জন্ম: তিন এপ্রিল, নেত্রকোনায়। পিতা ষাটের দশকের শক্তিমান কবি নূরুল হক, মা ফেরদৌসি সুলতানা। নক্ষত্রখচিত আকাশের নীচে কিংবা সূর্যস্নাত ভোরে গ্রামের করুণ সুন্দর রাস্তায় পিতার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে পরিচয় হয় কবিতার আশ্চর্য লাবণ্যের সঙ্গে ।৷ আর সেই থেকে এক প্রবল কাব্যতৃষ্ণা তাকে আচ্ছন্ন করে রাখে আজন্ম। পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর। পেশা: সরকারি কলেজে অধ্যাপনারত। পুরষ্কার: কবিতায় পেয়েছেন ‘দেশ পান্ডুলিপি পুরস্কার ২০১৪’।
১
চাঁদ ও মোম একসাথে গলে
আরো গান জাগে এই ডাহুকী সন্ধ্যায় আরো ফুল নত হয় ওষ্ঠ পিপাসায় জীবনের সন্ধ্যা নামে তীরে তীরে জেগেছে প্লাবন গভীরে ক্ষতের দাগ পালক খসার শব্দ মিশে যায় হিম কোলাহলে সভ্যতার কালো জলে উৎসবে মেতেছে রাত পার্কের বাতাসে।
২ গোলাপি গালের শিশু
গোলাপি গালের ঐ শিশুটিকে নিয়ে আমি প্রতিদিন নদীতীরে যাই নদীগুলো কলকল করে ওঠে, আনন্দিত হয় যেন কত কাছের আত্মীয়, কত প্রাণের বন্ধুরা আজ বেড়াতে এসেছে।
শিশুটির আশ্চর্য গোলাপি গাল দেখে এ পৃথিবী আনন্দিত হয় নদীগুলো গান গেয়ে ওঠে নদীর স্রোতের মত আমাদের ভেসে চলা জীবনের ছায়াচিত্র ধরে।
জলের ফুলের মতো আমাদেরও এই ভেসে চলা কখনো ভাবিনি আগে এত যে মধুর কচুরীপানার মতো নিঃস্ব এক আমাদেরও এই বয়ে চলা কখনো বুঝিনি আগে এত যে গভীর আমাদের দেখে ঐ নদীগুলো কখনোবা ধ্যানমগ্ন হয় ছোট্ট শিশুটির কাছে এ পৃথিবী অপার বিস্ময়।
৩ ওরা
ছেলেটা সারারাত ঘুমোয়নি তার মা তার জন্য দুধ গরম করে রেখেছে বলছে, ‘খেয়ে নে লক্ষ্মী, সোনা আমার, যাদু আমার।’ ছেলেটা সারারাত কিছুই খায়নি।
জানিনা কখন আলো নিভে যাবে, নিভে যাবে জীবনের দীপ তার আগে পূর্ণ করে নিতে হবে সুধাপাত্রখানি আমারা সকলে তাই সারিবদ্ধ ক্লান্ত দাঁড়িয়ে আছি উন্মনা হৃদয়ে রিলিফ নেয়ার জন্য সুখের সংসার আমরা সকলে আজ শরণার্থী খালি পাত্র খা খা রৌদ্রে ভাসে।
৫ ফেরারি বসন্তে
দ্বারে দাঁড়িয়ে কে ও? কেউ আজ বলতে চায় একটি আশার কথা একটি সূর্যোদয়ের কথা ও একটি নদীর গাথা যে নদী সাগরে মেশে।
আসবে আশীর্বাদ, নামবে বৃষ্টি বৃষ্টি, বৃষ্টি, পল্লবিত দিনের, শুক্লারাতের বৃষ্টি এবং সেইজন্য অপেক্ষারত একদল মানুষ। ভীষণ অবাক লাগে, আজকাল এতো মধুর অর্কেষ্ট্রা কি করে বাজাও ঈশ্বর!
1 Comment
[…] চরু হক-এর গুচ্ছ কবিতা […]