শিশির আজম
কবিতা/কবিতাগুচ্ছ
শিশির আজম
#১
ফ্যাসিস্ট
তুমি রাজি হয়ে যাও
তোমার আকাশ বিক্রি করে দিতে
আঞ্চলিক নিরাপত্তামূলক কর্মকান্ড পরিচালনার স্বার্থে
আমাদেরকে দিয়ে দাও তোমার দ্বীপ
কৃষিতে অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি কমিয়ে
অর্থের সাশ্রয় করো
নিরাপত্তামূলক খাদ্য ব্যবস্থাপনার জন্য উন্নত সার ও বীজ
তোমাদের কেনা উচিত আমাদের কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে
সমুদ্রে তেল ও গ্যাস উত্তোলনে
আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুৎ
নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থে
সামরিক খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্ধ থাকা দরকার
আন্তর্জাতিক রীতি মেনে আকর্ষণীয় প্যাকেজে
প্রয়োজনীয় অস্ত্র আমরাই সরবরাহ করবো
এমন কি সামরিক বাহিনীকে আরও চৌকস ও আধুনিক করতে
সমুদ্রে যৌথ মহড়ার আয়োজন করবো
হ্যা তোমার দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তাঞ্চলে
আমাদের একটা করিডোর দরকার হবে
ওটা দিয়ে দাও
আমাদেরকে কোয়াপারেট করো
না হলে তুমি ফ্যাসিস্ট
#২
মিটিকুলাস ডিজাইনের স্বাধীনতা
এখন নতুন স্বাধীনতাঅয়ালারাই আমাদের মা বাপ
১৬ বছর
হুম্ ১৬ টা বছর ফ্যাসিজম আমাদের ওপর চেপে বসেছিল
আমরা কথা বলতে পারিনি
খেতে পাইনি
এমনটা শুনে আসছি
১৬ বছর ধরে
আমাদের টাকা সোনাদানা সুখশান্তি চুরি করা হয়েছে
আর বিদেশে পাচার করা হয়েছে
আমাদের উন্নয়ন চুরি করা হয়েছে
শিক্ষা নিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে
প্রার্থনা নিষিদ্ধ
শুনে আসছি
১৬ বছর ধরে
আর এখন নতুন স্বাধীনতাঅলারা এসেছে
আর ওরাই ঠিক করে দিচ্ছে স্বাধীনতার মাপজোক
যেটার মিটিকুলাস ডিজাইন তৈরি হয়েছে
ওয়াশিংটনের অফিসে
#৩
সেনাপতির রাজক্ষমতা দখল
সকালে বেশ দেরি করে
সেনাপতি সাহেবের ঘুম ভাঙলো
উপসেনাপতি আর অন্যান্য ব্রিগেডের সেনাধ্যক্ষদের সঙ্গে
দরকারী আলোচনা সেরে
বিছানায় যেতে যেতে রাত ভোর
হ্যাঁ, স্বস্তিকর আর আরামদায়ক ঘুম হয়েছে
রাজাকে হত্যা করা হয়েছে
অনিচ্ছা সত্বেও
রাণিকে বন্দী করতে হয়েছে
রাজকন্যা আর যুবরাজ
আর রাজার অতি প্রিয় কয়েকজন অমাত্যকে
বন্দী করা হয়েছে
কেন না রাজকার্যে ফাঁক রাখা চলে না
একজন কবিকে কয়েদ করা হয়েছে
কবিরা গন্ডোগোল পাকাতে ওস্তাদ
সেনাপতি সাহেবের একটাই দ্বিধা
রাজা হয়ে
রাজকার্য পরিচালনায় কোন্ পোশাক পরা উচিৎ
সেনাপতির না রাজার
রাজার না সেনাপতির
বলা তো যায় না প্রজাদের মনমর্জি
কখন কী রকম দাঁড়ায়
#৪
আমাদের মার্কিন সমর্থিত শান্তিবাদী প্রেসিডেন্ট
কি দারুণ ব্যাপার, উনি বললেন, ‘পৃথিবী একটা বাগান।
বাগানে কত রঙের ফুল
কত রকমের গন্ধ তাদের
আর তাদের ফুটে ওঠার সময়েও ভিন্নতা রয়েছে।’
‘শুধু কি ফুল’, উনি বললেন,
‘বাগানে কত রকমের পাখি আর পতঙ্গ
আর তাদের কত সুরের গান
আর তাদের ব্যথা আর ক্রোধ আর ভালবাসাবাসি —
এইসব নিয়েই তো বাগান।’
তারপর উনি একটা একটা করে ফুল ছিঁড়তে লাগলেন
ঐ ফুলগুলো অতি বিশ্রী দেখতে
গলা টিপে ধরে পাখিগুলোকে মেরে ফেললেন
ঐ পাখিগুলোর গান অতি বেসুরো
ছোট ছোট পতঙ্গগুলোকে তো সহ্যই করতে পারলেন না
এরা কেবলই দুর্গন্ধ ছড়ায়!
#৫
সেন্টমার্টিনে মার্কিন নৌ বাহিনীর কাজ কী
মাস কয়েকের ব্যবধানে বেশ মজার কিছু ঘটনা ঘটেছে
হয় তো ঘটনাগুলো কাকতালীয়
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট পালাইছে
উনি এখন মস্কোয়
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিতাড়িত
উনি দিল্লীতে
ঘটনা দুটো আসলে একই
প্রশ্ন : এরা কার আক্রোশের শিকার
উত্তর : জনগণের
তাহলে সেই জনগণ এখন হাউমাউ করতেছে কেন
আবার ফুসতেছে কেন
অনুশোচনা
ওদের তো খুশি থাকবার কথা
তাইলে
এই প্রশ্ন তো এখন নিজেদেরকে করা দরকার
হোয়াইট হাউস এতো খুশি কেন
সেন্টমার্টিনে মার্কিন নৌ বাহিনীর কাজ কী
কী
কেন