Email: info@kokshopoth.com
February 1, 2026
Kokshopoth

সুমন চক্রবর্তী-র গুচ্ছ কবিতা

Oct 24, 2025

সুমন চক্রবর্তী-র গুচ্ছ কবিতা

 জন্ম, স্কুল, কলেজ কলকাতায়। পুঁথিগত বিদ্যায় ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারীং এর স্নাতক এবং বর্তমানে ব্যাঙ্গালোরে তথ্য-প্রযুক্তিতে কর্মরত। দেশ, কিছু লিট্‌ল ম্যাগাজিন এবং দোসর প্রকাশনের “ক্যাফে কবিতা” সংকলন-এ তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৪ বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার প্রথম কবিতার বই “বাষ্পডানা”। লেখালেখি ছাড়াও বেড়াতে, গান শুনতে আর নাটক করতে ভালোবাসেন।

#১

অব্যক্ত

নখ

আঙুল আঙুল আঙুল আঙুল আঙুল

পায়ের পাতা

জল এসে ছুঁয়ে চলে যায় বালিদের বাড়ি

ফিরে আসে

সঙ্গে নিয়ে ধূলো, বালি, কাদা, ছাই ভস্ম।

এখানেই রেখে গেছিলো সে

শেষ দেখার প্রতিচ্ছবি

তাই ফিরে ফিরে আসে

ক্লান্ত গোধূলিতে।

দেখা করতে, কথা বলতে।

#২

একে অপরের কথা জানতে

আমরা একসাথে থাকি

কিন্তু কথা বলিনা গত সাতাত্তর বছর। হাজার বছর

আমি ওকে জিজ্ঞেস করিনা ওর কথা

ও আমায় আমার কথা জিজ্ঞেস করে না।

আমরা দুজনে দুজনের ব্যাপারে কিচ্ছু জানিনা।

এইভাবেই চলছে।

আমরা মাঝে মাঝেই বেড়াতে যাই। অন্যের বাড়ি।

বন্ধু, প্রতিবেশী, চেনা-পরিচিতের বাড়ি।

প্রত্যেক সপ্তাহেই।

যাই তাদের সাথে কথা বলতে। আড্ডা দিতে।

তবে

আসল কথা সেটা নয়।

আসল কথা হলো এই যে

অন্য লোকের সাথে আড্ডাকথার মাধ্যমে

আমরা একে অপরের সম্পর্কে জানতে জানাতে যাই।

 

#৩

মেট্রো রেলের সেই লোকটা

মেট্রো রেলে উঠলেই সেই লোকটাকে খুঁজি।

যাকে শেষ একবার দেখেছিলাম

কথা বলবো বলেও বলা হয়নি

ডাকবো বলেও ডাকতে পারিনি

খুব চেনা চেনা সেই লোকটা

তাকে এখনো খুঁজে বেড়াই

দরজার সামনে দুই কামরার সংযোগস্থলে।

ভিড় ট্রেনে ঝুলন্ত হাতগুলোতে খুঁজি সেই হাত

সেই লোকটা যে মেট্রো রেলে শেষ দেখা দিয়ে

গা ঢাকা দিয়েছে।

#৪

পণ্য

রাস্তার ধারের
                   একটি ভাঙাচোরা দোকানে
                                            জড়াজড়ি করে দাঁড়িয়ে আছে
মায়ের কোলে বড়
বড়র কোলে মেজো
মেজোর কোলে সেজো
সেজোর কোলে ছোট।

বিক্রি হবার জন্য।

 

#৫

ঘুমের মধ্যে কবিতা দেখি

ঘুম আসেনা
জেগে থাকি রাতের পর রাত।
বাড়িতে ব্ল্যাক কফি উইথআউট সুগার বন্ধ করায়।
ডাক্তার কাগজে গোল করে ঘুম এঁকে দেয়।
তবু ঘুমাতে পারিনা
ঘুম আসে না।

চারদিক থেকে হাজার হাজার মুখ ঘিরে ধরে
চিনিনা তাদের কাউকেই
শুধু কালো প্রকাণ্ড লাল জিভ বার করা কতগুলো মুখ।
চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসছে
কান দুটো ঝুলে গলায় এসে ঠেকেছে
নাকটা বড় হতে হতে পিছু নিয়েছে।
ভয় পাই
ঘামতে থাকি
মাথা ঘোরে।
শরীর-সংবেদ স্নায়ুতন্ত্র অকেজো হয়ে যেতে থাকে
ভয় গলা-কাঁধ-হাত হয়ে মেরুদণ্ডে
চেয়ার পেতে বসে পড়ে।
দৌড়াতে থাকি
থামিনা।
ছুটতে ছুটতে
খাদের কিনারা ছাপিয়ে আকাশের ওপারে চলে যাই।

কবিতা হয়ে যাই।

2 Comments

  • অসাধারন সব কবিতা গুলো পড়লাম

  • মিড়ে গাঁথা অনুভূতির অনুবাদ…

লেখাটির উপর আপনার অভিমত জানান।

Your email address will not be published. Required fields are marked *