Email: info@kokshopoth.com
February 19, 2026
Kokshopoth

কামরুল বাহার আরিফ

Feb 18, 2026

কবিতা/ কবিতাগুচ্ছ

কামরুল বাহার আরিফ

 

#১

তরল মাদক

দুধের মাঠার মত মেঘ থেকে ঝরে পড়ে জলের প্রস্রবণ

লালরঙা তারা ফুল পাপড়ি মেলে ধরে প্রেমের আকুলে

বৃষ্টির শব্দ কী বাতাসে বাজে?

মাটিতে নেমে এলে

কোন রাগ, সুর-তাল কানে বেজে ওঠে? মাটিও বাদ্যযন্ত্র এক

জানে শুধু কানের যন্ত্রী যারা। বাতাস চিরচেনা নাচের গুরু

মুদ্রার তালে তালে নাচায়—ঝরায়, জলের নৈকট্যে অধিক কাঁপায়

 

আমি তো সুরের বৃক্ষ, নৃত্যে মাতাল

বাতাস-মাটি-জল, উষ্ণ সঙ্গমেÑ

মাটির বাদ্যধ্বনি আমাকেও বাজায়

বাতাসের নাচ থেকে জলের ঝাপটা এলে

আমি কী পান করি, দুধের মাঠার মত তরল মাদক!

 

 

#২

যন্ত্রণার আশ্বাস ও বিশ্বাস

 

আর জেগোনা

সমস্ত গর্ভ সকল বীজ বন্ধ্যা হয়ে যাক

উত্তাপে মনস্তাপে ভুক্তভোগী মানুষ ও বৃক্ষ

কত কঠিন অবয়ব কাচের সংসারে

ঘুমিয়ে আছে এলেবেলে যত মায়াশব্দ

মেঘ ভেঙে বিকট বজ্রপাত কার কানে আসে

বিজলি চমকে অন্ধচোখে হানে না আঘাত

মিছামিছি বৃষ্টি নামে মিথ্যা আশ্বাসে!

 

আর জেগো না

যুদ্ধের দামামা মানুষের পক্ষে যায় না কখনও

তবু অহংয়ের চূড়ায় সূর্য হাসে বেহায়ার মত

পদদলিত হতে হতে এই মানুষ শিখেছে পদলেহন

গর্ভ থেকে জন্মে বৃক্ষের বিপরীতে ধর্ষণের পাঠ

জীবানুর ক্ষমতা মানুষকে মৃত্যু দিতে পারে

বাঁচার জন্য ভালোবাসার সব নদী স্রোতহীন

নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে বেঁচে থাকা কী এক অবিশ্বাসে!

 

 

 

 

#৩

পীঠস্থানের জলে

 

জলের নৈঃশব্দ্যে মায়াবী আলোর প্রতিফলনে

রাত আরও গভীর নৈকট্যে নাচতে থাকে শাহমখদুম প্রেমে

জল আর আলোর রূপোসে নাচে জিকিরের রুহানি

জিকিরে জোস বাড়ে অচেনা মীনের ঘাইমুদ্রায়

আমি সেই জলের বুদবুদ হয়ে

খুঁজতে থাকি মখদুমের পদযুগল

দেখি জলের আঁধারে

ছায়া ফেলেছে নারিকেল বৃক্ষের চিরলপাতারা

সেই ছায়ার মই বেয়ে উঠে

মখদুমের কপালে চুমু দিলে

জীবনের দীর্ঘশ্বাসগুলো

গুলিয়ে নেয় রঙের রূপোস জল।

তারপর মখদুমের জলজ সিঁড়ি বেয়ে

বিষণ্ণ নগরের রাস্তায় উঠে এলে

ভেতরে ক্রমাগত জিকির বাজেÑ মখদুম… মখদুম!

 

 

 

 

 

#৪

বায়োস্কোপ

 

লিঙ্গহীন একটা বাক্স একদিন

আচমকা এক নির্বাক বায়োস্কোপ হয়ে গেল

 

সবাক শিশুরা নির্বাক দৃশ্য দেখতে দেখতে

বয়েসীদের দিকে বিস্ময়ে তাকালে

আচম্বিত আকাশ কেঁপে

বজ্রপাত ঘটলো বয়েসীদের শরীরে!

 

বয়েসীরা পুড়ে যাওয়া শরীরে

এক একজন নিজ নিজ লিঙ্গ খুঁজতে

এক’শটা করে হাত কাজে লাগালো!

 

শিশুরা হো হো করে হাসছে আর হাসছে

বায়স্কোপওয়ালার চোঙ্গা থেকে বেরিয়ে আসছে

বিকৃত শব্দের হাসি

বেতালে বাজছে তার ঝুমঝুম খঞ্জনি।

বায়স্কোপওয়ালাও জানে না

কত যুগ আগ থেকে

তার লিঙ্গটা জাদুঘরে রাখা আছে।

 

 

 

 

 

 

 

Previous Post

1 Comment

লেখাটির উপর আপনার অভিমত জানান।

Your email address will not be published. Required fields are marked *