#১
যুদ্ধ
জগাখেচুড়ি দিনটাকে মুঠোয় পুরে রাতের পেটের মধ্যে ঢুকে পড়ি ভুস করে, আর বালিশ ছাড়াই ঘুম। ঘুম মানেই সাধ মিটিয়ে রাজবাড়ির দেয়ালে সটান পেশাব ছরছর, তদুপরি ভিখিরীর কাছ থেকে বিড়ি ধার নিয়ে হাওয়ায় ফুঁ ধোঁয়া। ক্রমশ ধুলোয় একাত্ম হয় স্যান্ডেলের গ’লে পড়া চর্বি। আর খাড়া সেতুর ওপর কাকের মাংস — নৃতত্ত্ব শিখে নেয়া যায়।
এরই নাম চান খাঁর পুল। মিনিট-সেকেন্ডের হিসেবে রাজ্যপাট বেদখল, এবং সন্দেহ নেই, প্রবল সামাজিক। ইংরিজি-বাংলা জটপাকানো বর্ণমালা বাদুড়ের ডানার সাথে কি একাত্মতা!
ট্রাফিক আইল্যান্ডে পুলিশের বাঁশি, এই বেশ, অতো পোড়া চামড়াওঠা দাগে চোখ লাগানো কেন? না চাইলেও রাতে বন্ধ মুঠো খুলে যাবে। তখন সমস্ত গুহা শকুনের ডানায় আবৃত। সে-কারণে ইঁদুরের সাথেও সম্পর্কের বোধ বেশ উজ্জ্বল, বিশেষত মেচি ইঁদুলের অদ্ভুতুড়ে ভাষাজ্ঞান….
অন্যদিকে রাবারগাছ, যার ঘাড় বেয়ে ডিমোক্রেসি না কি যেন গড়িয়ে নামছে। কিন্তু রাতের গ্যাসীয় গুহা ভেদ করে অকস্মাৎ এক ধাতব শিক দ্যাখা গেল, যার একমাত্র কাজ জৈবদেহের যে কোন অমনঙ্ক স্থানে খুচ্ করে ফুটে যাওয়া। এতে হয় কি, দু-একফোঁটা রক্ত বেরোয়, সেই রক্তের আভা এখানে সেখানে ছড়িয়েও পড়ে। মা কুন্তী তার সামান্য আঁচল কোথায় লুকোবে?
আর, বিশ্বাস করবে না, এই ঘূর্ণিপথে একজন রামকিংকর বেশ আত্মমগ্ন। মনে হতে পারে সীমান্তবিভেদ আত্মীকরণ করা জ্ঞানী পাহাড়। শিশুরা আর নাবালক শেয়ালেরা যেন শিখে নেয় আত্মায় গভীর মন্ত্রের রাঙা তরমুজ। শ্রমআলপনা, তার কূল ঘেষে অনার্য সৌন্দর্য যা কালনিষ্ঠ।
ফলে শুরু হয় মাটির তোলপাড়। মাটির নীচে গলাছেড়া ডাক, শেয়ালের কুকুরের বোনহারানো বাবলাকাঁটার। তাদের কারো না কারো গর্ভ থেকে আমি আছড়ে পড়েছি…
#২
বৈরুতে বিমান হামলা
দু’সপ্তাহ ধরে
মুহুর্মুহু আলোর ঝলকানি আর ধোঁয়া
থমকে আছে বৈরুত
এটা না কি যুদ্ধ
না কি অন্যায় যুদ্ধ
মানুষকে বাঁচাতে
পৃথিবীকে বাঁচাতে
পৃথিবী থেকে উৎখাত হওয়া দরকার
যুদ্ধ
এ-ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়
খুবই সোচ্চার
সম্মেলন ডাকা হয়েছে
বার্লিনে
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর বিশেষ বিমানে
ফেলা হচ্ছে ঔষধ ও বিস্কুট
এতে বিশেষত নারী ও শিশুরা
বেঁচে যাবে
অবশ্য
যুদ্ধবিমানগুলো থেকে বোমাবর্ষণে
যদি
খানিক বিরতি আসে