গুচ্ছ কবিতাঃ তাপসী লাহা
গুচ্ছ কবিতাঃ তাপসী লাহা
ইংরাজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর। পেশা-শিক্ষকতা।প্রথম লেখা দ্বিতীয় শ্রেণীতে। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা তিন।
#১
হাথক দরপণ
এমন অসহ্য করো মনের যন্ত্রণা মুছে শুনতে পাইনি ঈশ্বর
তুকতাকের, তুতেনখামেনও একরকম জানতো না হত্যা বংশের সেরেস্তাদার, লিখে রেখেছে ফিউরি ও ফুৎকারে।
প্রবাদ থেকে দূরে একটিমাত্র কাপড়ের চির থেকে বালকটি ইতিহাসবাদ
দলিল দস্তাবিজে পড়িনি কোন লেখা চামড়ায় সিঁচে যায় নীল রঙের ভৌতিক ।
এই ক্ষমার ভেতর থেকে উঠে আসতে কতদিন লেগেছে ভুলে যাই সেসব কথা দিনের শেষ আলোয় মুখ দেখে রান্না শিখেছি হলুদ জ্যেৎস্নাভরাট
মায়াকাঁখে মুখের তর্পণসমেত
তোমারই তো আলো
উদগিরণ রাখে উর্বর শিশিরের নিষিক্ত শবগন্ধ, চাদরের রাত, আরো ফানুস হতে থাকা পুতুলের ভেজা ভেজা ছাপে
সুতীব্র হও, গর্ভ মনোহরা
সাবুদ ডানায় ঘূর্ণ ওড়া লিখবে একটি রাত আগামীর
পাখিদের কান্না থেমে বৃষ্টির তিতাস পায়ে আলতো চুমু সরে যাবে স্লেজশহরের উড়ালপুলে
পাহাড়গুলো গুঁড়ো গুঁড়ো তখন
রাস্তায় হাসবে হাথক দরপণ
জিগোলো শিল্পের কিছু শুধু।
#২
অছিলায়
এইটুকুই তো তফাৎ
কৃষ্ণকামী মেঘে তোমার হাতের মতো বিশাল হয়ে ওঠা
জানালার পর্দা ধরে রেখে দিনকে ডেকে ওঠো, হেই হো চলো,
এবার ফিরতে হবে
স্নানহীন দুদিনের গায়ে জামারা কমে আসে
তেলহীন প্রদীপের সন্ধ্যা ভুলে যায় কেউ কেউ
ভুল বানানের খাতা দেখে মনে পড়ে খেলার কথা
শব্দে উছ্বাসে অন্ধ হয়ে যাওয়া
বিকালের খুশি
রাংতা মোড়া স্খলন থেকে সরে দাঁড়ায় সূর্যের অবাধ রাজপাট
সংগমের কলি থেকে আধবোজা সন্ধ্যাকে বলি
এসো, গোধূলিতম,
আড়ষ্টের ধনুক ভেঙে জানালা করো
গরাদের গায়ে লেগে থাকুক উপহাস
জানে কে ও আসবে, চিঠির মত হালকা কুয়াশার মোটর চেপে, ইশারায় হাত দেখিয়ে নিয়ে যাবে অস্পষ্ট রাস্তায়,
ইচ্ছাদের অবাধ সঙ্গমে, ঝাঁপ দিয়ে লুফে নেবে কুপিত অরণ্যে।
#৩
বায়োম
খুলে পড়ে যন্ত্ররোদ, অস্থিরা বেড়েছিল পৌষের হাড়ে
কপোত কপোত হিমছোঁয়া হাওয়াতে হাসে ওরা
কমলা খায়, ইতিউতি খোসা
কাতারে কাতারে বাজার
বাজারে ঠেলা, কমলাওয়ালা, বেদানার ভুঁই
মাটি শোঁক, কী খরখরে, ছেলেদের সাদামাটা প্যান্ট
নোংরা লেগে যায়। রান্নাঘরে
মারা গেছে যারা, রক্তহীন এককড়াই দেহ থেকে ধোঁয়া, গন্ধ,
শিকারের মত সুন্দর
আঁশবটিকে ঘুম পাড়িয়ে জলভেজা, ঠান্ডা হাত
পিকনিক হবে নাকি
ডিম্ভাতে না হয় বড়জোর,
ট্যাঁক দুর্বল, রক্ত কিনতে শরীরের চেয়ে স্থূল, মোটা টাকা যদি নাই পেলে….
বেছে বেছে নাগরিক যত ডাইকরা, খুনের মতো আনন্দদিনে শীত করে যত, মনে ধরে রোদ, যেটুকুও ছিল
না জানি রাত কত প্রবল হবে
কৈলাশের বায়োমে।
#৪
দুষ্মন্তের ভ্রম
কঠিন পোড়া দেশে থাকতে থাকতে শিরদাঁড়া ভাঁজ খেয়ে যায়, জলে নামে নরম পাতার ঋতু
ঈর্ষায় সময়ের দস্তাবেজ লেখা হয় কঙ্কাল প্রদর্শিত ঘরে, মুখাবয়বে কতটা বিকৃতি, কতটা পুড়েছে চামড়া, রক্ত, মাস, কোটরাগত পোড়া চোখের শেষ সংলাপে ফোকাস চড়া, মন্দ বাতাস গুনগুন সুর ভাঁজে, মৃত্যুর সার, উপায়হীন ভাবে গন্ধভুক বাতাস টেনে তুলছে তুলোর যাপন, আঁশটে রক্তের শুকিয়ে তথ্য প্রমাণ লোপাট হলে হইহই জলে আষাঢ়ের আনন্দ ঢাক গুরগুর
সংকরশঙ্কায় বিবর্ণ একটা দিন, মেঘের জামা পরে ধূসর নীল সাদা পাড়ের, অবরোধ ডাকতে যেমন শ্বাস ক্ষয়ে যায়,দগ্ধ উল্লাসে নীতি পুরুষটি আয়োজন করে উহ্য নিবৃত্তি যজ্ঞের, স্থানিক ভালোবাসা উপলখন্ডের জলে রক্তের শেকড় ছড়ায়, বর্ণমালায় আঁকে, মথিত কৃষ্ণ চতুর্দশীর রাত। জান্তব মহাকর্ষ রন্ধ্রে রন্ধ্রে তর্ক নগ্নতায় বারুদ সংহিতা, সময়োচিত ছন্দে বোনে দিনান্তিক যাপন, চিৎকারে একটি মিথ্যা প্রচারণা তালি কুড়োয় রোদ মেঘের গোপন প্রত্যাঘাতে।
#৫
কম্পাস
বিকৃতিটা ঘটে দুতিনবার ডাকার পর,
প্রকাশ্যে আওয়াজ অনুমতি পেলে আসল গল্পটি অন্যরকম, হাতির দাঁতের মিথ, ভেজাল উদ্বাস্তু জনপদে কৃত্রিম তৈলচিত্রে মন্ত্রটি হেঁটে চলে ভুয়ো শরীরের বাস্তুকলায়, বিছানায় লেগে থাকা অন্ধকারে রুগী উপুড় হয় কল্পিত নিরাময়ে. সান্ধ্যশীল, বুনোলতা ফাটলের উত্তাপকে ঈশ্বর কণা বলে দেগে দিলে রেওয়াজী অক্ষাংশে নৈবেদ্য চড়ছে আগুনে ক্ষিদার, স্তর বিকিকিনি হয় কম্পাসের বাহ্যজ্ঞানহীন নেমে যাওয়ায়।
2 Comments
খুব সুন্দর। লিখতে থাকুন।
ধন্যবাদ আপনাকে