Email: info@kokshopoth.com
February 1, 2026
Kokshopoth

রাধাবল্লভ চক্রবর্তী-র কবিতাগুচ্ছ

Nov 7, 2025

রাধাবল্লভ চক্রবর্তী-র কবিতাগুচ্ছ

পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা। কবিতা লেখার চেষ্টা ও ইচ্ছে রয়েছে। ‘প্রতিভাহীন পাথর’ নামে প্রকাশিত একটি কবিতার বই রয়েছে। ২০২৬ এর কলকাতা বইমেলায় বেরোচ্ছে ‘মানচিত্রে ও অজান্তে’।

 

#১

দ্বিধা 

নন্দিত নও খুব। নিন্দিতও নও তুমি। মধ্যগগন খোলা 

প্রহর নির্বিশেষে। অমোচনীয় এই স্পর্শের মর্মকথা, 

প্রতিটি পদক্ষেপ আরও যেন হ’য়ে আসে ভারী। যাচ্ঞা 

এখনও একই — তবু কেন কানের পাশে এসে প্রশ্ন 

করে: ‘বলুন, আপনি কী চান? বলুন, কী দাবি —’ 

প্রহসন মনে হয় খুব? নাকি বেশ মনে হয় — ‘পরিবর্তন 

মানে হয়তোবা এমনই কিছু শব্দচয়ন’ — শরীরের 

মৃত মাংসকে ঘিরে, ঘনায় ক্রমশ এক বীভৎস অন্ধকার! 

প্রাত্যহিকতা আছে, নাকি নেই সেও, বস্তুত অজ্ঞাত — 

তবু থাকে, থেকে যায়, এক বিরল অভ্যাসে — পুনর্দখলের 

দামামা, জিগির — কী আর আসে যায়? আমরণ 

নিচু ঘাড়, মুখ; আমরণ দাপটের কাছে খুব খাটো; 

তবুও নষ্ট করো, একান্তে নিজেকে; শিল্পে দিয়েছিলে মন — 

 

আলাদা প্রাণ তাই — একটি শরীর: যথাক্রমে অর্ধেক তোমার-আমার। 

 

#২

নীরব 

 

আমার চিৎকার ক’রে ওঠা ততটা আপেক্ষিক নয়, 

যতটা চিরস্থায়ী তোমার নীরব হ’য়ে থাকা। 

প্রতিটি প্রশ্ন যেন ভিক্ষে। প্রতিটি উত্তর দান 

যেন। তোমার আকাশে খরা — মেঘ নেই, স্নান 

নেই কোনও। সচেতনভাবে? খুব সচেতনভাবে তুমি 

এই আড়ি এই ভাব খেলা খেলো? তারুণ্যের 

দ্বিধা এখনও আমার হৃদয়ে জ্বালিয়ে রেখেছে শোক; 

তোমার চলে যাওয়া আপেক্ষিক হ’লে, তবে,

এই হৃদয়ে, কুটিরে আবার ফিরে ফিরে এসো।

 

#৩

হিংসা 

যত্নে নয়, মনে হয়: সগর্বে প্রণয়িনী, প্রিয় 

যক্ষিণী, অভিধান খুলে রেখে গেছে — সভ্যতা 

সততার দাম দিতে পারে? কতটুকু? কুশলতা 

খুঁজেছি; বীজের মতন আমি স্থাপন করিনি 

মাটিতে — নির্ভরতা নয়, সংশয়, নিজেকে প্রশ্ন 

করে, বিদ্ধ করে। পাংশু হ’য়ে আসে 

তোমার আঙুল। এটা কি স্বপ্ন ছিল? 

ডিস্টোপিয়ান? মৃদঙ্গ বেজে ওঠে দুলে, 

দূরের পতনের, রোদনের পাল্টা সমান্তরাল হিসেবে। 

সংঘ নেই ঠিকই, তবু আমি একা-একা 

ঘুরে, মর্গের খুব কাছ থেকে, অপরাধ, 

মরদেহ, অহোরাত্র তুলে আনি; যোগিনী সাজাই… 

 

#৪

টিট্টিভ 

না, কোনও কূজন নয়, শব্দহীন যা — শব্দের 

নিমিত্তে বাঁচা; প্রদক্ষিণ — তবুও বন্ধুর, অতিকায় 

পথ গিলে শুয়ে আছে, দ্যাখো, ময়াল — নির্বিষ। 

আধিপত্য নেই, বরং, বিপরীত — ভিন্ন কারোর 

কায়ক্লেশে বেঁচে থাকা — সংঘটনের মাঝে 

অনুপস্থিত থেকে যাই যেহেতু, অপরাধ না-থাকার

অপরাধে নির্বাসন খুঁজেছি। তবুও মনস্তাপ মুছে 

যায় এমনও অশ্লীলভাবে, তোমাকে জানাতে পারিনি: 

আমার আঙুলে, প্রতিনিয়ত জন্ম নিচ্ছে অসম্পাদিত 

অভিশাপ — তোমার কন্ঠনালী গোঙানি ও হাসির 

দ্বন্দ্বে বেঁচে আছে। আমার দ্বন্দ্ব নেই — নেই 

অসুরক্ষাটিও — সুজন, এসেছ কাছে? টিট্টিভ 

পাখিটির মতো? সম্মোহন জানো? পালক ঝরানো হেমন্তে, শীতে? 

 

#৫

মিথ্যে 

হাসিখুশি শোক কিছু প্রিয় হয়েছে। আজও 

কেউ কাহিনীর অভাবে ঘোরে। আমার উপচিতি

কুক্কুট বহন ক’রে চলেছে, যেখানে, 

গহ্বরে, আত্মার চিৎকার ফুটে ওঠেনি 

আর কখনোই — আমার জন্য আমি পদাতিক 

হ’তে পারিনি। দায়বদ্ধতা যেন আমাকেই 

সীমানায় ঘিরে দিয়ে খুব, উদ্ধত নৃত্যে 

বিনোদন খুঁজে পায়। অনির্বচনীয় বিদূষক 

আমিও হলাম আজ থেকে? দেবতা, দেখে 

ফেললাম আমিও যেহেতু, তোমার গোপন হাতের 

ছুরিকা, আমাকে শাস্তি দাও, ক্রমশ অবচেতনে… 

2 Comments

  • […] রাধাবল্লভ চক্রবর্তী-র কবিতাগুচ্ছ […]

    • নিজের সাথে / নিজের কথা…

লেখাটির উপর আপনার অভিমত জানান।

Your email address will not be published. Required fields are marked *