Email: info@kokshopoth.com
February 19, 2026
Kokshopoth

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কবিতার মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণঃ একটি প্রয়াস

Feb 18, 2026

প্রবন্ধ/ নিবন্ধ

আদ্যনাথ ঘোষ

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কবিতার মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণঃ একটি প্রয়াস

 

একুশ শতকে বাংলাদেশে কবিতা ক্রমাগত বহুমাত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। বিশেষত কবিতাগুলো মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ, এটি গভীর রূপান্তরমান সময়ের ফসল। সামাজিক অস্থিরতা, দ্রুত নগরায়ন, প্রযুক্তির আধিপত্য, সম্পর্কের ভাঙন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা – এ’ সবকিছু মিলিয়ে সমকালীন মানুষের মনোজগৎ জটিল ও দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক কবিতা সেই জটিল মানসিক অবস্থারই প্রতিফলন। ফলে আত্মকেন্দ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাম্প্রতিক আধুনিক কবিতা বেশি গুরুত্ববাহী। এ কারণে বাইরের বাস্তবতার চেয়ে ভিতরের সত্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অবচেতন মন, দমিত কামনা, ভয়, স্মৃতি, ট্রমা- এই উপাদানগুলো কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কবিতা এমন এক পরিসরে  দাঁড়িয়ে আছে যেখানে অর্থ আর স্থির নয়, সত্য আর একক নয় এবং কবিতা নিজেই নিজেকে নিয়ে প্রশ্ন তোলে; এই কবিতা আর মনের ভিতরের সৌন্দর্যকে প্রতিনিধিত্ব করতে চায় না বরং ভাঙতে চায়— ভাষা, অভিজ্ঞতা, স্মৃতি এবং আমি’র ধারাবাহিকতাকে। পোস্ট মর্ডান বা উত্তরাধুনিক চেতনার মূল বৈশিষ্ট্য যেমন অনিশ্চয়তা, খণ্ডিততা, বহুস্বরিকতা। সাম্প্রতিক কবিতায় ঠিক সেভাবেই উপস্থিত। এখানে কবি কোনো সর্বজ্ঞ বক্তা নন বরং তিনি নিজেই ভাষার ফাঁদে আটকে পড়া এক সন্দিহান সত্তা। জাক দেরিদা যেভাবে বলেছিলেন,-There is nothing outside the text. সাম্প্রতিক কবিতাও তেমনি বাস্তব। তাকে কোনো বহির্জগতের প্রতিফলন হিসেবে নয় বরং ভাষার ভিতরে বন্দি এক অনির্ধারিত নির্মাণ হিসেবে দেখে; ফলে কবিতার বাস্তবতা আসলে পাঠকের পাঠ প্রক্রিয়াতেই তৈরি হয়। এই প্রেক্ষিতে কবিতার আমি আর কোনো কেন্দ্রিয় সত্তা নয় বরং এটি একাধিক কণ্ঠ, একাধিক স্মৃতি ও একাধিক ভাঙনের সমষ্টি। কখনো ব্যক্তিগত, কখনো সামাজিক, আবার কখনো নিছক ভাষাগত অনুভূতি নয়, এটি একটি দার্শনিক অবস্থা, যেখানে অস্তিত্ব নিজেই ভার হয়ে ওঠে। এই অস্তিত্ববাদী ভার আলবেয়ার কামুর আ্যবসার্ড এর সঙ্গে সংলাপ তৈরি করে। কারণ সাম্প্রতিক কবিতার মানুষ জানে জীবন অর্থহীন, তবু সে লেখে। কারণ লেখাই তার শেষ প্রতিরোধ। কবিতায় শহর আর ভৌগোলিক স্থান নয়। শহর হয়ে ওঠে মানসিক টেস্ট, উঁচু ভবন, একাকী ঘর, ভার্চুয়াল যোগাযোগ। যেখানে ট্রাফিকের শব্দ, স্ক্রিনের আলো ও নিরাপত্তাহীনতা মিলিয়ে এক ধরনের স্নায়বিক বাস্তবতা তৈরি করে; মিশেল ফুকোর ক্ষমতা ও শৃঙ্খলার ধারণার মতোই শহর এখানে মানুষের শরীর ও মনকে নিয়ন্ত্রণকারী  এক অদৃশ্য কাঠামো। ফলে কবিতার শরীর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ক্লান্ত শরীর, অসুস্থ শরীর, অনিরাপদ শরীর। যেমনটি শক্তি চট্টোপাধ্যায় বা শহীদ কাদরীর পরবর্তী প্রভাবধারায় দেখতে পাওয়া যায়। যেখানে শরীর মানে জৈব অস্তিত্ব নয়, বরং রাজনৈতিক ও মানসিক ক্ষেত্র। সাম্প্রতিক কবিতায় স্মৃতিও আর নির্ভরযোগ্য নয়, এটি ভেঙে যায় বদলে যায় নিজেকেই অস্বীকার করে, পল রিক্যুরের স্মৃতির দর্শনের মতোই। এখানে স্মৃতি সত্য নয়, বরং পুননির্মাণ। তাই শৈশব যখন ফিরে আসে তা কোনো নস্টালজিক আশ্রয় নয় বরং আরও এক অস্বস্তিকর ক্ষেত্র। যেখানে নিরাপত্তার ধারণাটিও প্রশ্নবিদ্ধ ওবায়েদ আকাশের কালশিটে হাড় কবিতায় লক্ষ করা যায়- নববধূ ভেসে গেছে/ কুজ্বটিকা, হাড়ের জোছনায়/নদীতে হেলানো শোক/ ভেঙে পড়া গাছেদের তীরে/ জেগে আছে বিরহ জাতক/ প্রসিদ্ধির বেদনারা হাফ ছেড়ে/ বেঁচে যায় হিমকাল, হিজলের ছায়ায়।- এই কবিতায় প্রতীক স্থির নয়, নদী কখনো সময়, কখনো মৃত্যু, কখনো স্মৃতির লিকেজ। হাড়ের জোছনা কখনো কবর, কখনো আঁধার আবার কখনোবা অনন্তকালের যাত্রা বোঝায়। আয়না কখনো আত্মপরিচয়, কখনো আত্মপ্ররোচনা, কখনো ভয়, কখনো মুক্তি— কার্ল ইয়্যুই যেভাবে প্রতীকের বহুমাত্রিকতার কথা বলেছেন, সাম্প্রতিক কবিতা ঠিক সেভাবেই প্রতীককে একাধিক অর্থে খুলে দেয়। ভাষা এখানে আর  স্বচ্ছ মাধ্যম নয় বরং সমস্যা। লিওতার যাকে বলেছিলেন, Incredulity toward metanarratives সেই অবিশ্বাস থেকেই কবিতা বড়ো গল্পকে অস্বীকার করে ছোটো, ব্যক্তিগত, অসম্পূর্ণ বয়ানে আশ্রয় নেয়। তাই সাম্প্রতিক কবিতার ভাষা ভাঙা, থেমে যাওয়া, অসম্পূর্ণ। এটি কোনো শৈল্পিক কৌশল নয় বরং এটি দার্শনিক অবস্থান। কারণ সম্পূর্ণ বাক্য মানেই এখানে মিথ্যা নিশ্চয়তা। রবীন্দ্রনাথ যেখানে ঐক্যের দিকে তাকিয়েছিলেন, সাম্প্রতিক কবিতা সেখানে বিচ্ছিন্নতাকে স্বীকার করে। শামসুর রাহমান যেখানে নাগরিক কণ্ঠকে স্পষ্ট করেছিলেন, সাম্প্রতিক কবিতা সেখানে সেই কণ্ঠের ভাঙন শোনায়। এই ভাঙন সামাজিকও। কারণ সহিংসতা, বৈষম্য ও অনিশ্চয়তা কবির মানসে যে Collective trauma তৈরি করে তা কবিতাকে করে তোলে এক ধরনের মানসিক আর্কাইভ। যেখানে ব্যক্তিগত বিষণ্ণতাও রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক কবিতার মানুষ নিজেকে দেখে এমন এক সত্তা হিসেবে যার জীবন আছে কিন্তু নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক ট্রমায় পরিপূর্ণ। সহিংসতা, অবিচার, দুর্নীতি মূল্যবোধের সংকট এসব বিষয়াদি কবিদের মানসপটে গভীর প্রভাব ফেলেছে। অনেক কবিতায় হতাশা, ক্ষোভ ও অসহায়ত্বের সুর ভেসে ওঠে। কবিতা কেবল শিল্প নয় বরং এটি প্রতিবাদের ভাষা ও প্রতীক হয়ে ওঠে। ফলে কবিতাগুলোতে আত্মপরিচয়ের বদলে ভাঙনের প্রতিধ্বনি, দ্বিধাগ্রস্ত ও প্রশ্নাকুল সমস্যার সৃষ্টি হয়। কবিতাগুলো সংকটের আবর্তের চোরাবালিতে নিমজ্জিত হয়ে ওঠে। কবিতার ভাষাগুলো ভাঙা, অসম্পূর্ণ ও খণ্ডিত থাকে। ছন্দ ভেঙে যায়, বাক্যগুলো থেমে যায়, অর্থ অস্পষ্ট থাকে। ভাষার ভাঙন রোধ করা যায় না, কবির মানসিক অবস্থাও স্থির থাকে না বরং প্রবহমান ভাঙনের ফলে বোধের প্রতিফলনে এক নতুন ইঙ্গিত ভেসে ওঠে।  যে ইঙ্গিতের কবিতা আবেগের বদলে বিমূর্ততা, আবেদনের বদলে বর্ণনাধর্মী হয়ে ওঠে। একটি স্থির সুসংহত ভাব না থাকলে ভাষাও স্থির থাকে না। কবি শামীম রেজার এপিটাফ কবিতায় বলেছিলেন,-ব্যর্থ প্রেমের গোপন পুষে রাখি মনে/ প্রেমের চিতার পাশে কে তুমি সংগোপনে?/ কিশোরি স্তন কেমন করে কুমারী চাঁদ হয়ে যায়/ এ রহস্য ফুল ফোটার, যা বলোনি আমায়।-আধুনিক কবিতা মূলত আত্মকেন্দ্রিক। ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতার ছোবলে প্রেমের বিরহ সুর ভেসে ওঠে এসময়ের কবিতায়। এখানে বাহ্যিক বাস্তবতার চেয়ে অন্তর্গত সত্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সুর ও ছন্দের চেয়ে ভাবই অধিক সত্য। ফলে আধুনিক কবিতা ও মনস্তত্ত্ব একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কবিতা লেখার জন্য কবিকে অনেক দিক বিবেচনা করতে হয়। যার ফলে কবিকে রূপকাশ্রয়ী হতে হয়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কবিতার ইতিহাসে রাজনৈতিক সংকট ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। কবি প্রতীক বা রূপকের আশ্রয় নেন। প্রতীক বা রূপকের মাধ্যমে অনেক রাজনৈতিক বিষয়ও কবিতায় লুকানো যায়। ইঙ্গিতধর্মী বা বিমূর্ততাও কবিতাকে শিল্পে রূপদান করে। জীবনাননন্দ যে নিঃসঙ্গতার বীজ বপন করেছিলেন সাম্প্রতিক কবিতা তাকে উত্তরাধুনিক সন্দেহের আলোয় পুনরায় পাঠ করে। তিনি ‘মৃত মানুষ’ কবিতায় ব্যক্ত করেছিলেন,“নীল আকাশের নিচে অনন্ত জলের নদী/ প্রণয়ের চেয়ে দায়িত¦ বিশিষ্টতর ছিল তার?/ বিলোল বায়ুর চেয়ে ছিল ঢের কৃতী শৃঙ্খলার/ বহু শতাব্দীর পরে মানুষের মতো স্বর পেয়ে/ এই সব প্রশ্ন তবু নয় আর মানবিকতার/ এখন গিয়েছে সব অস্ফুট বায়ুর মতো হয়ে।” এখানে নিঃসঙ্গতা আর প্রকৃতির আশ্রয়ে প্রশমিত হয় না বরং শহরের আলো—আঁধারি, হতাশা, আত্মকেন্দ্রিকতা, ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতা, নজরদারীর ভিতর আরও ঘনীভূত হয়। সাম্প্রতিক কবিতায় বাস্তব ও কৃত্রিমের এই বিভাজন ভেঙে পড়ে। অনুভূতি পর্যন্ত যে অনুকরণ, দুঃখ পর্যন্ত যেন পূর্বে দেখা কোনো দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি। জীবনানন্দ দাশের এই ভাবনা সাম্প্রতিক কবিতা পাঠককে কোনো অহেতুক দিক নির্দেশনা দেয় না বরং সাম্প্রতিক কবিতার সেই ক্লান্তিকে সেই অচেনাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে চেনাবার জন্য চেষ্টা করে।এই নিবন্ধকার তার “কে আমি” কবিতায় উচ্চারণ করেছিলেন, -এই যে আমি/ আসলে এই আমিটা আমি নই/ সে অদৃশ্যমান/ ছায়ার মতো অনুসরণ করে আমাকে/ কদাচিৎ দেখা হয় / মুখোমুখি থমকে দাঁড়াই তখন/ ক্ষণকাল/ মূহুর্তে তাকে হারিয়ে ফেলি/ ভুলে যাই।

 

 

বস্তুত সাম্প্রতিক কবিতার পাঠক এখানে নিরাপদ পর্যবেক্ষক নন। পাঠক সর্বদাই অর্থ তৈরির প্রক্রিয়ায় জড়িত। এক অস্থির অংশগ্রহণকারী। এই কবিতা পড়া মানে নিশ্চিত কোনো কিছু পাওয়া নয় বরং আরও অনিশ্চিত হওয়া, নিজের অবস্থান, বিশ্বাস ও ভাষা নিয়ে। এখানেই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কবিতার মৌলিকতা ও দার্শনিক শক্তি নিহিত। এটি আমাদের সান্ত্বনা  দেয় না। বরং বর্তমানের ভাঙনকে সৎভাবে স্বীকার করে। এই স্বীকারোক্তির মধ্যেই একটি নৈতিক অবস্থান তৈরি করে যেখানে ভেঙে পড়া, সন্দেহ তৈরি করা এবং অসম্পূর্ণ থাকা। কোনও ব্যর্থতা নয় বরং এই সময়ে মানুষ হয়ে থাকার সবচেয়ে সত্য উপায়। এগুলো এমন এক বৌদ্ধিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে যেখানে কবিতা আর অনুভূতির আশ্রয় নয় বরং অনুভূতির উপর অবিশ্বাসের ভাষা। যেখানে লেখা মানে শেষ কথা বলা নয়। মানুষ নিজেই এক চলমান ভাঙন যা প্রতিনিয়ত ভেঙে যাচ্ছে। যার পরিচয় প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া সময়, ক্ষমতা, ভাষা ও স্মৃতির চাপে। সাম্প্রতিক কবিতার কণ্ঠ তাই প্রায়ই অনিশ্চিত, থেমে যাওয়া, কখনো স্ববিরোধী, সে জানে ভাষা তাকে সম্পূর্ণ প্রকাশ করতে পারবে না। তবু ভাষার  ভিতরেই নিজের ভাঙন রেখে যাওয়া যেন ভাষাই তার শেষ স্বাক্ষী। জহুরুল ইসলাম তার ফেরা কবিতায় লিখেছিলেন,-এ পৃথিবীর এক পাশের হাড়/ হিম জমাট জলের মতোন/যেই যন্ত্রণা এসে খেলা করে/ রক্তের ভিতর/ সব মেঘের জলের থেকে তাপ এসে নামে/ এ কঙ্কাল শহরের গায়/ পাড়ায় পাড়ায়/ এ জলে আগুন জ্বলে/ পথে ঘাটে পাষাণ পাথরে/কুসুমের কোমল হৃদয়ে। কবিতা কেবল শিল্প নয় বরং এটি প্রতিবাদের ভাষা ও প্রতীক হয়ে ওঠে। কবিতাগুলো পাঠককে নৈতিক শিক্ষার বদলে এক অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যেও ঠেলে দেয়। যেখানে অর্থ খুঁজে পাওয়া নয়, বরং অর্থহীনতার সাথে বসবাস করাই মুখ্য। কবিতায় কবি প্রায়ই যুক্তিবাদী বর্ণনার বদলে অবচেতন প্রবাহকে প্রাধান্য দেন, যা কবিতাকে করে তোলে বহুমাত্রিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে গভীর। এমরান হাসান-এর দৃশ্যদূর পাঠ করলে এরকমই চির নান্দনিক বোধই ফুটে ওঠে-দেখছো যেটুকু, /সবটাই কবিতা/ চিনেছি—/পথ যেমন/ মৃত্যুর মেঘমেদুরতার বিপুল ক্ষয়িষ্ণু ছায়া/বাঁকে ফেরা রহস্য গল্পের বৃষ্টি যেমন…/ আহা! অতদূর হয়নিতো আঁকা/করুণ জলের রেখা।’ এখানেই সাম্প্রতিক কবিতার দার্শনিক ও মনস্তাত্ত্বিক শক্তি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন,-মানুষের অন্তরের সত্যই সাহিত্যের সত্য। সেই অন্তরের সত্যই আজকের কবিতায় নতুন রূপে, নতুন ভাষায়, নতুন ভাঙনে প্রকাশ পাচ্ছে। এটি আমাদের বলে না  কী ভাবতে হবে, বরং শেখায় কোন ভাবনা কতো অযৌক্তিক, অনিশ্চিত। এটি আমাদের আশ্বস্ত করে না। বরং জানায় যে অনিশ্চয়তার মধ্যেই সমসাময়িক নিজস্ব ভাবনাকে কবিতার ভাষায় ধরে রাখার ব্রত নিয়েই লিখে যাচ্ছেন সা¤প্রতিক সময়ের কবিরা তাদের কবিতা।

1 Comment

লেখাটির উপর আপনার অভিমত জানান।

Your email address will not be published. Required fields are marked *