন্দ “সুচেতনা, তুমি এক দূরতর দ্বীপ।
এভাবে কাটছে বহু রাত, দ্বৈত যাপন।

2 Comments

  • সহজ শব্দে গভীরে স্পর্শ রেখে যায় কবিতাগুলি। নির্মাণে নয়, সৎ উচ্চারণই যার প্রধান শক্তি। আগামীতে আরও এমন অনেক সৃষ্টির আশা রাখি কবির কাছে। শুভেচ্ছা সতত।

  • গভীর মননের কবিতা। অবদমিত এক সত্ত্বা আপনাকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছে কবিতাগুলি। আমরা লুব্ধ হয়েছি বারবার যে পংক্তিগুলির জন্য তার একটা ঝলক পেলাম। অনেক শুভকামনা রইলো ।

Leave a Reply to তিস্তা চক্রবর্তী Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *