#১
বাবার মতন
এই যে কি ভীষণ গরম পড়ছে আজ কাল, কোথাও বৃষ্টির বিশ্বাস নেই তবুও তো কিছু মানুষ চলেছে ছাতা হাতে। রোজ কত কি ঘটে যায়! কত আলো জ্বলে, নেবে! বেওয়ারিশ লাশ পড়ে থাকে। কবিতা ভেসে যায় রক্ত নদীতে; আমরা বরাবরই উদাস। আমরা এসব কে পরের ঝামেলা মনে করে পাশ কাটাই। অথচ শোক তাপ আয়ত্তে রেখে রোজ আসে যে ছোট্ট পাখিটি! কি যে তার নাম জানিনা। সে তিল তিল করে বাসা বুনে চলে উঠোনের আম গাছে। আপন পর বোঝে না ! বোঝে না গাছটির হয়তো নিদেন হাঁকা হয়ে গেছে।…এসব ভাবতে ভাবতেই বৃষ্টি এলো। কবিতার খাতা নিয়ে বসতেই বড় শীত করতে লাগলো। এমন শীত আগে করেনি তো। আগে কোনদিন দেখিনি রক্তে ভিজে যাওয়া কবিতার খাতা।
#২
জেব্রা ক্রসিং
পেরিয়ে যাচ্ছ পরম বিশ্বাসে
অথচ হৃদয় পুড়ছে। গলে গলে পড়ছে অস্থি চর্ম ঘাম ।কঙ্কাল সার!
তবুও কি ভরসা! কি আত্মপ্রত্যয়ী দীঘল পা! অবলীলায় বয়ে চলেছে ঘৃণা রাগ বিদ্বেষ। এ যাবৎ সেবন করে নেওয়া সমস্ত তোয়াজি মরশুম, অপাচ্য জনসভা, মৌন মিছিল হয়ে বেরিয়ে আসছে ক্ষিপ্র গতিতে।
এই ফাঁকে তুমি নীলকন্ঠ পাখিটির উড়ে যাওয়া দেখে নিতে ভুলছো না।ভুলছো না টুকরো ফোন কল, আবহাওয়া দপ্তরের বজ্র ঘোষণা।
তোমার হৃৎপিন্ডের পুনর্নিমাণে রাস্তা জুড়ে আঁকা হয়েছে জেব্রা ক্রসিং।
#৩
তুমি
দেরি করো নি একটুও
এই যে দুপুর জুড়ে কত কুরুশের কারু কাজে সংসার সাজিয়েছ
গোটা বিকেল কবি জন্মের প্রতীক্ষায়
ভরে তুলেছিলে কাগজের বুক অথৈ সঙ্গমে।আবার পরিপাটি স্নিগ্ধতায় ঘিরে ধুপ জ্বেলেছ, আরতির প্রদীপ।
অথচ সমস্ত উপকরণ সামনে রেখে
কিভাবে পেরিয়ে গেছ প্রতিটি সঙ্গমের
উচ্চারণ।
আজও দেরি করনি, যখন নক্ষত্রের ধুলো সরিয়ে একটি নিখাদ ভোরবেলা
তোমার আঁচলের খুঁটে বেঁধে রাখতে গেলাম তুমি মুখ ফেরালে। রূপকথার গল্প ভেঙে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালে উর্বশীর মত। তোমার না শব্দ টা বিন্দুমাত্র সময় নিলোনা।
নিজেকে প্রমাণ করার অবকাশ টুকু নষ্ট ফাইলের মত আশৌচ মেখে নিলো।
#৪
জানা- অজানা
আমি যাকে প্রেম জানি
সে তোমার ঘর সাজায়।
এতে আমার কি দোষ!
শুধু সম্পর্ক জানে কোন সুতোয়
কাকে বাঁধা যায়।
2 Comments
[…] বন্যা ব্যানার্জি-র গুচ্ছ কবিতা […]
খুব সুন্দর লেখা গুলো পড়লাম