দ্বীপ সরকার
কবিতা/ কবিতাগুচ্ছ
দ্বীপ সরকার
#১
গোলক
গোলকধাঁধার চত্বরে, একটা অতীত ঘুরপাক খাচ্ছে
অজস্র ঘূর্ণনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি,বোঁ বোঁ করে
অতীত ঘুরে ফিরে,ঘিরে ধরেছে পথের পা-দুটো
আমাদের চোখ নিয়ে,অভিশাপ বিক্রি করো না
বরং হেমন্তের টানে রোদ ভিরুক, জীবনে
জখমগুলো আমাদের বাগানের মতো রঙিন
বিরহগুলো আলোকসজ্জিত বেরিকেড-
এর ভেতরে ঢুকে পড়ো না-মরে যাবে
যতই স্মৃতির ভেতর হাঁটছি,একেকটা পাহাড় টপকাই
মনে পড়ে,বাঁ পায়ের রঙিন ক্ষত,চিকচিকে-
আমার পরাজিত চোখে, বিভ্রান্ত দ্বিধা
নিজেকে প্রশ্নের ভেতর রেখে,আফসোস গিলি
কোন পথ,কোন ছায়া-অবুঝের মতো আসে
কেউ কি জানে?
একদিন যাকে সঁপেছিলাম ঠোঁটের সংলাপ
সে কিনা,অচেনা বাদুরের মতো ঝুলে আছে
#২
বর্শি
ছিপছিপে বর্শির টানে ঝুলে গেছে আমি
সুদূর উচ্চে,গ্রন্থীতে সিঁধেছে আলপিন
ব্যাথারে বলেছি,সুখ বনে যাও
মুগ্ধতার বিষে,পরিপক্ক হেঁচকা টান
তবুও ভেতরে-ছিঁড়ছে না কিছুই
ধমনীর খোপে খোপে ছড়িয়ে আছে ইঙ্গিত
টানের স্রোতে ডলফিনের মতো উড়াল
প্রেমের মতোই,উড়ে দেই দৃষ্টির নন্দন
হয়তো চিনি তারে,গহীন চোখের সংকেতে
একেকটা বর্শির টান- অতি পরিচিত
অস্পষ্ট অথচ চেনার মতোই আড়াল
আলো নেই,তবুও চিনি সহজ শর্তে
একটা পিঙ্গলেশ্বরী দুঃখ
ভেতরে বয়ে যাচ্ছে চোখদ্বয়
দাগটানা আঙুলে মুচকি হাসির তই তই
তাকে কত করে বলেছি,‘হাসো না সই’
বর্শির মতো টান লাগে হৃদয়।
#৩
ডিঙ্গি
জলের সাথে আড়ি আমার,বহুদিনের
বহু স্রোত যায় আসে,বহু ঋণ আসে য়ায়
কিসের চিহ্ন গেঁথে আছে ঠোঁটে
ওই সব স্রোতে,ভাসিনি কখনও
চেয়েছিলাম ভাসি,ঋণে লিখি নাম
চোখে পড়ুক ভিন্ন অভিজ্ঞতার আলোকরশ্মি
নন্দিনীদের মতো,কাঁপুক চোখের সংকেত
আমি পাইনি কোন হাত,ভাসবার
একটা ডিঙ্গি থেকে ফসকে পড়ি,ভাবি
অজজ্র গভীরে,স্রোতে চলে যাচ্ছে
কুসুমঘরে বৃথা ডানা ঝাপটাচ্ছে অন্ধকার-
একবার,পা ফসকে পড়ে যাই
#৪
ফ্যাসিবাদি শহরে
যে শহরে,আলো নেই-সেখানে
দিশার বিপরীতে নাম লিখেছি আমরা
থোকা থোকা অন্ধকার,ফ্লাইওভার পেরিয়ে
মন্দিরে জমেছে অবিকল সিজদা,নকল নবিশ
যে শহরে স্লোগান নেই,মিথ ভাঙ্গেনি যুবারা
ঘস্তরেখায় বিপ্লবের ঋণ ফোটেনি কখনও
জলভরাটের মতো অভিশাপ কাঁপে-
নন্দিনীদের শিল্পীত কাঁখে
নিয়তির মতোই ধ্বংস-রঙিন ফিতার শিষে
তাবেদারি ও লিপ্সার মুখগুলো স্পষ্ট
এই শহরের পাতায় পাতায় তোমাদের নাম নাই
বরং গণিকাদের ইতিহাস ছাপা অক্ষরে,স্পষ্ট
মোড়ে মোড়ে এখন যে মিছিলের রিপু
তোমরাও রক্ত রেখে যাও,কিছ
ফ্যাসিবাদ শহরে, তোমরাও নাম লিখো