দেবব্রত রায়-এর এক গুচ্ছ কবিতা
দেবব্রত রায়-এর এক গুচ্ছ কবিতা

কবি দেবব্রতর নিজের কথায়
‘কবিতা ছাড়া, আমার পরিচয় দেবার কিছু নেই,’
# ১
বেশ করেছি-নখের আঁচড়-কামড়
এই-যে সাদা-খাতা, রাত-দখল, কার্নিভাল, স্যালাইন, ওষুধ…এইসব পাশাখেলা প্রথম ভাইরাল হয়েছিল,
একটা বাচ্চা-ভেড়া এবং নেকড়ের জল-এঁটোর হুমকিনামা দিয়ে
একটা 0-রও-যে এরকম দাঁত-নখ বেরিয়ে পড়তে পারে , স্বয়ং আর্যভট্টও কি, তা ঘুণাক্ষরে ভেবেছিলেন
অথবা, ডেমোক্রিটাস এবং জন ডাল্টন কি জানতেন, বাচ্চাদের টয়-হাউস থেকে যেকোনো মুহূর্তে, একটা বোমা বেরিয়ে আসতে পারে
জোর যার মুলুক তার-
দুব্লা-পাছায় হাঁকানো লাথি জানিয়ে দেয়, ওই গাছ, গুহার জলপড়ন, ওই পশু-মাংস এমনকী, তোর পাশে শোওয়া ওই মেয়ে-মানুষটাও আমার
যেহেতু একই ব্যাকটেরিয়া থেকে সুট-বুটের আমিও জন্মেছি তাই, আমার ভিতরে গিরগিটি, কেন্নো, কুকুর বাঁদর, গাধা…সবাই ঘুমিয়ে আছে
যখন যার ঘুম ভেঙে যায়, ওইসব সুট-বুট ছিঁড়েখুঁড়ে ফর্দাফাঁই হয়ে যায় তার চার-পায়ের, বেশ করেছি-নখের আঁচড়, কামড়ে
# ২
দুটো দীর্ঘশ্বাসের নাম, বুদ্ধ এবং চৈতন্য
গল্প এবং কবিতার মলিকিউল মেশানো থাকলে, ওষুধের প্রত্যেকটা স্ট্রিপেই, কুয়াশা ভাঙার ১০০% গ্যারান্টি লেখা থাকত
যদিও তেল ফুরিয়ে আসা সলতের কিম-আশ্চর্যম কাহিনি =গোলাপ প্লাস কাঁটা
এবং যাঁদের এরকমই, সৌর-সংসারময় জীবনে কলম্বাস, মার্কোপোলো টিউশন পড়ান, তাঁরা যদি ভাবেন, কয়েকটা রাত-দখল এবং লক্ষ্মণ-রেখা , টানলেই, আর-একটাও রামায়ণ-মহাভারত জন্মাবে না
তাঁদের জন্য দুটো দীর্ঘশ্বাসের নাম, বুদ্ধ এবং চৈতন্য
কুয়াশা ভেঙে মিস রোজি, আলো-হাওয়ার সূত্র পড়াতে এলেই, আসপাশের মোগাম্বোমার্কা জানলা-দরজাগুলো আড়-কপাটি হয়ে থাকে সুযোগের অপেক্ষায়
এবং
টুনটুন সাইজের পর্দাগুলো মর্নিং-ওয়াকের বদলে আবারও, একটা কুম্ভকর্ণ-ঘুমে পাশ ফিরে শোয়
# ৩
বয়ে চলার নাম ক্ষয়ে যাওয়া
বাইপাস ধরে হাঁটলেই, নজরে পড়ে, নদীর বুক ভেঙে বালি বোঝাই-লরি সার দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
কোদালের কোপে বালি তোলা দিয়ে শুরু হয় বুকের মতো, দু-পাড়ের ঘর-বাড়ি, মঠ, মসজিদ, খেত, খেলার মাঠ, ইশকুল ভাঙার অ আ ক খ
উদ্বাস্তু-সংখ্যার সঙ্গে নদীর বয়েস বাড়ে
কোদালের বাঁট গায়ে-গতরে আরও মজবুত হয় আর এভাবেই, বুক আর পীঠের দূরত্ব কমে আসে
নয়ডার রাস্তার ধারে লরি দাঁড় করিয়ে ভাত রাঁধে বাঁকুড়ার যুবক
আবার পাঞ্জাব থেকে আসা গাড়ির খালাসি বিড়াইয়ের পাড়ে ভাংড়া গায় , পৃথিবীর মতো, হাতের তালুতে গোল চাপাটি তৈরি করে
তাদের ট্রাকের পিছনে লেখা থাকে,
ড্রাইভার ছাড়ল গাড়ি
বউ রইল বাড়ি…এইসব সংসার-ভাঙা গানে নদীর দু-পাড়ের মতোই, যুবক-মন ক্ষয়ে যায়
# ৪
সোনার হরিণের দুটো অণ্ডকোষ
আয়রনসেফের মধ্যে ঘুম পাড়িয়ে রাখলে,
প্রাণ-ভ্রমরার কোথায় ছোঁয়াব জিয়নকাঠি
বেগুনপোড়া-আহ্লাদি বাঙালির হাতে পেট্রল-
কেরোসিন এবং মুঠোয় শুশুনিয়া, অযোধ্যা-
পাহাড়…
আপাতত, খাণ্ডবদাহনের উত্তরসূরী
# ৫
এই আঁচের পাঁচালিতে
একটা জল-বাতাসা, কাঁঠালকাঠের পিঁড়ির মঙ্গলকাব্যের জন্য দরকার মর্নিং-ওয়াকের সবে-ঘুমভাঙা-হাসি, খেত-খামার, গাছেদের ছায়ার সরটুকু দিয়ে তৈরি আলো-বাতাস আর একতারায় দোল খাওয়া দু-একটা নদী
অথচ
গাছের ছায়া, পাখিদের সংসার ফেলে আসা, দুটো কাকতাড়ুয়া-হাত মারীচ-খেদানো উল্লাসে বাস-ট্রাম-ট্যাক্সির মতো ঘুমভাঙা-হাসি, আলো-বাতাস, নদীদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে
এরকম
ঘড়ির কাঁটার টু-মিনিট্স-নুডুল্স-ব্যাস্ততায় , রবি ঠাকুরের তোতা কাহিনির গরাদগুলো আওড়াচ্ছে, স্যালাইনের বোতল ইজুক্যালটু, সোনার হরিণের দুটো অণ্ডকোষ
যেসব
ডানায় আকাশ এবং জলে নামা হাঁটুর পাশে পায়ের পাতারা থাকে না, তাদের শেকড়-বাকড়ের মাথা ভেজানো-এক-ঘটি জলও, নখ-দাঁত বের করে দক্ষিণ রায়ের গলা নকল করে, ভীষণ ল্যাজ নাড়াচ্ছে