গোবিন্দগঞ্জ থেকে আমোদপুর হেঁটে যায় গাছ। তোমার প্রতিবেশী। জল-পা নয় তবুও শক্তি মাপা যাবে না। হেঁটে যায় দলবল নিয়ে। কখনও নিজের বলে পাতার কাছে হাত বাড়ায়নি। তবুও ঠেসে ধরে ধুলোর ধার থেকে সরিয়ে নিয়ে। এইভাবে মুখ তোলা যায় সকল হাতের বাইরে বেরিয়ে? দান ছাড়ার কথা নয়, জল তো লাগবে হাতের কাছে, পায়ের কাছে— সকলের মাথা ছাড়িয়ে এইভাবে মাথা উঠে গেলে বিনা মেঘেই ঝরে পড়ে
দুই
সবটুকুই চেনা গান। দেখেছি তো সবাই গেয়ে যায়। কে কবে আর আনন্দ সন্ধান করেছে। লেখা থাকে, কোলাহলের বিপরীতে হেঁটে যাও। তবুও গান মুখে ডানা মেলে না কেউ। গান তো এমনিই ছড়িয়ে যায়, হাত তো লাগে না। তবুও কোথা থেকে যেন জোর এসে পড়ে। আর ঠিক তখনই যে হাত মেলে দিয়েছিলে বাতাসে গানের পথ ধরে উড়ে যাবে বলে সে এখন তালগাছের পাশ দিয়ে ফিরে আসছে তোমার আস্তাকুঁড়ের মাঠে
তিন
এইযে এতটা সকাল আলো নেই আলো নেই বলে কেটে গেল— কেউ কি তোমাকে বিনা পরীক্ষায় ডেকে নিয়েছে আর খুলে দিয়েছে উঠোনের সবক’টি গোপন অঞ্চল। জলের কাছে ধরা পড়ে যাবে— কী বলে বেরিয়ে আসবে শুকনো থালার অঙ্ককে না মিলিয়ে?
চার
আমি তোমার সবটুকু ডেকে দিতে পারি। ডেকে দেওয়া মানেই তো একটা দেশ। পাহাড়ও বলতে পারো। পায়ের ওপর ভরসা করে নদী নামেও একটা আস্তানা তৈরি হোক। জানলা দরজার সকালগুলো অন্য নাম হওয়ার কথা বলে গেছি। ভিড়ে ঠাসা পাদানিতে শুধু চেয়েছি আলো ভালোবেসে ঝুলে থাক যাবতীয় সম্পর্ক
পাঁচ
না জানিয়ে মাটি বিক্রি হয়ে যায় বুঝি! এখনও মাটির ভেতর লেগে আছে কয়েকটি পা। ভোর রাত থেকেই হাঁটা। কোথাওই পৌঁছাতে চায়নি। সারা পথ জুড়েই তো কাজ। কত ডাকাডাকি। এখনও সে তো পথেই লেগে আছে। আর তুমি মাটি নেই করে দিচ্ছো!
ছয়
হাত ছুঁড়িনি। পা-ও ছুঁড়িনি। এসব কি যুদ্ধের সাজসরঞ্জাম? উন্মত্তের মতো এসব এখানে ওখানে ছুটে গেলে বুঝি যুদ্ধ ঘোরতর হয়? আমরা তো কোনও পরিচয় জানতে চাইনি। অথবা কিছুই বলিনি দেখাতে। শুধু পাখির মতো ঠোঁটের ফাঁকে কয়েকটি শুকনো ডাল অথবা দানাশস্য রোদের দুয়ারে ছড়িয়ে দিয়েছি। আমারও বলিনি। শুধু রোদের ভেতর টানটান করে নিজেকে মেলে দিয়েছি।
সাত
পাতাতেই রাখা আছে সব হাতগুলি। কেউ তো রান্নার কথা ভাবেনি। খাওয়া তো অনেক পরে। গুছিয়ে নেবার সময় তো এসেছে। ভোরের যাত্রার ঘরে আমাদের সবকটি জানলা খোলাই আছে। এবার এসো দলবেঁধে বলি, ধুলো আর খেলা তো ভাই ভাই। এসো ডানায় ধুলো মাখি। তাকিয়ে দেখো তুমি বলার আগেই তোমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে সবকটি পথ। গন্তব্য তো নেই। তুমি তো উড়তে এসেছো। খড়ি কেন? উড়তে উড়তে একদিন দেখবে হালকা হয়ে গেছো।