আটের দশকের প্রায় শেষে অনুপমের জন্ম, কবিতা চর্চা শুরু শূন্য পরবর্তীর গোড়ার দিকে। শিক্ষকতার সাথে যুক্ত, পুরুলিয়ার অধিবাসী অনুপম নিয়োগী। লিখেছেন বাংলার উল্লেখযোগ্য ছোটো-বড়ো একাধিক কাগজে। পুরুলিয়ার নিতুড়িয়া খনি অঞ্চল থেকে ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রকাশিত ‘বায়স’ পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত। যুক্ত রয়েছেন ‘নাটমন্দির’ পত্রিকার সম্পাদনার সাথেও। অনুপমের একমাত্র প্রকাশিত কাব্যগ্ৰন্হ – ‘বিষাদ লগ্নের তারা’।
মন্দিরতলা
#১
বেদনা মধুর হলে সবুজ ঘাসের পথ দিয়ে ঢুকে পড়ি এক পুরোনো বাড়ির ভিতর। বিকেলের মরে যাওয়া আলো গায়ে এসে লাগে ছেড়ে যাওয়া মায়াবী সংসারের দেওয়ালে দেওয়ালে। শীতলপাটি বিছিয়ে এখানে সারা দুপুর শুয়ে থাকে যেন অনন্তকালের কোন অতিথি। তারপর ক্ষয়াটে, মলিন, আটপৌরে এক মফস্বলে জন্ম হয় বাংলা কবিতার।
#২
না লেখা কবিতার কাছে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ঘুমিয়ে পড়লাম এই মফস্বলের বাড়িটিতে। কেউ যেন টেনে এনেছে আমায় এক অপরিচিত আলোর কাছে। যার থেকে বহুদূরে তোমাদের কবিতা উৎসব, যার থেকে আজও বহু শতাব্দী পিছনে হাঁটছে আমার ঘর্মাক্ত শরীর। ফেরিওয়ালার ক্লান্ত মুখের মতো যেখানে ভেসে উঠছে আবছা এক মফস্বল।আমি দেখতে পাচ্ছি আমার সামনে থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে এক একটা সিঁড়ি আর উৎসব মঞ্চ থেকে আমি নিঃশব্দে ঝাঁপ দিচ্ছি একাকী এক ঘুমের ভিতর।
#৩
মাঝেমাঝে শিবির বদল করে আসে হাওয়া। ঝুঁকে দেখে আমারই মুখ কবিতার ক্লাস শেষে। এদিকে কথার মারপ্যাঁচ ভুলে জীবনের সহজ আখ্যান হেমন্তের মেঘের মত ভেসে চলে যায়। ক্লান্তিহীন ক্ষয় থেকে প্রতিদিন তুলে রাখি প্রতিরোধের সমস্ত অস্ত্র। তারপর ঘুরে দাঁড়াব বলে সরু এক রাস্তা মনকে সঙ্গী করে একদিন গঙ্গার দিকে নিখোঁজ হয়ে যায়।