# ১
অন্যরকম
রক্তের দাগ শুকিয়ে যেতে যেতে, মুছে যাওয়া মাংসজ আলতায়, দেহের প্রস্রবণে …
বুজে আসে চোখের পাতা কাঁপতে কাঁপতে । সমর্পণ নাকি ঘুম। পরাজয় মেখে!
নচেৎ ক্ষমার মত ভালবাসা এঁকে।
উশখুশ যত হন্তকের হাত। জীবিত সব অতল নিদ্রায় চলে গিয়ে, কখন ,কবে,তারপর ? ধোঁয়াশা ধোঁয়াশা , কুয়াশার ইথারে বিকালভর তুলে রাখা স্নাইপারের ধোঁয়া, ধোঁয়াবিষ্ট ধরাশায়ী মানবতার চোখে চলকে ওঠা,মন ভেঙে গেলে শিশুর ফুঁপিয়ে ওঠার মত যত অসুখ সারেনা কোনকালে।
ক্ষমতার অসভ্য শরীরের নকল তোলা অস্তগামী দিনের আলো,মনের কাজল ছায়া দীর্ঘত্বে আসীন হতে হতে তোমার চোখে ধরা পড়েছে এইমাত্র — রাজগদিতে এলিয়ে তার অহমিকা শরীর,সাপের চেরা জিভের বিষময় ক্রুর হাসির পদে, নিরীহ, অগণিত দেহের রক্ত ঝরিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে কালসর্প,
অথচ কি আশ্চর্য আকর্ষণ গড়ে উঠছে!
মৃতরা শুধু মরে যেতে চাইছে আরেকবার …
বলিষ্ঠ হাতের মুঠোর নিষ্পেষণে।
সম্মোহনে সফল সে নরকের দূত!
শুধু মরে যেতে চাইছে ওরা কীট পোকা মাকড়ির মত। বাঁশির সুর বদলে দিয়েছে মস্তিষ্কের প্রবোধ ।
যন্ত্রবৎ একখানা বিপর্যয়ের জন্য জন্ম থেকে কাঠ খড় পাতা পুড়িয়ে তৈরি করা ,সেই আবার নশ্বরে লীলাভঙ্গ ঘটানো।
তাড়াহুড়ো লেগেছে বড়ো।
হাঁপিয়ে উঠছে যারা বাঁচতে বাঁচতে, হাঁপিয়ে উঠছে জীবন, উতরাই চড়াইয়ের খেলায়।
এসব ছেড়ে শূন্যে যন্ত্রণাহীন নিঃশব্দের রমণে মজে থাকাটা নতুনতর বেশ।
একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে আসা যায় , মাঝে শুধু রক্ত ঝরে, ঝলসে পুড়ে যায় মায়ের বুক
কান্নার শেষ কিছু আর্তনাদে মিশে আওয়াজ হারিয়ে রাত্রি গিলছে সিলেবাস থেকে।
# ২
ছায়া নড়ে ওঠে
ঈশ্বরকে নিয়েই আমার দিন চলে যায়
ঈশ্বরকে ছেড়েও আমার দিন চলে যায়।
মাথার পাশের জানলায় রোজ এক দিন থমকায়, দৈবসন্তানের আদলে যার স্বর্ণস্নাত মুখে বিরোধের ক্ষতচিহ্নহীন নিপাট দেখে হতাশ হই।
পড়ে যায় গালে হাত,
তারপর অজস্র চুমু এঁকেও মানতে পারিনা, দুর্ঘটনা ঘটে যায়।
এত শান্তির কিছু নেই,এত নিরিবিলি নিয়ে বেঁচে থাকার মত সংঘাতময় এক তাড়নায় ব্যর্থ হয়ে যায় খেলা—
সকাল এক তর্কের নাম।চাকায় চাকায় ঘষা লেগে ক্ষিদের উৎসবে মানুষ যতটা শেকল মেনে নেয় ।
তর্কের ওমে জীবিত হয়ে এলে যুদ্ধের সকাল…
তর্ক খসতে খসতে যুদ্ধরা পাপড়ির নীচে ওত পেতে অপেক্ষায় ধরে।
কেউ কেউ রক্তাক্ত হয় ভালোবেসে
গোলাপের গন্ধ থেকে ফুলের মত যে স্নেহ—
জীবদ্দশায় রক্ত খসিয়ে মনে করবে একদিন,
বেঁচেও ছিলে একদিন,জনৈক কষ্টের কারকচিহ্নে।