কলকাতা আলিপুরের বাসিন্দা। বাংলায় স্নাতকোত্তর, বি.এড। লেখালেখি করেন।সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং বিভিন্ন পত্রিকা, লিটিল ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখা হয়।কিছু প্রকাশিত বই রয়েছে, ‘মেঘের চিঠি‘, ‘মোহনার দিকে:, ‘বোহেমিয়ান‘, ‘মুসাফির ও ক্রিসানথিমাম‘ ইত্যাদি।
১
কনফেশন
অতঃপর বুঝে নিয়েছি তোমার হিসেব-নিকেশ প্রেম আমাকে রিক্ত করেনি তো, অভিজ্ঞ করেছে বাঘ বন্দী খেলায় ভুল ঘুঁটি সাজাতে সাজাতে ক্রমশ পারদর্শী হয়ে উঠেছি তোমার বিপক্ষে। এও তোমারই শিক্ষা, ‘আপনা মান্সে হরিণা বৈরী ” তেমনই হল যেন, আকাশ সমান প্রেম আর নীরব যত প্রশ্ন জোট বেঁধেছিল শঙ্খ লাগা গুণে, অবশেষে তুমিও নিপাট পুরুষের মতো বিকর্ষণে দিনের আলোয় নক্ষত্র অভিযানে গেলে! আর আমি সমস্ত অপরাধ আর পদস্খলন ফেলে দিই কাঁটার মুকুটের মত প্রভুর প্রণামীতে – সহজতর হয়ে উঠল সূক্ষ্ম অর্থের অনুধাবন। মুক্তকন্ঠ হলো এই সর্বস্বান্ত কর্মযোগ স্বীকার, প্রতি অনুপল এখন মহোৎসব, মায়া মায়া জীবন।
২
এই খেলাঘর
সব মেনে নিয়ে জীবন এখন নিত্যকার মাভৈ, প্রতি সকালে জানলার ফাঁক দিয়ে গলে পুরনো অত্যাবশকীয় পরিচিত রুটিন। প্রত্যেক সবুজ চারা অসাক্ষাতে দিশেহারা হয়না বহুকাল আর, এখন মানিয়ে নেবার সময়। আমার চোখ, মন প্রতিবর্ত ক্রিয়া নির্দেশহীন প্রহর থেকে মাঝরাত নির্লিপ্ত রোবটিক সব মানিয়ে নেয় মাপজোপ দুরস্ত মেশিন মন, তাসের দেশ শাসন করে,জল পড়ে,
পাতা নড়েনা,শুকিয়ে কাঠ হয় অভ্যস্ত জিভ। চেঁচিয়ে তৃষ্ণা চায়, শব্দ বেরোয় না, প্রাণবায়ু অচল ক্যালকুলাসের নিয়মবর্তী। যেমন এই দেশ, সমাজ, শহর জুড়ে আমরা ইতিউতি মানিয়ে নিতে নিতে যান্ত্রিক জন্ম মৃত্যু চোখ মুদে সেক্স সবই অভ্যাস।
৩
শেষ খেলা
আহত হৃদয় তার ভরে গেছে পেয়ালা বিষাদ, ভুলো মন নয় তবু ভুলে যেতে চাই অবসাদ। কিছু মুহূর্ত ছুটে যায় বাঁধা গতে নেই আগে পিছে সত্যিরা মাথা পেতে অপরাধ নিঃশব্দে মেনেছে। চলাচল গোপনীয় নয় অস্পষ্ট লক্ষ্যহীন চোখ আমিও তোমার কাছে বুক পেতে নিই সেই শোক। কেন আজ খেলা শেষে, নিয়মের ভাঙা নদী পার, শেষটা ভাষাহীন হোক, ঠোঁটে থাক সঙ্গম অপার। সব নদী ঠিকানায় গতি আমাদের উজানেই পাড়ি লিখে রেখো ঋণ ভার চিনে নেবে মন দুজনারই।