মা–কে নিবেদিত
(১)
মাকে কতই বলতে পারিনি,
কিছুতে তার জানার কথা নয়,
কাল স্বপ্নে দেখেছি আমি তাকে,
কপালে হাত রাখছে, আর ধোঁয়া
উঠছে বাজে পোড়া গাছের থেকে,
প্রতিটি বার স্পর্শের সময়।
(২)
খুব দ্রুত সরে যাচ্ছে ট্রেনের জানালা,
পুরোনো কাঠের ফ্রেম, কয়লার ধোঁয়া,
ছবিরা পাল্টায় যত, বদলায় ভূগোল,
একটি শুধু থেকে যায়, স্থির, অবিকল,
প্ল্যাটফর্মে মায়ের মুখ; অস্থির দ্রাঘিমা
সরে যায়, আর, কানে বাজে তীব্র বাঁশি,
সে স্বর ছাপিয়ে বলি, ‘যাই’ বলতে নেই, বলো ‘আসি’।
(৩)
অভাব ছিল সোনা-রঙের আলো,
ঘরের কোণে থাবা চাটত ভয়,
দু’টি মানুষ শিরস্ত্রাণহীন,
মায়ের চোখে শিশুর বিস্ময়।
পিতাটি ছিল ভোলা মহেশ্বর,
সিকে আধুলি লেখা খেরোর খাতায়,
অপুষ্টিতে রোগা হাতের মৃণাল
সামলেছিল কুঁড়ি পদ্ম-পাতায়।
(৪)
কত কাটাকুটি, কত ভুলভাল,
কত প্রতিবাদ, অপরিশোধ্য
কত ঋণ গেছে ক্ষমার অযোগ্য
অসম-বয়সি যুদ্ধে।
অদূরে নদীটি সুজাতার মতো
জলধারাময়, প্রণত শান্ত বুদ্ধে।
(৫)
আমার মা-র গায়ে
আকাশ থেকে কয়েক ফোঁটা ফুল
ঝরল, আর তখনই তাকে ঘিরে
পলাশ-রঙা শিখার সে কী নাচ!
দেবভোগ্য অন্ন রাঁধা হল,
মায়ের মুখে সে উনুনের আঁচ।
————–
2 Comments
[…] তীর্থঙ্কর দাশ পুরকায়স্থ-র কবিতা […]
চিত্রে জাগল যে / বিমল পুরাণ…