বই নিয়ে আলোচনাঃ তৃষ্ণা বসাক
বই নিয়ে আলোচনাঃ তৃষ্ণা বসাক
তৃষ্ণা বসাক আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি অতিপরিচিত প্রিয় নাম। জন্ম কলকাতা । যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.ই. ও এম.টেক.। সরকারি মুদ্রণসংস্থায় প্রশাসনিক পদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শী অধ্যাপনা, সাহিত্য অকাদেমিতে অভিধান প্রকল্পের দায়িত্ব – বিচিত্র ও বিস্তৃত কর্মজীবন। বর্তমানে পূর্ণ সময়ের লেখক ও সম্পাদক। কবিতা, গল্প, উপন্যাস প্রবন্ধ মিলিয়ে গ্রন্থ সংখ্যা ৬৫-রও বেশি। সাহিত্য অকাদেমির ভ্রমণ অনুদান, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের ইলা চন্দ স্মৃতি পুরস্কার সহ পেয়েছেন অন্যান্য বহু পুরস্কার। হিন্দি, মালয়ালম, ওড়িয়া ভাষায় গল্প অনূদিত। মৈথিলী থেকে অনুবাদ ও কল্পবিজ্ঞান রচনায় সাবলীল ।
রবীন্দ্রগানের রূপসাগরে এক মগ্ন ডুবুরি
‘কবি বললেন, ‘আমার এ গান ছেড়েছে তার সকল অলংকার।’ তিনি তো বললেন ‘ছেড়েছে’, কিন্তু প্রকৃতই ছেড়েছে কি? রূপকল্পও তো অলংকার, কারণ রূপকল্প গান ও কবিতাকে বিস্তৃতি, ব্যাপকতা আর গভীরতা দান করে। শব্দের উচ্চারণের নামই তো ধ্বনি (ব্যঙ্গার্থে নয়)। ধ্বনিকে বাদ দিয়ে গান হবে কী করে? সুতরাং ছাড়াবো বললেই কি ছাড়ানো যায়? অনেক সময়ে ছাড়ানো তো যায়ই না, বরং সংঘাতের সৃষ্টি হয় – ধ্বনির সঙ্গে রূপকল্পের বা অর্থেরও আবার। এসব সংঘাত থেকেই, সংঘর্ষ থেকেই, জন্ম নেয় আলোক বিচ্ছুরণ। কখনো মনে হবে ‘ধ্বনি’ জয়লাভ করলো, কখনো মনে হবে ‘রূপকল্প’। আবার কবিতার ক্ষেত্রে বিশেষ করে অর্থেরই ‘জয়’ দেখতে অভ্যস্ত আমরা। ‘জয়’ অর্থে এখানে অন্য ধারণা। অর্থ যেন ছন্দ, ধ্বনি, রূপকল্প, অলংকার সবকিছুকেই সংঘর্ষের মধ্যে নিয়ে যেতে যেতে আত্মীকরণ করে ফেললো। তখন আর বোঝার উপায় নেই পৃথকভাবে কোনটি অর্থের সঙ্গে সংলগ্ন নয়। গানের ক্ষেত্রে সংঘর্ষটাই আসল কথা। ‘আজি শ্রাবণ ঘন গহন মোহে/ গোপন তব চরণ ফেলে/ নিশার মত নীরব ওহে/ সবার দিঠি এড়ায়ে এলে।’ রূপকল্পটি প্রেমিকের অভিসার প্রেমিকার কাছে। সে আসছে শ্রাবণের মেঘান্ধকার পার হয়ে নীরবে একাকী সবার দৃষ্টি এড়িয়ে। কিন্তু এই চিত্রের সঙ্গে প্রথমে ‘অ’ ধ্বনির ও ‘ন’ ধ্বনির বারবার ঝংকার যে-সংঘাতের সৃষ্টি করছে, তার থেকে বের হয়ে আসছে প্রাথমিক সুরের আদলটুকু। যেন আলাদা করে ভাবতে হবে না সুরের জন্য। এই সংঘাতের ফলেই গানটি অন্তত অর্ধেকের বেশি হয়ে উঠলো। সুতরাং ধ্বনি বা সুর নয়, এমনকি হয়তো অর্থও নয় ততোটা, যতোটা ‘রূপকল্প’ গানে তার স্থানটি নিশ্চিতভাবে আঁকড়ে ধরে থাকে। এখানেই রবীন্দ্রনাথের গানের রূপকল্প আলোচনার সার্থকতা। তিনি বললে কি হবে যে, ‘এ মণিহার’ তাঁকে সাজে না। মণিহার তিনি অন্য কাউকে পরাতে চান। কিন্তু মণিহার তো তাঁকে ছাড়বে না। তিনি যদি একলা ঘরে বসে বসে সুর বাজান, তাও সে-সুর হাওয়ায় ছড়িয়ে যায় আমাদের সকলের জন্য, সব ধ্বনি, সব ঝংকার, সব রূপকল্প নিয়ে। যে-তিনটি গান কথাচ্ছলে চলে এলো সে-তিনটি গানের মধ্যে – ‘এ মণিহার আমায় নাহি সাজে’ গানটি হচ্ছে, ইংল্যান্ডের গুণীজন যে প্রশংসার মালা রবীন্দ্রনাথকে পরিয়েছিলেন তার গান। শঙ্খ ঘোষ জানাচ্ছেন অজিত চক্রবর্তীর উদ্ধৃতি দিয়ে। তা যদি হয়, তাহলে সম্পূর্ণ গানটির ছবি একমাত্রার, যদিও নোবেল পুরস্কারকে প্রতীকী অর্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। যে-ছবি আমাদের সামনে চলে আসছে তা ওই একটাই। প্রতীক এখানে ঘনবদ্ধ উপমা। ঘনবদ্ধ উপমাও অবশ্য, বরং উপমাই অবশ্য রূপকল্পের কাজ করে। আমি বলতে চাইছি যে, কোনো বিশেষ লাইনে বা কয়েকটি লাইনে অলংকার ব্যবহার করা হলেই যে রূপকল্প হয়ে উঠবে বা উঠলেও মাত্রাধিক্য অর্জন করবে, এমন কোনো কথা নয়। কাজেই, লাইন বা পঙ্ক্তি উদ্ধার করে রূপকল্পের উদাহরণ দেওয়ার প্রবণতা থেকে যতোটা বিরত থাকা যায় ততোই ভালো। কবিতার ক্ষেত্রে যদিও বা সম্ভব, গানের ক্ষেত্রে এ-প্রবণতা অবশ্যই বর্জনীয়। গানে সামগ্রিক ছবি, সামগ্রিক আবেদনই বিচার্য। তবু কি গানটি প্রকৃতই একমাত্রিক রূপকল্পের? যদি আমরা নোবেল প্রাইজের ব্যাপারটা মনে না রাখি (এবং সেটাই বোধহয় সংগত) তাহলে সমগ্র গানটি থেকে যে চিত্ররূপ বের হয়ে আসে তা প্রেমিক-প্রেমিকার কথাচিত্র। এই গানটি শুনলে ঈশ্বরের কথা আমার মনে হয় না। কাজেই গানটির রূপকল্প একমাত্রিকেই থেকে যায় সেক্ষেত্রেও। কিন্তু ‘তুমি একলা ঘরে বসে বসে’ গানটি শুনলে তিনটি চিত্র মনে আসতে পারে।
১। কেউ একলা ঘরে বসে বসে সুর বাজাচ্ছে। এই চিত্রটির সঙ্গে ‘আমার জীবনে’ শব্দ দুটি যোগ করে দেওয়ায় ‘জীবন’ শব্দটি প্রতীকী দ্যোতনা পেয়ে যাচ্ছে। সে-দ্যোতনা কি বাদ্যযন্ত্রের? আমার আত্মসত্তাই বাদ্যযন্ত্রের মতো কাজ করছে তাঁর হাতে, এরকম মনে হবে না কি?
(রূপকল্প ও রবীন্দ্রনাথের গান, আনন্দ ঘোষ হাজরা, কালি ও কলম, জানুয়ারি ২০১৩)
বাংলা সাহিত্যে, গানে রবীন্দ্রনাথ এত বেশি জুড়ে আছেন, যে তাঁর গদ্য সাহিত্যে গানের ব্যবহার নিয়ে কৌতূহল থাকেই। তাঁর সঙ্গীতের ব্যবহার শুরু অনেক ছোট থেকেই।
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ তাঁহার জীবনস্মৃতিতে লিখেছেন – ‘…রাজপুত মহিলাদের চিতা প্রবেশের যে একটা দৃশ্য আছে, তাহাতে পূর্বে আমি গদ্যে একটা
বক্তৃতা রচনা করিয়া দিয়াছিলাম। … গদ্য রচনাটি এখানে একেবারেই খাপ খায় নাই বুঝিয়া, কিশোর রবি একেবারে আমাদের ঘরে আসিয়া হাজির। তিনি বলিলেন – এখানে পদ্য রচনা ছাড়া জোর বাঁধিতে পারে না।… আমি সময়াভাবের আপত্তি উত্থাপন করিলে, রবীন্দ্রনাথ অল্প সময়ের মধ্যেই ‘জ্বল্ জ্বল্ চিতা, দ্বিগুণ দ্বিগুণ’ এই গানটি রচনা করিয়া আনিয়া আমাদিগকে চমৎকৃত করিয়া দিলেন।’
রবীন্দ্রনাথ এদেশি ধ্রুপদী গায়কের মুখ ব্যাদান পছন্দ না করলেও, নিজের উপন্যাসে সেমি ক্লাসিকাল, এবং ভজন যথেষ্ট নিয়েছেন, নিয়েছেন লালনের গান। গোরা উপন্যাস শুরুই হচ্ছে খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কমনে আসে যায় দিয়ে। এখানেই একটা ইঙ্গিত আছে আমাদের খাঁচার ভেতরের বদ্ধ জীবনে এক অচিন পাখি আসবে, তা হয়তো গোরার নতুন করে ভারতবর্ষ আবিস্কার।
‘গানে কথার আবেগ যত টানে যতীনকে, তার চেয়ে বেশি টানে সুর। ভৈরবীর বাঁশি তার কাছে উৎসবের সুর, বেহাগের বাঁশিতে সে শোনে কান্না। বাস্তব জীবন যখন তার স্খলিত সুর হয়ে গেছে, তখনো তার অনুন্য ‘বেসুর করিস নে বোন’ আর হিমি বলে ‘সে কি হয়। তোমার কাছেই তো সুর শেখা’ জীবনকে সুর ঋদ্ধ করে তলায় তাদের প্রয়াসের খবর রাখেন মাসি। ওরা দুই ভাইবোন এক জাতের। দাদা বাড়ি করছেন, ইনি গান করছেন দুটোতেই একই সুরের খেলা।
(গানের নাটক, নাটকে গান, আলপনা রায় দেজ ২০১৭ )
গান নির্ভর গল্প উপন্যাস বাংলায় অনেক লেখা হয়েছে। বংকিমচন্দ্র নিজে দক্ষ গায়ক ছিলেন, তাঁর অনেক উপন্যাসেই গান আছে। ‘বিষবৃক্ষে’-র বোষ্টমী বা ইন্দিরায় ছোট মেয়েদের গান পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করেছে। আনন্দমঠের গানটি তো আজ জাতীয় স্তোত্র।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অথৈ জল এক যাত্রা শিল্পীকে নিয়ে। তাঁর বারিক অপেরা পার্টি এবং আরও অনেক গল্পে যাত্রা গান, কীর্তন গায়ক গায়িকার কথা এসেছে বারবার।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝিতে হোসেন মিয়াঁর লেখা গান তার চরিত্রকে বুঝতে সহায়ক।
অদ্বৈত মল্লবর্মণের তিতাস একটি নদীর নামেও গান এসেছে নদীর জোয়ার ভাঁটার মতো।
সতীনাথ ভাদুড়ীর ঢোঁড়াই চরিত মানসে যেমন আছে তুলসীদাসী পদ, তেমনি মেয়েলি, খানিক অশ্লীল বিয়ের গানও।
কর্মা ধর্মার চাঁদনী রাতে
পাটের ক্ষেত নড়ছে কেন?
এতোয়ারীর সাদা মাথায়
চাঁদের আলো পড়ছে কেন?
বড্ড বেশি নড়ছে যেন…
নরেন্দ্রনাথ মিত্রের এক ক্লাসিকাল গানের ব্যর্থ ছাত্রীকে নিয়ে গল্প মন দ্রব করে দেয়।
দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অশ্বমেধের ঘোড়া, সানাই, গান গল্পগুলোতে অন্তর্লীন সঙ্গীত চমকে দেয় পাঠককে।
একইসঙ্গে ধ্রুপদী ও লোকগানের ভক্ত সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক বিখ্যাত ধ্রুপদী সঙ্গীত শিল্পীকে নিয়ে যেমন উপন্যাস লিখেছেন , তেমনি লালন ফকিরকে নিয়ে লিখেছেন মনের মানুষ।
বুদ্ধদেব গুহ নিজে ভাল গান জানতেন। তাঁর গল্প উপন্যাসে তাই চরিত্রের মেজাজ তৈরিতে তিনি গানের অনবদ্য ব্যবহার করেছেন।
কথাকার সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের অনেক উপন্যাসের শরীরে মিশে থাকে সুর। তাঁর রসিক যেমন ঝুমুর গানের অবক্ষয়ী শিল্পের ছবি তুলে ধরে, তেমনি আয় মন বেড়াতে যাবি- তে তিনি ধরে রেখেছেন রামপ্রসাদী গানের বিস্তার।
আবুল বাশারের সুরের সাম্পানের গীতলতা মনকে স্পর্শ করেছিল, তারপর বাশার সে নিয়ে তেমন কাজ করলেন না।
বাংলায় সঙ্গীতশিল্পীর জীবন নিয়ে তেমন উপন্যাস নেই। বাণী বসুর গান্ধর্বী এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। সাধারণ ঘরের একটি মেয়ের গানের স্বপ্ন কীভাবে দলিত হয়, তার ছবি পাই এই উপন্যাসে। সাম্প্রতিক কালে সলিল চৌধুরীকে নিয়ে উপন্যাস লিখেছেন তৃণাঞ্জন চক্রবর্তী ।
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মালব কৌশিক সঙ্গীত ভিত্তিক একটি মহান উপন্যাস।
একটু ব্যক্তিগত কথা হয়ে যাবে, তাও বলি, আমার ‘দূরে আকাশ শামিয়ানা’ উপন্যাস শেষের পথে, যেখানে উঠে এসেছে লতা মঙ্গেশকর এবং এক অখ্যাত গায়িকার সমান্তরাল জীবন ।
মূলত রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে চমৎকার স্মৃতিগদ্য রুশতী সেনের ‘স্মৃতিকথার এ- ও এক চলন’ যেখানে আমরা পাই তাঁর বিভিন্ন রবীন্দ্রগান শোনার অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। আর একটি বই আমার প্রিয় পঁচিশটি রবীন্দ্রসঙ্গীত, যেখানে নানাজনের প্রিয় পঁচিশটি রবীন্দ্রসংগীতের কথা উঠে এসেছে। এই ঘরানার একটি চমৎকার বই হাতে এল- ‘গান দিয়ে যে তোমায় খুঁজি’। এই একটা বই যা কিনা রবীন্দ্রগান আশ্রয়ী একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের সাক্ষী। রবীন্দনাথের গানকে জড়িয়ে শ্রবণ ও হৃদয় অনুভবকে উদযাপন করা। যেমন ছোটবেলায় বন্ধুদের স্ল্যাম বুক দেখে আমরা প্রত্যেকেই দোকান থেকে প্রথাগত স্ল্যাম বুক না কিনতে পারলেও, পুরনো ডায়েরির পাতায় নিজের মতো করে বন্ধুদের তত্ত্বতালাশ লিখে রাখতাম, তেমনি এই বই পড়ে আমাদেরও ইচ্ছে হবে এইরকম এক ব্যক্তিগত রবীন্দ্রগানের অ্যালবাম বানাতে। এক একটি বিষয় ধরেছেন মৈনাক, তারপর তার চারপাশে প্রিয় কিছু গানকে সাজিয়েছেন তাঁর অঞ্জলিপুটে। গান ধরে ধরে লেখকের অনুভব আমাদের চমকে দ্যায়। কখনও মনে হয়, এ গান আমিও তো শুনেছি, কিন্তু এমন ভাবিনি তো!। কখনো উশকে দ্যায় ভাবতে। গানটি গান হয়ে ছিল শুধু, ভাবনাটি চাপা পড়ে ছিল মনের কোন অতলে । এ বই পড়ার পর অনেকেরই ইচ্ছে হবে এমন একটি ব্যক্তিগত বই লিখতে, যা ছাপার দরকার নেই হয়তো, নিজে পড়া হবে, নিজেই শোনা হবে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ‘কোন ভাঙনের পথে’ শিরোনামের নিবন্ধে মৈনাক লিখেছেন ‘মনে হঠাৎ এল এক অমোঘ প্রশ্ন। ভাঙ্গা-গড়ার নিরন্তর খেলাই কি জাগরণ? উত্তরের আশায় হাত পাতলাম আমার একান্ত আশ্রয় রবীন্দ্রনাথের কাছে। তিনি শিখিয়ে দিলেন সব প্রশ্নের পরিসমাপ্তি উত্তরে নয়। প্রণিপাত ও পরিপ্রশ্নের পথ ধরে এগিয়ে চলার খেলা, ভাঙ্গা পথের রাঙ্গা ধুলো মেখে দুখ জাগানিয়াকে জীবন গান শোনানোর অভীপ্সা, বহু ভাঙ্গা নায়ে চড়ে আনন্দের সাগর অতিক্রম করে দুঃখদিনের রক্ত কমলকে আনন্দ ভৈরবীর রঙে রাঙ্গিয়ে নেওয়া- এ সবই জীবনের স্পন্দন, এক অনন্ত অভিযাত্রা। রবীন্দ্রনাথের ভাঙনে একটা উত্তরণ আছে, আছে মাভৈ, বাণীর ভরসা।
সব জায়গার দুয়ার ভেঙ্গে জ্যোতির্ম্যয় আসেন । অন্তরলোকে হয় তিমির বিদার উদার অভ্যুদয়, মন গেয়ে ওঠে-
‘ স্বপ্ন যদি ভাঙ্গিলে রজনীপ্রভাতে
পূর্ণ করো হইয়া মঙ্গল কিরণে’
এই ব্যতিক্রমী গ্রন্থের সঙ্গে আছে বেশ কিছু সুন্দর হাতে আঁকা ছবি (শিল্পী অংকিতা স্যান্যাল)। আর একটি অভিনব প্রাপ্তি – বইয়ে মুদ্রিত কিউ আর কোড স্ক্যান করলে শোনা যাবে ডঃ তানিয়া দাশের কণ্ঠে রবীন্দ্রগান।
এ বই -র একটাই ত্রুটি। এত বিখ্যাত মানুষের আশীর্বাণী কীসের দরকার? এগুলি বইটির গুরুত্ব এবং তন্ময়তাকে কোথায় যেন ব্যহত করে। এগুলো বাদ দিয়ে, বইটি আরও নিভৃতি নিয়ে চুপি চুপি আসতে পারত।
গান দিয়ে যে তোমায় খুঁজি
মৈনাক চক্রবর্তী
পেনপ্রিন্টস
প্রচ্ছদ- সুপ্রিয় চক্র ব র্তী
প্রথম সংস্করণ বৈশাখ ১৪৩২
মূল্য -৩৯৯ টাকা