Email: info@kokshopoth.com
February 1, 2026
Kokshopoth

গল্পঃ শাম্ব

Nov 21, 2025

গল্পঃ শাম্ব

জন্ম উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভাটপাড়ায়। ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাবিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ । প্রকাশিত দুটি কাব্যগ্রন্থ অন্নদা(বান্ধবনগর) এবং শল্য গানে জাগো(গদ্যপদ্যপ্রবন্ধ)। বান্ধবনগর পত্রিকায় সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত।

 

ক্যামোফ্লাজ 

 

কুয়োর জলে বারবার নতুন বালতি ফেলে জলটাকে নাড়িয়ে দিলে যে বৃত্তাকার ঢেউ উঠে অদৃশ্য হয়ে যায় ফের, চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমার স্বভাবটা এমনই, বেয়াকুব ধরণের। সবকটা চরিত্রকে নিজের ছাঁচে ফেলে শরীরটাকে বাজিয়ে দেখতে ইচ্ছে করে। 

 রেলিং ধরে হেঁটে চলা বেড়ালটা ব্যাঘ্র-লাফ দিয়ে  আরশোলাটাকে বেশ বাগে এনে ফেলেছে—

     যেহেতু এই নাটকের পরিচালক আমিই, ফলত খাদ্য অথবা খাদক, যে কোন চরিত্রেই প্লেস করা যায় নিজেকে।

   বেড়ালটার দিকে তাকালাম একবার। পাঞ্জার প্যাঁচে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে এসেছে পতঙ্গটা।

      এ মুহূর্তে ঠিক কোন চরিত্রে নিজেকে নিয়ে গিয়ে ফেলব এই দ্বন্দ্বটা আমার শরীরের দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পায়ে’পা ফেলে হাঁটছে , খুলে যাওয়া জুতোর ফিতে বেঁধে নিচ্ছে নীচু হয়ে, দশ টাকার বদলে একশো টাকার নোট ভাঙিয়ে দিতে পারবে না বলায়, দোকানির সঙ্গে বেশ খানিক হল্লা-হট্টোগোলের পরে চা-এর ভাঁড়খানা ডাস্টবিনের বদলে মাটিতে ফেলে গোড়ালি দিয়ে মাড়িয়ে-গুঁড়িয়ে দিচ্ছে একেবারে—ফলত বেশ সুরসুর করছে নাকটা!

  (যদিও আস্ত একটা দ্বন্দ্বকে শরীরে বয়ে নিয়ে চলার বিপদ এই, পায়’ পা জড়িয়ে অঘটনের সম্ভবনাময় কক্ষপথের ধার ঘেঁষে হাঁটতে হয় সবসময়।)

 

      চা-দোকানে ধর্মীয় উত্তেজনা এবং বাজারদরের বিষয়ে বেশ উত্তেজিত বাদানুবাদ চলছিলো লোকজনের মধ্যে। আমারও ইচ্ছে, এ প্রসঙ্গে দু’একটা বক্তব্য বেশ ঝাঁঝের সঙ্গে পেশ করি। চোরা মুখটাকে খুব ধারালো করে নিয়ে গলা ফুলিয়ে কিছু বলতে যেতেই ভোরের সেই ‘ঘরঘর ঘরঘর’ শব্দটা ফের কানে এসে বিঁধলো।  

   একটা মিছিল, এগিয়ে আসছে এদিকেই, কেমন চক্কর কাটা মৌমাছির মতোন, বোঁ…বোঁ…বোঁ… 

     ভোরে ,যখন ঘুম-স্বপ্ন-জাগা এমনই একটা ধোঁয়াটে পরিবেশে ভেসে বেড়ায় শরীর, তখনই আওয়াজটা কানে আসে প্রথম। ঘুমটা ভেঙে গিয়ে মনে হয়েছিলো বিলুপ্তপ্রায় জনগোষ্ঠির কোন নেতা বেশ গুরুতর কথা বলতে চাইছে আমার সঙ্গে।  

     আসলে আশপাশের পরিবেশটা আজ এতো নাটুকে বলেই বোধহয় ক্যাসিনো-বোর্ডের মতো একটা মেঘ ঘুরছে মাথার ওপরে। আর আমার শরীরটা একটা ঘুঁটি। বোর্ডের এক-একটা ঘরে পড়ে একেক রকম হয়ে উঠছে ক্রমশ। 

 

     ছাতা নেই। বুকের পাটাও বেশ নড়বড়ে ইদানীং। ফলত মেঘ ও মিছিল এড়িয়ে শহরের এই থলের মধ্যে ঢুকে পড়াই উচিৎ বলে মনে হলো। মিছিলের ভাবগতি মেঘের থেকেও এককাঠি বেশি বিপজ্জনক। ফলত , কয়েকটা চুমুক বাকি রেখেই চা’এর ভাঁড়খানা ডাস্টবিনের বদলে মাটিতে ফেলে মেট্রোস্টেশনের ভেতরে ঢুকতে যাব, খুচরো নিয়ে বেশ একটা গোল বেঁধে যায় দোকানির সঙ্গে!

 

      এতোগুলা দ্বন্দ্ব, এতোগুলা চরিত্রের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে পায়ের তলাটা আঠালো হয়ে উঠছে । রেলের ঘড়িতে দু’টো চোদ্দ। একদিকে ভালোই হয়েছে, এ মুহুর্তে একটা ট্রেন পাওয়া গেলে বেশ খানিক আগে পৌঁছে রুহুলকে খুঁজে দেখা যায়। যদিও রুহুলকে খুঁজে পাওয়ার ব্যপারটা খুবই আনফরচ্যুনেট, বেশ খটমট একটা জন্মান্তরের মতো ।

    রুহুলের কাছে ফিরে যাবার কারণটাওতো বেশ আনফরচ্যুনেট একটা অভিসন্ধি।

        এইযে, সকাল থেকে এতোগুলা চরিত্র আমাকে চেজ্ করছে তার কারণ বোধহয় এইই…আমিও ছুটে বেড়াচ্ছি হারিয়ে যাওয়া চরিত্রগুলোর পেছনে । বিষয়টা একটা বুমেরাং-এর মতোন, কপালে ঠোক্কর খেয়ে আবার ফিরে যাচ্ছে শূন্যে!

   এর আগে তো চরিত্রবণ্টনের ক্ষেত্রে এই পথ আমাকে অবলম্বন করতে হয়নি কখনো। অভিনেতাদের মুখ ও  মুখোশ মাথায় রেখেই হাত দিয়েছি সংলাপ লেখার কাজে। বেশ সফলও হয়েছি বলা যায়। গতকাল রাতে এই নাটকের শেষ যতিটি বসিয়ে দেওয়ার পর থেকেই চরিত্রগুলো ক্রমশ ট্রিগার করছে আমাকে। মানে, টেনে নিয়ে যেতে চাইছে, খুব কাছাকাছি একটা জলাশয়ে!

 

     বেশ একপশলা বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে মেট্রোয় থাকা এই পঁচিশ মিনিটে। রাস্তাঘাট ভেজা। পায়ের তলা আঠালো।লোকজনের পায়ে-পায়ে জলকাদা উঠে এসেছে শান বাঁধানো স্টেশন চত্বরে। এখন বেশ ঠান্ডা একটা আবহাওয়া। হাতে সময়ও আছে বেশ খানিক। সামনের দোকান থেকে আর এক ভাঁড় চা খেয়ে বাকিটা তারপর—

  দোকানের একটা খুলে রাখা পাল্লার ওপরে চায়ের ভাঁড়টা রেখে সিগারেট টানতে টানতে সামনের দেওয়ালে একটা লেখার ওপর থমকে গেল চোখটা, ‘নেতাজী জীবিত। ফিরে আসবেন নেতার বেশেই’ 

 

    ফাঁকা এবং সন্ত্রাসজনক ভাবে মঞ্চটা ভেসে বেড়াচ্ছে চারপাশে। ‘রুহুল জীবিত’ পৃথিবীর সমস্ত জড় এবং  অজড় বস্তু এই বিষয়টা যেনো খুব সকাল থেকেই পরিস্কার করে নিতে চাইছে ভেতরে ভেতরে। অন্য সময় হলে এই দেওয়াল-লিখন এতোটা গুরুতর রহস্যময় মনে হতো না। আজ যদি দন্দ সমেত শরীরটাকে টানতে টানতে লেখাটার মুখোমুখি নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাই, তাহলে হয়তো পরের দৃশ্যের জন্যে পরিবর্তন করে দেওয়া হবে সেটটা। চক্ষুপরীক্ষক বেশ হাইপাওয়ারের দুটো কাঁচ আমার দু’চোখে আটকে দিয়ে বলবেন, ‘কি লেখা আছে বলুন তো সামনের বোর্ডে?’

 

     —’রুহুল জীবিত…’ 

 

    চোখটা বুজে আসছে মাঝে মাঝে। ইদানীং দুপুরের পর থেকে এই অভ্যেসটা ভিখিরির গলার মাদুলির মতোন বেশ ঠুঁটো করে দেয় শরীরটাকে।

   খুব অনটনের মধ্যে পরে গিয়েছিলো মনটা। রুহুলের এনজিওতে নিজেকে যুক্ত করার কারণটা আসলে একটা স্টান্ট। জনদরদ দেখানোটাও একপ্রকার স্টান্টই বটে আমার কাছে। আর নিষিদ্ধপল্লীর মতো একটা মঞ্চ পেলে তো আর কথাই নেই!  দুরূহ একটা ক্যামোফ্লাজ কাজ করে ভেতরে ভেতরে। যতোই আড়াল রাখিনা কেনো, দম নেবার জন্যে মুখোশটা খুলে ফেল্লেই দাঁতে ধার দেওয়া কামুক বাসনা গুলো চকচক করে ওঠে মূহুর্তে —

 

      খানিক ইতস্তত ভাবেই ডোরবেলটা বাজালাম। দরজা খুলে যিনি ভেতরে নিয়ে এলেন আমাকে তার দৃষ্টি পুরনো কাঁটাগাছের মতো খর ও নিশ্চল।

    ঘরের ঠিক মাঝখানে একটা পেল্লায় সেলাইমেশিন খুব দর্পের সঙ্গে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে (পিয়ানো ভেবেছিলাম প্রথমটায়)। ঘরে ঢুকেই যেন প্রথম দফাতেই চোখ পড়ে ওটাতে। 

 

       কোথাও ডুগডুগি বাজছে। ঘরের বাইরে থেকে আসছে আওয়াজটা। এই শব্দটা শুনলেই মনে হয়, পরিয়ায়ী সন্ধেবেলা একটা বিদ্রূপ অপ্সরার পোশাকে খুব কাছে এসে দাঁড়ালো। দাঁড়ালো বলতে, ইচ্ছাকৃত একটা প্রোভোকেশন আর কি—গা গুলিয়ে ওঠে। অনিচ্ছার সহবাসের মধ্যেও যে অনিবার্য পতন ও প্রতিক্রিয়ার গ্রহাণু থেকে ছিটকে বেড়িয়ে আসা মানুষ হারিয়ে ফেলে নিজের চরিত্র, তখন ঠিক কি তার পরিচয়? পোষাকই বা কি? 

   একটা ছদ্মবেশ হারিয়ে গেলে পরের ছদ্মবেশ পর্যন্ত নিজেকে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া বাঁদর-নাচের মতো সম্পূর্ণ রাস্তাটাই আসলে একটা উলঙ্গ মানুষের প্রকৃত পরিচয়।

  

     ঘরের চারদিকটা দেখে নিতে হবে এবার। খেয়াল করলাম চারটে দেওয়ালই পাহাড়প্রমাণ আয়না দিয়ে ঢাকা। ওদিকে তাকালে মনে হচ্ছে আমিই ঘিরে ফেলেছি আমাকে।

   মৃত্যুর আগে জলের মধ্যে নিজেকে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখিয়ে পাপ মনে করানোর একরকম প্রথা ছিলো প্রাচীন জনগোষ্ঠীর মধ্যে। আজ হয়তো তারা বিলুপ্ত। রুহুলের মতোন হারিয়ে গিয়েছে কোথাও। 

 

          মাথাটা  ঘুরে গেলো একবার। না, চাকা লাগানো আয়নাসুদ্ধ দেওয়ালগুলো খেলাচ্ছলে গ্লোব ঘোরানোর মতো দু-তিনবার বেশ করে ঘুরিয়ে দিলো গেল কেউ।

    নাটকের সেটের প্রক্স গুলোর তলায় চাকা লাগানো থাকে ইদানীং। অঙ্ক অনুযায়ী সেগুলো ঠেলে,গড়িয়ে, এদিক ওদিক করেই দৃশ্য পালটে দেয় কুশীলবরা। 

 

         আমার চেনা যে চরিত্রকে বহুদিন আগেই ভুলে গিয়েছি, তার স্বভাব, প্রকৃতি, ব্যঞ্জনাগুলো জীবিত গাছের মরা ডালের মতো শুকিয়ে গেছে আমার কাছে, তার মুখে ঠিক কিরকম নিরুপদ্রব সংলাপ বসিয়ে দর্শকদের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেওয়া যায়? 

   এটা আমার একটা অভ্যেস । বহুদিন দেখা না হওয়া খুব আপনার জনের সামনে আচমকা এসে পরলে কথা হারিয়ে যায়।

 

       আমাকে ঘিরে ফেলা আমি গুলোকে জামা কাপড় খুলে ফেলতে দেখে বেশ লজ্জা হলো। স্বীকারোক্তির সময় এমনটাই হয় বোধহয়!

   কুঁকড়ে যাওয়া শরীরটা নিয়ে ডায়াসের ওপরে গিয়ে দাঁড়াতেই দর্শক আসন থেকে একটা জোড়াল আলো তাক করা হলো আমার দিকে। ফলত, প্রথম দিনের যৌনতার মতোন আরও কুঁকড়ে গেলো শরীরটা। 

        মহামারীর সময় থেকে পকেটে মাস্ক রাখা আমার একটা অভ্যেস। চটজলদি ওটা দিয়েই আড়াল করে ফেলতে হবে মুখটা।

 

     বেড়াল না আরশোলা, কার চরিত্রটা বেশি জোরালো করে দেখাব? দ্বন্দ্বটা ফের মনে আসতেই, 

   ভোরের সেই ঘরঘর শব্দটা বেশ ছুঁচালো ভাবে ফিরে আসছে আবার। অদৃশ্য একটা পাড়া পরে ঘুরতে শুরু করছে সেলাই মেশিনের চাকাগুলো—

 

আলোটা বেশ ক্ষীণ করে রেখে অপেক্ষা করা হচ্ছে এই দৃশ্যটা জন্যে,

       আলতা আর আমার শারীরিক সম্পর্কের কথা, মানে একজন বেশ্যা ও তার খরিদ্দারের সমীকরণের মধ্যে রেফারির বাঁশি হাতে দাঁড়াতে চেয়েছিলো রুহুল। খাদ্য ও খাদকের মাঝখানে রেফারির বাঁশি হাতে কেউ এসে দাঁড়ালে পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, অনেক চেষ্টা করেও এই সমীকরণটা কিছুতেই বোঝাতে পারিনি সেদিন রুহুলকে। 

 

     ‘ভালোবাসি আমি আলতাকে’—আধো অন্ধকার তর্কের মধ্যে কথাটা বলে উঠেছিল রুহুল। (একটা বিদ্যুৎ ঝলক আনা যেতে পারে লাইট এবং সাউন্ডের ওপর নির্ভর করে)

  আচমকা একটা ব্যাঘ্র লাফ দিয়ে দিকবিদিকশূন্য আলতা সেই মূহুর্তেই কামড়ে ধরেছিলো রুহুলের টুটি। 

    প্লে চলাকালীন পাঠ ভুলে যাওয়া অভিনেতার মতোন হতচকিত হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি।

 

    ‘ভালোবাসা! আগের দিনও আমার খদ্দের ভাগিয়েছে এই ঢ্যামনা! টাকা দিতে পারিনি মাসিকে। না খাইয়ে রেখেছিলো সারাদিন। শাল্লা, ভালোবাসা!’ বলে, পানের পিকের মতো খানিকটা রক্ত থুক্ করে মাটিতে ফেলেছিলো আলতা।

 

 

   ডায়সটা সরিয়ে নিয়ে একটা চেয়ার রাখা হয়েছে এই দৃশ্যে। আয়না গুলোতে এখন আমার প্রতিচ্ছবির বদলে আলতা, রুহুল, একটা পাতকুয়ো, একটা সেলাইমেশিন ঘুরছে অনবরত…

জন্মমৃত্যুহীন একটা পর্যায় হামিং বার্ডের ডানা ঝাপটানোর মতোন প্রতি সেকেন্ডে একটা নতুন চরিত্র কুটো জমা করছে আমাদের মাথার ভেতরে। খড়কুটো জমতে জমতে একদিন বাসা তৈরি হলে স্বীকারোক্তি আদায়ের উদ্দেশ্যে সুযোগ বুঝে নরম গর্দানটা থাবার মধ্যে এনে ফেলবে বেড়ালটা। 

   ফলত চরিত্রের ভিড়ে নিজের শরীরটাকেও মিশিয়ে দেওয়ার মতোন উপযুক্ত একটা চরিত্র সাজিয়ে তোলার দন্দটাই আসলে ক্যামোফ্লাজ।

 

 রুহুলের মৃত্যুটাও এই নাটকের ক্লাইম্যাক্স। তার আগে বেড়াল ও আরশোলাটাকে খেলিয়ে বেশ পোক্ত করে নিতে হবে সিনটা। এই নাটকে যেহেতু একটার অধিক কোন চরিত্র নেই ফলত, দ্বন্দ্বের স্বীকারোক্তিটাই এই নাটকের মূখ্য অভিনেতা। 

 

     উঠোনে কুয়োর জলে একটা করে আনমানা ঢিল ফেলে বৃত্তাকার ঢেউগুলোর মধ্যে নিজের কম্পমান মুখচ্ছবি ফেলে দেখেছে বানী। আলতার চরিত্রটা করার খুব ইচ্ছে ওর।

       মহড়াকক্ষের বাইরে আমাকে বেড়িয়ে আসতে দেখেই, পথ আটকে খুব গোপন গলায় জিজ্ঞাসা করলো,

   

      ‘সেলাই মেশিনটা আমাকে দেবেন তো!’

1 Comment

লেখাটির উপর আপনার অভিমত জানান।

Your email address will not be published. Required fields are marked *