Email: info@kokshopoth.com
February 1, 2026
Kokshopoth

তৃষ্ণা বসাক-এর মায়া গদ্যঃ- মায়া-মফস্বল ও ক্যাংলাস পার্টিরা

Nov 28, 2025

তৃষ্ণা বসাক-এর মায়া গদ্যঃ- মায়া-মফস্বল ও ক্যাংলাস পার্টিরাঃ
দ্বিতীয় ভাগ

তৃষ্ণা বসাক আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি অতিপরিচিত প্রিয় নাম। জন্ম কলকাতা । যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.ই. ও এম.টেক.। সরকারি মুদ্রণসংস্থায় প্রশাসনিক পদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শী অধ্যাপনা, সাহিত্য অকাদেমিতে অভিধান প্রকল্পের দায়িত্ব – বিচিত্র ও বিস্তৃত কর্মজীবন। বর্তমানে পূর্ণ সময়ের লেখক ও সম্পাদক। কবিতা, গল্প, উপন্যাস প্রবন্ধ মিলিয়ে গ্রন্থ সংখ্যা ৬৫-রও বেশি। সাহিত্য অকাদেমির ভ্রমণ অনুদান, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের ইলা চন্দ স্মৃতি পুরস্কার সহ পেয়েছেন অন্যান্য বহু পুরস্কার। হিন্দি, মালয়ালম, ওড়িয়া ভাষায় গল্প অনূদিত। মৈথিলী থেকে অনুবাদ ও কল্পবিজ্ঞান রচনায় সাবলীল ।

# ৬

আমার যাওয়া তো নয় যাওয়া

আমার একটা প্রিয় থিম হচ্ছে গৃহত্যাগ।  কেতকী কুশারী ডাইসনের উপন্যাস ‘নোটন নোটন পায়রাগুলি’-র এরিকারও প্রিয় থিম ছিল গৃহত্যাগ বা পলায়ন। না, না,  ঠিক বিশুদ্ধ একা একা  পলায়ন নয় তারাপদ বা আংটি চাটুজ্জের ভাইয়ের মতো, এরিকার অবসেশন ছিল ইলোপ।  এক বিপত্নীক অধ্যাপককে দেখিয়ে সে নোটনকে প্ররোচিত করেছিল অধ্যাপকের সঙ্গে  ইলোপ করে ইতালির ভিলায় কিছুদিন অলস মায়াবী সংরক্ত সময় কাটাতে।

যেকোন সেন্সিবল মাঝবয়সী মানুষই এই প্রস্তাবে রাজি হবেন না, নোটনও হয়নি। ইলোপের মতো আমিষ ব্যাপার টু রিস্কি, আমি বিশুদ্ধ গৃহত্যাগেই থাকব। ‘নিমাই চলে গেলি বাবা’ টাইপ। আর এই নিয়ে আকাশকুসুম ভাবা আমার অন্যতম প্রিয় ব্যসন।

যখন সত্যি সত্যি গৃহত্যাগ করব, বাছাধনরা কেমন জব্দ হবে, সেটা ভেবেই আমার কুলকুল করে হাসি পায়। আমি নিজেই হেসে কুটিপাটি হই, যখন ওরা আমাকে কোথাও খুঁজে পাবে না, আর হতোদ্যম হয়ে বসে পড়বে, ওদের ছোট ছোট প্রতিটা কাজ আটকে যাবে, তখন ওদের মুখ কেমন শুকিয়ে আমসি হয়ে যাবে, শুকনো ঠোঁট বারবার জিভ দিয়ে চাটবে, আর অনেক কষ্টে চোখের জল আটকে ওরা পরস্পরকে বলবে ‘বেঁচে আছে তো?’ এই ভেবে হাসপাতাল থানা, মর্গ চষে বেড়াবে । এসব কল্পনা করে আমার বেজায় হাসি পাবে, আর আমি গুপি গায়েন বাঘা বাইনের জহর রায়ের মতো মুরগির কিংবা হরিণের ঠ্যাং চিবোতে চিবোতে, হেসে কুটোপাটি হব। দেখ কেমন লাগে। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা না দিতে পারলে এমনিই হয়।

কিন্তু ফিরবে না সে ফিরবে না!  আমার একটা গল্প শুরুই হচ্ছে এইভাবে-

‘যখন যেদিন চলে যাবে, সেই যাওয়ার অভিঘাতকে কীভাবে তীব্র করে তোলা যায়, যাতে একটা গভীর দাগ বসে যায় পেছনে পড়ে থাকা মানুষগুলোর মনে, এই বাড়িটার দরজা কোণ, ফ্রিজের পেছন, গ্রিলের নকশার স্তরে স্তরে জমা ধুলো আর শূন্যতাকে হা নগ্ন করে সেই চলে যাওয়া – তা নিয়ে কম প্রকল্প রচনা হয়নি এই ঘরটাতে।‘ (যেভাবে যেতে হয়)

এত প্ল্যান করার পরেও এই গল্পের নায়ক নায়িকা পরাগ আর সুমিতা বাড়ি ছেড়ে যেতে পারেনি, গল্পে দেখা যাবে বাড়িটার একটা রাক্ষুসে জৈব সত্তা ছিল, যে ওদের বন্দি করে রেখেছিল। ওরা অনেক অনেক বছর পরে মেয়ের বিয়ে হয়ে যাবার পর মেয়ে জামাইকে যখ করে রেখে তবেই বাড়ি ছেড়ে যেতে পেরেছিল।

আমার বাড়ি ছেড়ে যেতে না পারার পেছনে এইসব গভীর সাইকো-সিরিয়াস ব্যাপার আছে কিনা, তা গবেষণাসাপেক্ষ, তবে খুব স্পষ্ট ক্যাংলাসসুলভ কারণ যেগুলো বুঝেছি, সেগুলোই বলি একে একে।

 

নাহ,  ছোট থেকে, আমার মধ্যে পালানোর কোন লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং যেখানে বসিয়ে দেওয়া হত, দু ঘণ্টা পরেও সেখানে আমাকে পাওয়া যেত। এই গুড়ের নাগরির মতো স্বভাবে সবাই মুগ্ধ ছিল, কেউ কেউ এর মধ্যে উচ্চমার্গের সাধকের লক্ষণও খুঁজে পেত, কিন্তু আমি তো হাড়ে হাড়ে জানি, উচ্চমার্গের লক্ষণ ঠিকই, তবে সাধকের নয়, চূড়ান্ত ল্যাদখোরের, যে কিছুতেই স্থিতাবস্থা থেকে গতিজাড্যে যেতে চায় না। যার জীবনের ফিলজফি খুব পরিষ্কার ও বৈজ্ঞানিক। পৃথিবী তো ঘুরছেই, পৃথিবীর মধ্যের প্রতিটা প্রাণ ও অপ্রাণ বস্তুও মুফতেই ঘুরে নিচ্ছে, তাহলে বাড়তি কষ্ট করা কেন? খামোখা ছুটছুটি করে পৃথিবীর এত পরিশ্রমকে অপমান করার কোন মানে নেই। একবার আমার এই স্বভাবের জন্যে আমাদের স্কুলের খোখো দল রাস্টিকেট হতে হতে বেঁচেছিল। হয়েছে কি, খেলা চলছে, আমি আমার ফিলোজফি মেনে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি, বন্ধুরাই যাবৎ ছুটোছুটি করছে। পৃথিবী ঘুরছে- বোকাগুলো বুঝতেই চাইছে না।  তাতেও কিছু হয়নি, কিন্তু আমার বন্ধুরা যখন প্রতিপক্ষকে চেপে লাইনের এপারে এনে জয় নিশ্চিত করে ফেলেছে, তখন নির্মল আনন্দে আমি হাততালি দিয়ে ফেলেছিলাম। তাতেই আমাদের রাস্টিকেট করার দিকে গেছিল কেসটা। অবোধ পর্যবেক্ষক বোঝেননি, নিঃশব্দে একজন চিয়ার লিডারের জন্ম হল!

তবে আমি  ক্লাস ওয়ানের প্রায় প্রতিদিন নিষ্ঠা ভরে স্কুল পালিয়েছি। নাম কাটাই গেছিল, নিউটনের তৃতীয় সূত্র মেনে। তারপরের বছর, ক্লাস টুতে ভর্তি নেওয়া হল অবিশ্যি, পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলের নিরিখে।  সেইসব পলায়নের দুপুরগুলোই বোধহয় চোখে মায়া অঞ্জন লেপে দিয়ে গেছিল। যার ছাপ আমার কবিতায়, গল্পের চরিত্রদের বিচিত্রতায় আর এই ‘চলো পলায়ে যাই’-র গুঞ্জরনে।

 

আমাদের বাড়িটা অনেক বড় ছিল বলে, কোথাও না কোথাও আমার পালানো হয়েই যেত। ওর মধ্যেই যে আছে রাজার বাড়ি তা আমি শৈশবেই জেনে গেছিলাম। কিন্তু একসময় ছোট শহরের স্কুলবেলা ফুরোল, ভর্তি হলাম যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে। সেখানে এক ফিজিক্সে গবেষণারত যুবকের ‘তোমার সঙ্গে একটু কথা ছিল’ শুনে ‘ঐ যে আমার ট্রেন আসছে’ বলে, ট্রেনের কোন সম্ভাবনা না থাকলেও প্রাণপণে পালিয়েছি কতবার। তারপর চাকরি। বারুইপুর টু বরানগর, একমাত্র নৌকো  ও উড়োজাহাজ ছাড়া সমস্ত সম্ভব ও অসম্ভব  স্থলযানে যাতায়াতের ক্লান্তি, এই প্রথম মায়া মফস্বল থেকে শহর কলকাতার বাস্তবে আছড়ে পড়া, পড়াশোনা ও পরিচিতির জগতের বিস্তার আমাকে ভাঙচুর করছিল। বিশেষ করে চাকরি করে রাত আটটার পর ফিরে প্রায়ই যখন দেখতাম মায়ের অতিথিরা বাড়িময়, তখন আর আগের মতো আনন্দে গদগদ হতে পারছিলাম না। শরীর মন তখন যে নিভৃত বিশ্রাম দাবী করত , সেই ভিড়ে তা পাওয়া দুষ্কর। তার ওপর মার আপ্যায়নের মান এত উঁচু তারে বাঁধা ছিল, যে পারলে সবকিছুই তাদের দিয়ে দিতে চাইত।  আমাদের ঘরগুলো হাওদা খেলা, রোদ বাতাসের চলাচলের জন্য গড়ে তোলা, আর কিছু ভাবা হয়নি। ড্রয়িং রুমের বালাই ছিল না। হাতিমুখ বিশাল পালংকের লাগোয়া সোফা ছিল ঠিকই, কিন্তু অতিথিরা খাটে বালিশ চেপে বসাই পছন্দ করত। আর কেকের ওপর চেরির মতো ছিল মার প্রণাম প্রবণতা। একটা মিষ্টি মানুষ যে কতদূর অসহ্য হতে পারে, তা মাকে না দেখলে বোঝাই যেত না। ছোট থেকেই তাঁর শিক্ষা ছিল, বাড়িতে বড় কেউ এলে মানে আধ সেকেন্ডের বড় হলেও জাতি ধর্ম  নির্বিশেষে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে হবে। বিনা বাক্যে তা মেনে এসেছি। চাকরি থেকে ক্লান্ত হয়ে ফেরার পর গোটা সাতেক লোককে প্রণাম করা বেশ চাপের। আর আমার মা আবার ‘মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি’-র মতোই অদ্ভুত মা। চোখের ইশারা বা আড়ালে ডেকে ফিসফিস করে মনে করিয়ে দেওয়া নয়, হাটের মাঝেই বলা ‘কাকিমাকে প্রণাম করেছিস? এখনো করিসনি? ছিছি! কর কর এখুনি কর’

এই প্রণত হবার চাপেই গৃহত্যাগের ইচ্ছে মাথা চাড়া দিল। তবে ইচ্ছেটা ঠিক দানা বাঁধছিল না। গৃহগত সুখে বাঁধা মন, সারাদিন পর ঘরে ফিরে, নিজের ছেঁড়া কাফতান, স্ট্র্যাপ ছেঁড়া হাওয়াই, হাতল ভাঙ্গা কাপের চা,  তুলো বেরনো ফাটা বালিশ, আর চুলের ক্লিপ দিয়ে পেজমার্ক করে যাওয়া আর্ধেক পড়া বইয়ের কাছেই ফিরতে চায়। আর সবচে বড় কারণ?  ধীরে রজনী ধীরে।

 

বাড়িতে তো শুধু দু ঘণ্টার অতিথি নয়, সাত দিন পনেরো দিন থাকার মতো অতিথিও আসেন । সাধারণভাবে তাঁরা এলে মজাই মজা। অনেক আদর, নতুন গল্প আড্ডা, খাইদাই, তাঁরা আমার কোন ব্যাঘাত ঘটান না, বরং অনেক কাজে লাগেন। এরকম একদিন নমাসি মেসো তাঁদের ছোট্ট ছেলেটিকে নিয়ে এলেন। বাচ্চাদের পছন্দই করা উচিত, এমনকি ভালবাসাও উচিত, যদি না তারা এর মতো মূর্তিমান বিভীষিকা হয়। এই পাঁচ বছরের ছেলে সাধারণ কথাই বলে ১০০ ডেসিবেলে। আর চেঁচায় যখন মনে হয় ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ি।  তার খেলা হচ্ছে সব কিছু ছুঁড়ে ভেঙ্গে ফেলা, বই দেখলেই ছিঁড়ে ফেলা, আর সবাইকে  ধরে ধরে মারা। তার মা হালকা শাসনের চেষ্টা করেন, বাবা নির্বিকার ব্রহ্ম। দাঁত বার করে বলেন ‘বাচ্চারা ওরকমই হয়!’ একদিন বলতে লজ্জা নেই, আড়ালে ডেকে দুচার ঘা  দিলাম। আমারই হাত ব্যথা হয়ে গেল, হতভাগা হাসতে লাগল। একদিন ঠিক করলাম আর নয়, মা যখন এদের ছাড়বে না, তবে আমাকে ছাড়ুক। আজ আমি বাড়ি ফিরবই না।

 

সেদিন শিয়ালদা সাউথ সেকশনে বসে একের পর একে ডাউন ট্রেন ছেড়ে দিচ্ছি, নাহ, আজ বাড়ি ফিরবই না, খিদে চাগাড় দিচ্ছে, সেই আটটায় বেরিয়েছি, বারো ঘণ্টা হয়ে গেছে, বাচ্চাটির মুখ আর মায়ের আতিথ্য মনে করে ঝাঁট জ্বলে যাচ্ছে। আর ঠিক তখনি আসার সময় দেখে আসা ইলিশ আর চিংড়ি মনের মধ্যে লাফিয়ে উঠল। শুনে এসেছিলাম আজ ইলিশ ভাপা আর চিংড়ির মালাইকারি হবে। মনকে বোঝালাম ‘ওরে মন এবারকার মতো মাকে ক্ষমা করে দেওয়া যাক। চল ধন্নো , বাড়ি ফিরি (ইলিশ চিংড়িতে ফিরি আসলে!)’

 

এখনো গৃহত্যাগের ইচ্ছে তীব্র , নিশ্চয় পাঠক ভাবছেন এই হ্যাংলা লেখক  নির্ঘাত খাওয়ার লোভেই আজো ঘর ছাড়েনি  । না না,  এখন কারণ অত হালকা নয়।  একদিন দেখলাম আমার কাছাকাছি বয়সের এক মহিলা দু কাঁধে দুটি, হাতে একটা ট্রলি ব্যাগ টেনে ক্লিষ্ট মুখে রাস্তা দিয়ে চলেছে মেট্রোর দিকে। হয়তো কোথাও সোলো ট্রিপে যাচ্ছে বা অফিস টুরে, ক্যাব পায়নি, বা পয়সা বাঁচাচ্ছে- নেহাতই মামুলি ব্যাপার। কিন্তু আমার সেই গৃহত্যাগ-অবসেশন তো এখনো অটুট। আমি ভেবে ফেললাম, নির্ঘাত  সংসারে তিতিবিরক্ত হয়ে ঘর ছেড়েছে। আমার তো এতে উল্লসিত হবার কথা, কিন্তু মহিলাকে দেখে আমি খুবই মুষড়ে পড়লাম। বাবাগো! এই ব্যাগগুলো গুছোতে হয়েছে বসে বসে, তারপর টেনে টেনে নিয়ে যাওয়া, আমার যে  ডান হাতে টেনিস এলবো, বাঁ কাঁধে ফ্রোজেন শোল্ডার, হাঁটলে হাঁটুতে ক্যাঁচ কোঁচ আওয়াজ হয়, আমি কী করে এইভাবে গৃহত্যাগ করব? এক কাপড়ে  যাওয়াটা রোমান্টিক মনে হলেও ওইভাবে  তো যেতে পারব না। আর ধর্মশালায় শাকভাত আর রাস্তার কলের জল খেয়ে, ফুটপাথে  শুয়ে ভারতবিখ্যাত গায়ক হওয়াও আমার কাপ অব টি নয়। তবে????

তারপর হয়তো মহিলাটি পুরনো ঘর ছেড়ে নতুন ঘর বাঁধতে চলেছে। যার মানে আবার এক সেট থালা বাসন, কাজের লোক, গ্যাস, ইলেক্ট্রিক, রঙ মিস্ত্রি, প্লাম্বার কার্পেন্টার,  চেরি অন দ্য টপ, এক সেট নতুন স্বামী!  কী ভয়ংকর চাপ! এই বয়সে!

নাহ!   এ বারেও আমার ঘর ছাড়া হল না,  বরং ছেঁড়া কাফতান পরে  হাতল ভাঙ্গা কাপের চায়ে সুখী চুমুক দিতে দিতে আমি ল্যাপটপে বসে আমার চরিত্রদের মধ্যে পলায়নের বীজ বুনে দিই আর  পৃথিবীর আহ্নিক আর বার্ষিক গতি উদযাপন করি।

4 Comments

  • সুন্দর গদ্য, কথ্য ভাষার ব্যবহার, অনুভব, লেখার গতিময়তা, গদ্যশৈলী মনকে নাড়িয়ে দেয়।

    • সুন্দর ভাষার ব্যবহার। আনন্দ পাওয়া যায়।

  • অনায়াস গতিতে এগিয়ে চলা এমন লেখা পড়ে মনে কি যে ভালোলাগা তৈরী হয় প্রকাশ করা খুবই কঠিন। এমন লেখা পড়লে এই বোধটুকু হয় যে ভাষার উপর দখলদারিত্বের এমন লেখা পাওয়ার জন্য আমায় আর সৈয়দ মুজতবা অথবা শীর্ষেন্দুর “দ্বারে দ্বারে ফিরতে নাহি হবে”। আমার এতো পেলব লাগে সেই সব জায়গাগুলো যেখানে উদগ্রীব পুরুষ প্রেমিক কতদিন পর ” ডু আই ডেয়ার? “কাটিয়ে উঠে যখন ডাকে তার মনে মনে কত কথা বলা সেই হবু প্রেমিকা নারীকে আর সে পালিয়ে যায় ঐ আমার ট্রেন আসছে বলে। হয়তো আইডেন্টিফিকেশন সম্পূর্ণ হয় এই বয়সে এসে আর একটা হাসিও নিঃশব্দে মুখে ঘুরে বেড়ায়। ” ভাঙা রাস”কবিতা পড়ে কতোবার মনে হয়েছে এই মজাদার পাপগুলো শোনার মতো যুবক হলে কি ভালোই না আড্ডা জমতো। এইসব মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার স্যাপার যখন ফুটে ওঠে আমাদের ছোটো সংসারের সদস্যদের মধ্যে যেমন পৃথিবী যেহেতু এতো ঘুরছে আমি খামোখা ঘুরে মরি কেন -এই মানসিকতা হুবহু ফুটে ওঠে যখন আমারই বড়ো কন্যার মধ্যে তখনও সেই হাসি খেলে বেড়ায় মুখে। হয়তো ঐসময়ে চা দিতে আসা আমার স্ত্রী জিজ্ঞেস করলো, কি হলো এতো পুলক! আমি লেখার কিছুটা পড়ে বললাম, দেখেছ আমাদের বড়ো মেয়ে একা নয়, এমন অনেকে আছে। এককথায় -সুখপাঠ্য।

  • একটি ভয়ংকর ফোবিয়ার মতো ‘ ঘর হারাবো বলেই এবার ঘর ছেড়েছি’গোছের ভাব নিয়ে ক‍্যাংলাসেরা কি শেষপর্যন্ত ঘর ছাড়তে পারে?এই প্রশ্নটি থেকেই যায়।বারবার চেষ্টা করেও কিন্তু সেই ‘এ কি মায়া,লুকাও কায়া’ এই লুকোচুরি খেলা চললেও গৃহবাসী ঠিকই দুয়ার খুলে দেবে।
    দারুণ ❤❤

লেখাটির উপর আপনার অভিমত জানান।

Your email address will not be published. Required fields are marked *