জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বাংলা একাডেমি, ঢাকা’য় কর্মরত।কবিতাই তার পটভূমি, বর্তমান আর অনিশ্চিত আগামী। উল্লেখযোগ্য কবিতার বই: নাচপ্রতিমার লাশ, মারবেল ফলের মওসুম, কুয়াশা ক্যাফে, নিঝুম মল্লার, গোলাপের নহবত, ক্ষুধা ও রেস্তোরার প্রতিবেশী, মুহুর্মুহু মিউ মিউ, মির্জা গালিব স্ট্রিট, অফ টপিক, এইসব মকারি, এ সকাল সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, ভুলে যাওয়া স্কার্টের সিঁড়ি ইত্যাদি।
#১
চল্লিশের কাছাকাছি
জীবন জটাজটিল তার কানে ঢেলো না আর গম্ভীরতার গান পারলে যত্ন করে লাগাও গাছ বানাও বালখিল্যতার বাগান চল্লিশ হওয়া তো তুমি ঠেকায়ে রাখতে পারবা না পারলে রুখে দাও চালশে হাওয়া চোখে পানির দরিয়া মেঘে মচমচ আকাশ জীবন ও কবিতায় তুমি কখনও ম্যাচিউর হয়ো না, জানো তো, প্রতিটি পরিণতি একপ্রকার সীমাবদ্ধতা যেমন ফণা তোলা সাপ বিষে সীমাবদ্ধ তুমি ক্রমশ আরও ইমম্যাচিউর,অসীম-অপার! চল্লিশ হয় হোক চালশে না হও, ভুল হোক ফুল হোক বয়স্ক দুনিয়ায় তুমিই হও সেরা বালখিল্যতার বাগান। মরার আগে তোমার প্রেম ঝরে যায় যাক, পৃথিবীর ভূমিহীন বসন্তে তোমার নামেই ঝরুক অমর চুমুর চরাচর।
#২ ধারা
আমার সঙ্গে আমার একটাই জীবন, দাঁড়ায়া আছে বসে পড়ছে দৌড় লাগাচ্ছে বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিচ্ছে কাক; রোদ তারে পুড়িয়ে দিচ্ছে খাক। একটাই জীবন; বহু মরণ মেখে গরমের দিনে খাবে কাঁচা আম খেতের মধ্যে পাকতে থাকবে হেমন্তের ধান একটাই জীবন; মাত্র দুইটা চোখের মধ্যে কত বিছানা পাতা! কারা ওইখানে শুয়ে শুয়ে গুণতে আছে ফকফকা পৃথিবীতে এলায়ে পড়া এত এত অমাবতী পাতার পাহারা?
#৩ যুদ্ধপ্রস্তুতি
তোমার শহরে সরাসরি যাই না আগে আশপাশ ঘুরি রেকি করি আনারসক্ষেত-লেবুবাগান এইসব রসাল জঙ্গল ঘুরে তরতাজা গেরিলা হয়ে তোমার শহরে ঢুকি; তোমাকে জয়ের যুদ্ধে নেমে দেখি আমি নিজেই এখন এক নেহায়েত ফল, তোমার ছুরিতে ফালি ফালি পরাজিত হয়ে তোমার শহরের সরল শরীরে ঢুকে পরবর্তী জটিল যুদ্ধের ঘাঁটি গাড়ছি; টকমধু মনে, কৌশলী রসে।
#৪
সারগাম
ঝরে যাব পলকা ও হালকা, তোমাকে দেখতে হবে লিটারেলি হলুদ পাতার পাহাড়; যতই খোঁজ করো মেলানকলি এ জগত সরল শয়তানি; বর্ষা-বসন্ত যা হোক চোখের আবহাওয়া রেইনি, সব খেলা শেষ হলে, তারপরই উইপিং ইনিংস শুরু হয়।