Email: info@kokshopoth.com
February 1, 2026
Kokshopoth

কবিতাগুচ্ছঃ শিশির আজম

Nov 14, 2025

কবিতাগুচ্ছঃ শিশির আজম

জন্ম ১৯৭৮, বাস- ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ। কবিতায় বসবাস। নিজের পরিচয়ে বলেন, ‘ tea poetry movement-এর উস্কানি দাতা।‘

এ পর্যন্ত প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ তেরো। প্রবন্ধ গ্রন্থ একটি, কবির কুয়াশা।

 

মেঘনাদ

 

‘পদার্থকে ভাঙা যায় নিঃশেষ করা যায় না।

একেকটি মানুষ

কোটি কোটি নক্ষত্রের চেয়ে রহস্যময়, আর ব্যক্তিগত

বহুমাত্রিক শিলাময়তায়

মনুমেন্টাল।’

বলেছিলেন বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা।

 

মেঘনাদ আমার বন্ধু,

ওর কথা আমি বিশ্বাস করেছিলাম।

 

‘নক্ষত্রের রাসায়নিক ও ভৌত ধর্মে

এতো কীসের তোমার অনুসন্ধিৎসা?’

জিগ্যেস করেছিলাম মেঘনাদকে।

 

‘আমি তো নিরন্ন অপমানিত মানুষেরই একজন।

আর এই মানুষেরা বেঁচে আছে কীভাবে,

কীসের শক্তিতে?

এটা আমি জানতে চাই,

সেই শক্তি অনুভব করতে চাই

নিজের ভেতর।’

 

 

 

 

জালালাবাদ

 

নীল আকাশে ঘোড়াগুলো

লাল আকাশে বাদুড়েরা।

ঘোড়াগুলোকে কেউ খেতে দেয় শাসকের পরিত্যক্ত জুতোর গন্ধ,

আমাদের গ্রহের ঘোড়াগুলোকে।

 

বাদুড়েরা চায় — অজানা গ্রহের বাদুড়েরা —

ঘোড়াগুলো বাদুড় হয়ে যাক। আর গাছেরা একদিন

প্রাণীতে রূপান্তরিত হবে,

তারাদের রাগ আর অনির্বচনীয় সৌন্দর্যের সরলতায়।

 

অথবা পাহাড় জালালাবাদের চিল

আর ঠোঁটে রাতের প্রয়োজনীয় খাদ্যকণা

নরম হয়ে

কিছু গোধূলিপাতায় কিছু পাকস্থলিতে।

 

কোন প্রাণী, হয় তো মৃত, হয় তো বা কম্যুনিস্ট,

মৃত্যুর অনেক বছর পর

ঘাসের ভিতর শ্বাস নেয় —

ঘাস, সবুজ থকথকে, অজানা দুর্ঘটনা!

 

 

 

 

রড

 

ঘাম লেগে গেছে হাতে, অন্যের হাতের।

 

ঝুলতে ঝুলতে এ গরমে কতক্ষণ?

 

ঘামে ভেজা হাত উনি সরিয়ে নিলেন, বাসের ঝুলানো

                                  শক্ত রড থেকে,

ছেড়ে দেবো ছেড়ে দেবো করে

                                  সেই শক্ত রড

                                              আরও শক্ত করে

আমি ধরলাম — হরপ্পা কলস অনিশ্চিত স্রোতোস্মান, অকস্মাৎ

বাসটা ঝাঁকুনি খেলো

রডে এসো গেল ফের ঘামে ভেজা সেই বাম হাত —

                                  কী জানি কী ভেবে কিংবা না ভেবেই

(সবকিছু কি ভাবতে হয় ছাই!)

আমি সেই বাম হাতটাকে

                                  ডান হাতের মর্যাদা দিলাম।

 

যেন ঘামে ভেজা বাসে কোন রড সেই!

 

 

 

 

শিকারি

 

কিছু মনে করবেন না

                আমার ঘরে রবিঠাকুর

                উল্টো টাঙানো

 

ওতেই স্বস্তি

 

পূজো করতে হয় না

                সঙ্গমরত অবস্থায়ও আমাকে আকৃষ্ট করে

               ওর

               রাজনীতিপ্রবন আধ্যাত্মবোধ

 

 

 

 


তুলোর বিড়াল

 

আপনার বড় মেয়ে ভাল, ছোট মেয়ে আরও ভাল।

 

আমি তো প্রতিদিন এপথে যাই

দেখি বড় মেয়ে দোতলায় রেলিঙের পাশে মেঘ

কখনও বা সেই মেঘ

সেই কুচি কুচি মেঘ ঢুকে গেছে আমার পকেটে।

 

তবে খোলা মন নিয়ে বলছি আপনার ছোট মেয়ে আজও অসুখে পড়েনি।

ওর ব্রণ নেই

দেবদারুবন নেই।

কিন্তু ভয় হয় ছাদে ও যেভাবে একাগ্র আদরণীয়তায়

তুলোর বিড়াল নিয়ে লোফালুফি খেলে

তাতে করে বিড়ালটা কোনদিন নিচে পড়ে যেতে পারে।

 

পড়ে ধোঁয়া হয়ে যেতে পারে!

1 Comment

লেখাটির উপর আপনার অভিমত জানান।

Your email address will not be published. Required fields are marked *