আমেরিকান কবি তারা বেটস্-এর কবিতাঃ অনুবাদে শ্রাবণী গুপ্ত
আমেরিকান কবি তারা বেটস্-এর কবিতাঃ অনুবাদে শ্রাবণী গুপ্ত
তারা বেটস (Tra Betts)। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের একজন সুপরিচিত কবি। ‘Break of Habit’ এবং ’Arc & Hue’ গ্রন্থের রচয়িতা এই কবি কবিতা লেখার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের কবিদের মেন্টর হিসেবেও কাজ করে চলেছেন। অধ্যাপনা করেছেন ওই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে তিনি The Langston Hughes Review-এর অন্যতম সম্পাদক।
অনূদিত কবিতাগুলি ওঁর ‘Refuse to Disappear’ কাব্যগ্রন্থ থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি বিভিন্ন আঙ্গিকে লেখা। কখনও লিখেছেন স্মৃতিচারণায় আবার কখনও বঞ্চিত নিপীড়িত বর্ণ বিদ্বেষের শিকার হওয়া নারীদের কন্ঠস্বর হয়ে বেজে উঠেছে বেশ কিছু কবিতা। লিখেছেন ছোট ছোট কবিতাও। এই কাব্যগ্রন্থটি বেশ সমাদৃত হয়েছে পাঠকমহলে এবং বিদগ্ধ কলমেও উঠে এসেছে এই কাব্যগ্রন্থের বিশেষ আলোচনা।
শ্রাবণী গুপ্ত। পেশায় শিক্ষিকা। ভালোবাসেন কবিতা পড়তে এবং দেশ বিদেশে ভ্রমণ করতে। এ যাবৎ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা পাঁচটি। প্রকাশিতব্য কাব্যগ্রন্থের নাম ‘ যুদ্ধশেষের মন্দ-প্রণয়’, প্রকাশনা: ভাষালিপি। এই সময়ের উল্লেখযোগ্য পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে ওঁর কবিতা। অনুবাদ করেছেন মেক্সিকো, অষ্ট্রেলিয়া, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশের উল্লেখযোগ্য বেশ কয়েকজন কবির কবিতা। সম্পাদনার কাজে যুক্ত রয়েছেন ‘সমাকৃতি’ পত্রিকার সঙ্গে। এছাড়া লিখছেন ছোটদের জন্য কবিতা, ছড়া ইত্যাদি।
#১
বীজের মূল্য (মূল কবিতাঃ The Simple Price of Seeds)
বীজ বুঝি সেই মুদ্রা, যেটি টাকার মতোই
অব্যয়িত মানেই যেন কিচ্ছুটি নয়
কিন্তু যখন মাটির দেহে ছড়িয়ে গেল
ছড়িয়ে গেল মাঠের উপর তুষের দেহ
বিনিময়ের জন্য এল সেসব কিছু
যেসব জিনিস ভীষণ প্রিয় ভীষণ দামী
অথচ নেই মিথ্যে দাবি কঠিন পথের
বীজের বাজার বিনোদনের জন্য তো নয়
ছোট্ট ছোট আবেগ তাতে লুকিয়ে থাকে
এবং আনে সম্ভাবনার নতুন আলো
সেটাই জীবন সেটাই জেনো আদর, মলম।
#২
বুলেটটি ভুল ভেবেই ছিল ( মূল কবিতাঃ The Body Is Not the Bullet That Claims It)
বাঁশির মতন শোনাল সেই আর্তনাদও
হঠাৎ যেন উঠল বেজে খুব চেনা সুর
পুরাণ-বাঁশি বাজল কোথাও মিষ্টি মধুর
কিন্তু খবর রাখল সে-সব অন্তরালে
লিখল—কোনো ব্যতিক্রমী সুরধ্বনি নয়,
নিছক কেবল শব্দ ছিল বলাই চলে
কারণ কোথাও গান ছিল না, হাসিও না
হাততালিও বাজছিল না কোথাও কোনো
অথচ সেই ছিন্ন দীর্ণ মুখের থেকেই
ছড়িয়ে ছিল আর্তনাদের তীক্ষ্ণ সে সুর
বুলেট তবু আত্মদীপে জ্বলতে থাকে
বলতে থাকে—সুর বা বাঁশি কিচ্ছুটি নয়
প্রসবকালীন মায়ের তীব্র স্বরের মতোই
গভীর রাতে ছড়িয়েছিল সে স্বরটিও।
৩.
প্রার্থনা ঘর (মূল কবিতাঃ Prayer Box)
প্রশিক্ষিকার ইশারা সেইক্ষণেই মৃদু
যখন ভারী চোখের জলে কাঁপল আসন
ভাবলে তুমি সবাই বুঝি শুনতে পেল
অশ্রুপতন নীরবতায় ছড়িয়ে গেল
উঠলে তুমি যোগ-আসনের মুদ্রা নিয়েই
স্পর্শে কেঁপে উঠল তোমার বিপন্ন মন
ভাবলে আসন স্পঞ্জে যেন তৈরিই নয়
বেরিয়ে এলে সে-ঘর থেকে, অল্পসময়
চলছিল ক্লাস, চলতে থাকে, চলতে থাকে
বাইরে এসে চুপ করে বেশ বসেই ছিলে
ঘুরছিল স্রোত দুঃখিত ও যন্ত্রণাময়
কান্না-পশম আঁকড়ে ছিল নিবিড় সুখে
ভাঙছিল জল দু’ভাগ হয়ে তোমার মুখে
হঠাৎ এসে বসল পাশে বন্ধু যে সে
বলল—কেবল যোগাসনেই মুক্তি আসে
রুমালে মুখ রেখেই তুমি দীর্ঘশ্বাসে
বললে—তাতে কী যায় আসে কী যায় আসে
খানিক পরেই কাঁধের উপর স্পর্শ পেলে
শিক্ষিকা নন তিনিই বুঝি ক্ষুদ্র পরী
আলোর আভা উঠল জ্বলে বাহুর ‘পরে
বললে এটা কী আসলে, কী আসলে
ক্ষুদ্র পরী বলল—এটা প্রার্থনা ঘর
শুনেই তুমি চাইলে সুতো জড়িয়ে নিতে
এবং আরও চাইলে মৃত মায়ের হাতে
একটি সুতোও ভালোবাসায় জড়িয়ে দিতে।