অনুবাদ গল্পেঃ নির্মল রায়
অনুবাদ গল্পেঃ নির্মল রায়
অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারী আধিকারিক। জন্ম ১৯৬২ দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট শহরে।দেশের বাড়ি পুরুলিয়া জেলার গদিবেড়ো গ্রামে। পিতার জীবিকা- সূত্রে বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে আগমন। বাল্য কৈশোরের দিনগুলি থেকে এখনও পর্যন্ত তাঁর বিষ্ণুপুরের আলো বাতাস মাটির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ। প্রথমে ইংরেজি সাহিত্যের স্নাতক ও পরে স্নাতকোত্তর বাণিজ্যে। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে তালিম্প্রাপ্ত।
লিখেছেন নন্দন, গণশক্তি,যুবমানস, গল্পগুচ্ছ, কলেজ স্ট্রিট, নবকল্লোল, The Statesman ছাড়াও অসংখ্য ম্যাগাজিনে। নিয়মিত।
মূল গল্প- A Friend In Need
মূল লেখক- উইলিয়াম সমারসেট মম
অসময়ের বন্ধু
তিরিশ বছর ধরে চারপাশে লোকজন দেখে দেখে চোখ পচে গেল। তবু এখনো পর্যন্ত ভালো কিছু বুঝে উঠতেই পারলাম না। তাই শুধু মুখ দেখে কাজের লোক নিতে গেলে আমার অন্তত চোদ্দ বার ভাবা উচিত।
অবশ্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমাদের বিচারের ধারাটা এরকমই। প্রথমত চোয়ালের গঠন, চোখের নজর, মুখের বলিরেখা এসব দেখেশুনেই আমরা একজনের সম্পর্কে উপসংহার টানি।আশ্চর্য, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা আবার মিলেও যায়।
নাটক বা উপন্যাস পুরোপুরি জীবনের মত হয় না। তার কারণ লেখকরা চরিত্রগুলোকে একটেরে করে আঁকেন। তাঁরা ইচ্ছে করলেই তাদেরকে পরস্পরবিরোধী চরিত্র করে গড়ে তুলতে পারেন না। কেননা তাতে তাদের দুর্বোধ্য হয়ে পড়ার ভয় থাকতে পারে। অথচ বাস্তব জীবনে আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই নানান অসঙ্গতি আর পরস্পরবিরোধীতা কাজ করে।
ধর, যেমন লজিকের বই তোমাকে বলে বসবে হলুদের রং হল নলের মত কিংবা কৃতজ্ঞতা বাতাসের থেকে ভারী; এদিকে তোমার মন বলবে না, হলুদ হল ঘোড়ার গাড়ির মত আর কৃতজ্ঞতা আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি কোন একটা জায়গা।
তাই লোকেরা যখন ফস করে প্রথম দর্শনেই কোন মানুষ সম্পর্কে কিছু বলে বসে তখন আমি তাকে তেমন আমল দিই না। আমার মনে হয় এসব লোকের অন্তর্দৃষ্টির খুব অভাব। কিংবা তাদের আত্মম্ভরিতা খুব বেশি। আমি আমার নিজের দিক থেকে দেখেছি, যে লোককে আমি যত বেশি চিনি, সে- ই শেষ পর্যন্ত আমাকে অবাক করে দিয়েছে তত বেশি। আমার সবথেকে পুরনো বন্ধু-বান্ধবদের ক্ষেত্রে এ কথাটা খুব বেশি করে খাটে।
আমার এতসব কথার অবতারণা এই কারণে যে আজকের সকালের কাগজেই দেখলাম এডোয়ার্ড হাইড বার্টন কোব-এ পরলোক গমন করেছেন। ব্যবসাদার মানুষ। বহু বছর জাপানে ছিলেন। আমার সঙ্গে বাড়াবাড়ি রকমের পরিচয় না থাকলেও তাঁকে আমার ভালো স্মরণে আছে এই কারণে যে তিনি আমাকে একবার দারুন অবাক করে দিয়েছিলেন।
তাঁর নিজের মুখ থেকে গল্পটা না শুনলে আমার বিশ্বাসই হত না যে তাঁর মত লোক এমন একটা কান্ড ঘটাতে পারেন।
কি চেহারায়, কি স্বভাবে সরল সাদাসিধে ছোটখাটো এই মানুষটি ছিলেন উচ্চতায় পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি ।পাতলা শরীর, সাদা চুল, চামড়া কুঁচকে যাওয়া মুখ, নীল চোখ।
মনে আছে একবার জাহাজের জন্যে অপেক্ষা করতে গিয়ে আমাকে ইয়াকোহামায় কিছুদিন থাকতে হয়েছিল। তখনই সেখানকার ব্রিটিশ ক্লাবে তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ঘটে। ভদ্রলোকের বয়স তখন প্রায় ষাটের কাছাকাছি। সব সময় ছিমছাম পোশাকে ফিটফাট হয়ে ক্লাবে আসতেন। কোব-এ তাঁর অফিস হলেও প্রায়শই তিনি ইয়াকোহামায় আসতেন।
আমরা একসাথে ব্রিজ খেলতাম। বার্টন খুব খোলা হাতে খেলতেন। হাত ছিল খুব সাফ। খেলার সময় বা ড্রিংকসের সময় দু’একটি কথা ছাড়া বেশি কথা বলতেন না। তবে যখন যা বলতেন তা ছিল বেশ যুক্তিসংগত। মাঝে মাঝে তাঁর শান্ত, চাপা, শুষ্ক রসবোধের পরিচয় পাওয়া যেত।
ঘটনাচক্রে আমরা দু’জনেই তখন গ্র্যান্ড হোটেলের বাসিন্দা। একদিন তিনি আমাকে খেতে বললেন। ভদ্রলোকের দুই মেয়ে। স্ত্রী, মোটাসোটা রাশভারি ধরণের মানুষ, বেশ হাসিখুশি। সুখী গোছানো পরিবার।
বার্টনের মূল যে ব্যাপারটা আমাকে টানত তা হল তাঁর নরম স্বভাব। তাঁর দুই ঠাণ্ডা নীল চোখে এমন একটা সুন্দর, উদার, সৌম্য আনন্দের ভাব মিশে থাকত যে, কেউই তাঁর দিকে আকৃষ্ট না হয়ে থাকতে পারত না। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল ভীষণ মার্জিত। আমি কোনদিন তাঁকে রাগতে দেখিনি, কোনদিন জোরে চেঁচাতে শুনিনি। মুখে সবসময় একটা প্রসন্ন হাসি আলগা হয়ে লেগে থাকত। ক্লাবে সর্বাধিক জনপ্রিয় এই মানুষটির সবাইকার ওপর একটা ভালবাসার টান ছিল। ভদ্রলোক ককটেল আর তাস ভালবাসতেন। পয়সা করেছিলেন তবে সম্পূর্ণ তা নিজের চেষ্টায়।
এহেন এডোয়ার্ড বার্টন যে একটা মশা বা মাছিকে সামান্যতম আঘাতও করতে পারেন তা ভাবাই যেত না।
এক সন্ধ্যেয় গ্ৰ্যান্ড হোটেলের লাউঞ্জে চামড়ার চেয়ারে আমি বসে আছি। এ অঞ্চলে তখনো ভূমিকম্প হয় নি। জানলা দিয়ে জাহাজঘাটা, জনাকীর্ণ রাস্তার অনেকটাই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। ঢাউস ঢাউস জাহাজগুলো ভ্যাংকুবার বা সানফ্রান্সিসকোর পথে রওনা দিচ্ছে। কিছু কিছু সিঙ্গাপুর, হংকং, সাংঘাই হয়ে ইওরোপ যাবে। সমুদ্রের লোনা জলে ক্ষয়া ক্ষয়া হতশ্রী চেহারার মালবাহী জাহাজগুলোর মাস্তুলে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত দেশেরই পতাকা উড়ছে। জলের ওপর ছড়ানো অসংখ্য সাম্পান আর রংবেরংয়ের ডিঙি নৌকো। খুব ব্যস্ত প্রাণ চঞ্চল দৃশ্য। কি জানি কেন এখানে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচা যায় বলে মনে হয়। এই সমুদ্র, নৌকো, জাহাজ, লোকজন, হৈ হল্লা এসব মিলেমিশে এমন একটা রোম্যান্সের গন্ধ পাওয়া যায়। হাত বাড়িয়ে যেন ছুঁতে ইচ্ছে করে।
এমন সময় বার্টন লাউঞ্জে এসে ঢুকলেন। আমার সাথে চোখাচোখি হতে উনি একটা চেয়ার টেনে আমার পাশে বসে বললেন
‘কি, এক পাত্তর চলবে নাকি ?’
হাততালি দিয়ে বয়কে ডেকে উনি দু’পেগ জিনের অর্ডার দিলেন। বয় সেগুলো আনছে এমন সময় একজন লোক রাস্তা দিয়ে পেরিয়ে যাবার সময় জানলা দিয়ে আমাকে দেখতে পেয়ে হাত নাড়ল।
আমি নড করলাম দেখে বার্টন আমাকে জিগ্যেস করলেন
‘আপনি টার্ণারকে চেনেন নাকি?’
‘আমি ওকে ক্লাবে দেখেছি। মালদার লোক। শুনেছি বহু টাকা লেনদেন করে।’
‘ঠিক। আমাদের এখানে ওরকম অনেকেই আছে।’
‘ভালো ব্রিজও খেলে।’
‘সাধারণত এরা এরকম টাইপেরই। গেল বছর বুঝলেন, এখানে একজন এসেছিল। কিভাবে যেন তার আর আমার পদবীতে আবার মিলও ছিল। দারুণ ব্রিজ খেলত ছোকরা।আচ্ছা, আপনি লন্ডনে থাকাকালীন লেনি বার্টন নামে কাউকে চিনতেন? আমার বিশ্বাস সে কোন নামজাদা ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।’
‘না, সেরকম তো কারো নাম শুনেছি বলে মনে হয় না।’
‘যাই হোক। মার্কামারা খেলোয়াড় ছিল বটে একখানা। কয়েক মাস সে কোব-এ ছিল। আমি নিজে ওর সাথে তাস খেলেছি।’
বার্টন জিনে চুমুক দিলেন।
“ছেলেটা খারাপ ছিল না। আমি ওকে বেশ পছন্দ করতাম। সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকত। বেশ স্মার্ট।সুন্দর চেহারা। একমাথা কোঁকড়ানো চুল, গায়ের রং গোলাপি সাদা। মেয়েরা ওকে নিয়ে পড়ে থাকত। ছেলেটার বদ কিছু ছিল না, তবে একটু বন্য প্রকৃতির ছিল। বাইরে থেকে টাকা আসত। নিজেও তাস খেলে প্রচুর জিতত। আমার অনেক টাকাই ও জিতেছে।”
বার্টন ঠোঁটটা একটু ফাঁক করে মুচকি হাসলেন। খুব মমতাময় হাসি। আমার অভিজ্ঞতায় জানি বার্টন ব্রিজ খেলেও দু’হাতে হারতে পারেন। শীর্ণ হাত দিয়ে উনি তাঁর ঝকঝকে দাড়িকাটা গালে একবার হাত বুলিয়ে নিলেন। তাঁর গলার শিরাগুলো এমন ভাবে দাঁড়িয়ে উঠেছে যে রক্ত চলাচলও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
বার্টন আবার বলতে শুরু করলেন
“ওর আর আমার একই পদবী। তাই হয়ত আমার ওপর তার কিছুটা দুর্বলতা থেকে থাকবে। একদিন বুঝলেন কিনা আমি অফিসে বসে আছি সে হঠাৎ হাজির। এসেই দুম করে আমার কাছে চাকরি চেয়ে বসল। সত্যি কথা বলতে কি আমি একটু অবাকই হয়েছিলাম। সে বলল যে ঘর থেকে টাকা পয়সা আসা বন্ধ হয়ে গেছে তাই সে কিছু একটা কাজ করতে চায়। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম তার বয়স কত ?
সে বললে, ‘পঁয়ত্রিশ বছর ‘।
আমি জিগ্যেস করলাম, ‘তা তুমি এর আগে কি কি কাজ করেছ?’
সে বললে, ‘না, সেরকম কিছু না’।
আমি হাসি চাপতে পারলাম না। বললাম
‘বলতে ভয় হচ্ছে তোমার জন্যে আমি বোধহয় কিছু করতে পারছি না। আরো পঁয়ত্রিশ বছর পরে তুমি বরং ঘুরে এসে আমার সাথে দেখা কর, তখন দেখা যাবে কি করা যায়।’
সে নড়ল না। কিছুটা ফ্যাকাসে মেরে গেল। এক মুহূর্ত ইতস্তত করে বলল যে তাসে তার মন্দা চলছে। শুধু ব্রিজ নিয়ে থাকলে হয়ত এমনতর হত না, কিন্তু পোকার খেলতে গিয়েই সর্বনাশ হল। এখন সে সর্বস্ব খুইয়ে বসে আছে।কাছে একটা কানাকড়িও নেই। সমস্ত কিছুই তার বন্ধ রাখতে হয়েছে। হোটেলের বিল বাকি। হোটেলওলারা আর ধার রাখতে রাজি না। জিনিসপত্র আটকে তাকে হোটেল থেকে বের করে দিয়েছে। এরপর যদি কিছু না জোটে তাহলে তাকে বাধ্য হয়ে আত্মহত্যা করতে হবে।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম ‘আচ্ছা, তাস খেলা ছাড়া তুমি আর কিছু জান না?’
সে বললে ‘আমি সাঁতার কাটতে পারি’।
‘সাঁতার!’
আমি হাসব কি কাঁদব ভেবে কুল পেলাম না। এরকম পাগলের মত উত্তরও হয়!
সে বললে ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে সাঁতার কেটেছি’।
আমি বুঝতে পারলাম ছেলেটা কিভাবে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে চাইছে। আমি এরকম অনেক লোককে জানি যাঁরা একসময়ে ইউনিভার্সিটির ছাপ মারা হিরো সেজে লোকের মনে প্রভাব ফেলার চেষ্টা চালাতেন।
বললাম ‘শোন হে, তোমার মতন বয়সে আমিও ওরকম অনেক সাঁতার কেটেছি’।
ছেলেটা একেবারে মুষড়ে পড়ল। আমি তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম। ছেলেটা ভীষণ ভেঙ্গে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অত্যধিক মদ্যপান, উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাত্রা আর প্রচন্ড মানসিক দুশ্চিন্তার ফলে তাকে এখন ঠিক পঞ্চাশ বছরের বুড়োর মতো দেখতে লাগছে। মেয়েরা যদি তাকে এখন দেখত তাহলে তাকে নিয়ে পড়ে থাকার চিন্তা তাদের মাথা থেকে ঠিক উবে যেত।
হঠাৎ আমার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল।”
এই পর্যন্ত বলে দম নেবার জন্যে একটু থেমে বার্টন আমার দিকে ফিরলেন।
উনি আমাকে জিগ্যেস করলেন ‘আপনি কোনদিন কোব-এ গেছেন?’
আমি বললাম ‘একবার। পেরিয়ে যাওয়ার সময় শুধু একটা রাত কাটিয়েছি।’
বার্টন বললেন “ও বাবা, তাহলে তো আপনি সিয়োয়ো ক্লাব জানেন না। আমার যখন বয়স কম ছিল তখন লাইট হাউসের চারপাশে পাক খেয়ে সাঁতার কেটে আমি সেখানকার তারুমি’র পাথুরে চাতালে পৌঁচেছি। ভীষণ দুঃসাধ্য কাজ। লাইট হাউসের চতুর্দিকে জলের এত কারেন্ট। তা শুনুন, আমি করলাম কি, ছেলেটাকে বললাম ‘ভাই তুমি লাইট হাউসের চারপাশে পাক খেয়ে খেয়ে সাঁতারে কি তারুমি’র চাতালে পৌঁছতে পারবে? দেখ যদি পার তাহলে তোমার চাকরি পাকা।’
ছেলেটা কথাটা শুনে একটু ঘাবড়ে গেল।
আমি বললাম ‘তুমি বললে না যে সাঁতার জানো?’
সে উত্তর দিল ‘হ্যাঁ, কিন্তু আগের মত কি অবস্থা আছে?’
আমি আর কোন কথা না বলে
কাঁধ ঝাঁকানি দিলাম। সে আমার দিকে কিছুক্ষণ অসহায় চোখে তাকিয়ে সম্মতি জানিয়ে মাথা নাড়ল।
সে বললে ‘ঠিক আছে। তা কখন এটা করতে হবে?’
আমি ঘড়ি দেখলাম। ঘড়ির কাঁটা সবে দশটা পেরিয়েছে।
বললাম ‘শোন, সাঁতার তোমার কাছ থেকে এক ঘন্টা পনের মিনিটের বেশি সময় নেবে না। আমি গাড়ি নিয়ে সাড়ে বারোটা নাগাদ তারুমি পৌঁছে তোমার সাথে দেখা করছি। তারপর তুমি আমার সাথেই ক্লাবে ফিরে পোশাক বদলে লাঞ্চ করবে।’
সে রাজি হল। আমার সাথে হ্যান্ডসেক করল। আমি তার পিঠ চাপড়ে ‘গুড লাক’ জানালাম। সে চলে গেল।
সকালে আমার প্রচুর কাজকর্ম ছিল। সেসব ছাড়তে ছাড়তে পৌনে বারোটা বেজে গেল। তড়িঘড়ি গাড়ি চালিয়ে কাঁটায় কাঁটায় ঠিক সাড়ে বারোটায় আমি পৌঁছলাম। তবে অত তাড়াহুড়ো না করলেও চলত। জানতাম ছেলেটা পারবে না।”
আমি বার্টনকে জিগ্যেস করলাম ‘তার মানে? ছেলেটা শেষ মুহূর্তে পেছিয়ে গেল নাকি?’
বার্টন বললেন ‘আরে না না,ও শুরুটা ঠিকঠাকই করেছিল। কিন্তু অত্যাচারে অত্যাচারে শরীরের যা দফা করে রেখেছিল। লাইট হাউসের জলের টান। এক পাকও দিতে হয়নি। তিনদিন ধরে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তার লাশ পাওয়া গেল না।’
আমি কিছুক্ষণ হতভম্বের মতো বসে রইলাম। আমার মুখে কোন কথা যোগাল না। তারপর আস্তে আস্তে বার্টনকে জিগ্যেস করলাম
‘আচ্ছা, আপনি যখন তাকে চাকরি দেবেন বললেন তখন কি জানতেন যে সে ডুবে মরবে?’
এডোয়ার্ড হাইড বার্টন তাঁর নিষ্পাপ সরল মুখে হাসলেন। একটিও মশা মাছি না মারা তাঁর পরিচ্ছন্ন হাত দিয়ে চিবুক ঘষলেন। তারপর আমার দিকে তাঁর সেই সুন্দর দয়ালু দুটি কঠিন ঠান্ডা নীল চোখে তাকিয়ে বললেন
‘আমার অফিসে সে মুহূর্তে কোন ভ্যাকেন্সি ছিল না।’